১
সূরা আলে ইমরান
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৭৮
আয়াত : ১৪৪ মুহাম্মাদ ﷺ এর মৃত্যুর পরও তার আনীত দ্বীন
আঁকড়ে ধরা আবশ্যক
وَمَا مُحَمَّدٌ اِلَّا رَسُوْلٌۚ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُؕ اَفَاِنْ مَّاتَ اَوْ قُتِلَ انْقَلَبْتُمْ عَلٰۤى اَعْقَابِكُمْؕ وَمَنْ يَّنْقَلِبْ عَلٰى عَقِبَيْهِ فَلَنْ يَّضُرَّ اللهَ شَيْئًاؕ وَّسَيَجْزِي اللهُ الشَّاكِرِيْنَ (১৪৪)
শাব্দিক অনুবাদ
১৪৪. وَمَا আর নয় مُحَمَّدٌ মুহাম্মাদ اِلَّا ব্যতীত رَسُوْلٌ একজন রাসূল, قَدْ خَلَتْ গত হয়েছে مِنْ قَبْلِه তার পূর্বেও اَلرُّسُلُ রাসূলগণ। اَفَاِنْ সুতরাং যদি مَاتَ সে মারা যায় اَوْ অথবা قُتِلَ নিহত হয়, اِنْقَلَبْتُمْ তবে কি তোমরা ফিরে যাবে عَلٰۤى اَعْقَابِكُمْ তোমাদের পেছনে ? وَمَنْ আর যে ব্যক্তি يَنْقَلِبْ ফিরে যাবে عَلٰى عَقِبَيْهِ তার পেছনে, فَلَنْ يَّضُرَّ তবে সে অনিষ্ট করতে পারবে না اَللهَ আল্লাহর شَيْئًا কিছুতেই; وَسَيَجْزِيْ আর অতিশীঘ্রই পুরস্কার প্রদান করবেন اَللهُ আল্লাহ اَلشَّاكِرِيْنَ কৃতজ্ঞদেরকে।
সরল অনুবাদ
১৪৪. (জেনে রাখ) মুহাম্মাদ একজন রাসূল ব্যতীত কিছুই নয়, নিশ্চয় তার পূর্বেও রাসূলগণ বিগত হয়েছে। [অর্থাৎ তিনি হচ্ছেন সেই ধরনের একজন রাসূল, যাদেরকে ইতিপূর্বে প্রেরণ করা হয়েছিল এবং যাদের ব্যাপারে তোমরা পূর্ব হতেই অবগত আছো। সুতরাং পূর্ববর্তী রাসূলগণ যে দায়িত্ব নিয়ে এ পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন, এই রাসূলও সেই দায়িত্ব পালন করছেন। পূর্ববর্তী রাসূলগণ মানুষকে যে পথে দাওয়াত দিয়েছেন, এই রাসূলও মানুষকে সে পথেই দাওয়াত দিচ্ছেন। পূর্ববর্তী রাসূলগণ যেমনিভাবে মৃত্যুবরণ করেছিলেন, এই রাসূলও একদিন মৃত্যুবরণ করবেন।] সুতরাং যদি সে মারা যায় অথবা নিহত হয়, তবে কি তোমরা তোমাদের পেছনে (পূর্বাবস্থায়) ফিরে যাবে? আর যে ব্যক্তি পেছনে ফিরে যাবে, তবে সে কিছুতেই আল্লাহর অনিষ্ট করতে পারবে না; আর আল্লাহ অতিশীঘ্রই কৃতজ্ঞদেরকে পুরস্কার প্রদান করবেন। [এখানে ঐসব ব্যক্তিকে ধমক দেয়া হয়েছে, যারা যুদ্ধের ময়দানে কাফিরদের মাধ্যমে ছড়ানো রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নিহত হওয়া সম্পর্কিত মিথ্যা সংবাদের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে ইসলাম ধর্মকে ত্যাগ করে পুনরায় তাদের বাপ-দাদাদের ধর্মে ফিরে যাওয়ার মনোবাসনা করেছিল। আর এটিও ছিল উহুদ যুদ্ধে বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। ঘটনাটি ছিল এই যে, যুদ্ধ চলাকালীন হঠাৎ শত্রুবাহিনীর কেউ ঘোষণা দিল যে, মুহাম্মাদ নিহত হয়েছেন। এতে মুসলিমগণ ক্ষণিকের জন্য হলেও থমকে যান। ফলে সাথে সাথেই একদল মুসলিম নিহত হন এবং অনেকেই আহত হন। আর অপর একদল লোক অস্ত্র পরিত্যাগ করে যুদ্ধক্ষেত্র হতেই পলায়ন করতে শুরু করে। এদিকে মুনাফিকরা সাধারণ মুসলিমদেরকে প্ররোচনা দিতে থাকে যে, চলো! আমরা আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের কাছে যাই। সে আমাদের জন্য আবু সুফিয়ানের কাছ থেকে নিরাপত্তা এনে দেবে। আবার কেউ কেউ এমন কথাও বলে ফেলে, যদি মুহাম্মাদ (সাঃ) আল্লাহর রাসূলই হতেন, তাহলে নিহত হলেন কেমন করে? চলো! আমাদের বাপ-দাদার ধর্মের দিকে ফিরে যাই। অত্র আয়াতে এসব সমালোচনারই জবাব দেয়া হয়েছে এবং বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে যে, ইসলাম ধর্ম মুহাম্মাদ (সাঃ) এর জীবন-মরণের সাথে সম্পৃক্ত নয় অর্থাৎ এরূপ নয় যে, তিনি যতদিন জীবিত থাকবেন, ততদিন পর্যন্ত এই দ্বীন পালিত হবে এবং তিনি যখন মৃত্যুবরণ করবে, তখন এটি বিলীন হয়ে যাবে। বরং এটি একটি চিরস্থায়ী ধর্ম। এটি কিয়ামত পর্যন্ত এরূই থাকবে। এটি প্রচারের ক্ষেত্রে যদি কেউ বিশেষ কোন অবদান রেখে থাকে, তাহলে তাকে নিয়ে কোনরূপ বাড়াবাড়ির আশ্রয় গ্রহণ করাও বৈধ নয়। সুতরাং তোমরা যদি ইসলাম ও মুহাম্মাদ (সাঃ) সম্পর্কে অনুরূপ ধারণা পোষণ কর, যেরূপ ধারণা করে তোমরা এসব সমালোচনায় লিপ্ত হয়েছিল এবং ইসলামকে ত্যাগ করার মনোবাসনা করেছিল, তাহলে আল্লাহর দ্বীনে তোমাদের কোন প্রয়োজন নেই। পরকালে তোমরা এরূপ ঈমান নিয়ে কখনো সফলতা অর্জন করতে পারবে না। তবে তোমাদের মধ্যে যারা এসব অহেতুক সমালোচনায় কান না দিয়ে ইসলামকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে এবং মুহাম্মাদ (সাঃ) ও তার রিসালাতকে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবে গ্রহণ করবে, পরকালে তারাই উত্তমভাবে পুরস্কৃত হবে।]
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. মুহাম্মাদ ﷺ ছিলেন পূর্ববর্তী রাসূলগণের মতোই একজন রাসূল।
২. মুহাম্মাদ ﷺ প্রকৃতপক্ষেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন।
৩. কারো মৃত্যুতে শোক পালনে বাড়াবাড়ি করা যাবে না।
৪. মুহাম্মাদ ﷺ এর অনুপস্থিতেও তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শের অবাধ্য হওয়া যাবে না।
وَمَا مُحَمَّدٌ اِلَّا رَسُوْلٌۚ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُؕ اَفَاِنْ مَّاتَ اَوْ قُتِلَ انْقَلَبْتُمْ عَلٰۤى اَعْقَابِكُمْؕ وَمَنْ يَّنْقَلِبْ عَلٰى عَقِبَيْهِ فَلَنْ يَّضُرَّ اللهَ شَيْئًاؕ وَّسَيَجْزِي اللهُ الشَّاكِرِيْنَ (১৪৪)
শাব্দিক অনুবাদ
১৪৪. وَمَا আর নয় مُحَمَّدٌ মুহাম্মাদ اِلَّا ব্যতীত رَسُوْلٌ একজন রাসূল, قَدْ خَلَتْ গত হয়েছে مِنْ قَبْلِه তার পূর্বেও اَلرُّسُلُ রাসূলগণ। اَفَاِنْ সুতরাং যদি مَاتَ সে মারা যায় اَوْ অথবা قُتِلَ নিহত হয়, اِنْقَلَبْتُمْ তবে কি তোমরা ফিরে যাবে عَلٰۤى اَعْقَابِكُمْ তোমাদের পেছনে ? وَمَنْ আর যে ব্যক্তি يَنْقَلِبْ ফিরে যাবে عَلٰى عَقِبَيْهِ তার পেছনে, فَلَنْ يَّضُرَّ তবে সে অনিষ্ট করতে পারবে না اَللهَ আল্লাহর شَيْئًا কিছুতেই; وَسَيَجْزِيْ আর অতিশীঘ্রই পুরস্কার প্রদান করবেন اَللهُ আল্লাহ اَلشَّاكِرِيْنَ কৃতজ্ঞদেরকে।
সরল অনুবাদ
১৪৪. (জেনে রাখ) মুহাম্মাদ একজন রাসূল ব্যতীত কিছুই নয়, নিশ্চয় তার পূর্বেও রাসূলগণ বিগত হয়েছে। [অর্থাৎ তিনি হচ্ছেন সেই ধরনের একজন রাসূল, যাদেরকে ইতিপূর্বে প্রেরণ করা হয়েছিল এবং যাদের ব্যাপারে তোমরা পূর্ব হতেই অবগত আছো। সুতরাং পূর্ববর্তী রাসূলগণ যে দায়িত্ব নিয়ে এ পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন, এই রাসূলও সেই দায়িত্ব পালন করছেন। পূর্ববর্তী রাসূলগণ মানুষকে যে পথে দাওয়াত দিয়েছেন, এই রাসূলও মানুষকে সে পথেই দাওয়াত দিচ্ছেন। পূর্ববর্তী রাসূলগণ যেমনিভাবে মৃত্যুবরণ করেছিলেন, এই রাসূলও একদিন মৃত্যুবরণ করবেন।] সুতরাং যদি সে মারা যায় অথবা নিহত হয়, তবে কি তোমরা তোমাদের পেছনে (পূর্বাবস্থায়) ফিরে যাবে? আর যে ব্যক্তি পেছনে ফিরে যাবে, তবে সে কিছুতেই আল্লাহর অনিষ্ট করতে পারবে না; আর আল্লাহ অতিশীঘ্রই কৃতজ্ঞদেরকে পুরস্কার প্রদান করবেন। [এখানে ঐসব ব্যক্তিকে ধমক দেয়া হয়েছে, যারা যুদ্ধের ময়দানে কাফিরদের মাধ্যমে ছড়ানো রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নিহত হওয়া সম্পর্কিত মিথ্যা সংবাদের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে ইসলাম ধর্মকে ত্যাগ করে পুনরায় তাদের বাপ-দাদাদের ধর্মে ফিরে যাওয়ার মনোবাসনা করেছিল। আর এটিও ছিল উহুদ যুদ্ধে বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। ঘটনাটি ছিল এই যে, যুদ্ধ চলাকালীন হঠাৎ শত্রুবাহিনীর কেউ ঘোষণা দিল যে, মুহাম্মাদ নিহত হয়েছেন। এতে মুসলিমগণ ক্ষণিকের জন্য হলেও থমকে যান। ফলে সাথে সাথেই একদল মুসলিম নিহত হন এবং অনেকেই আহত হন। আর অপর একদল লোক অস্ত্র পরিত্যাগ করে যুদ্ধক্ষেত্র হতেই পলায়ন করতে শুরু করে। এদিকে মুনাফিকরা সাধারণ মুসলিমদেরকে প্ররোচনা দিতে থাকে যে, চলো! আমরা আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের কাছে যাই। সে আমাদের জন্য আবু সুফিয়ানের কাছ থেকে নিরাপত্তা এনে দেবে। আবার কেউ কেউ এমন কথাও বলে ফেলে, যদি মুহাম্মাদ (সাঃ) আল্লাহর রাসূলই হতেন, তাহলে নিহত হলেন কেমন করে? চলো! আমাদের বাপ-দাদার ধর্মের দিকে ফিরে যাই। অত্র আয়াতে এসব সমালোচনারই জবাব দেয়া হয়েছে এবং বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে যে, ইসলাম ধর্ম মুহাম্মাদ (সাঃ) এর জীবন-মরণের সাথে সম্পৃক্ত নয় অর্থাৎ এরূপ নয় যে, তিনি যতদিন জীবিত থাকবেন, ততদিন পর্যন্ত এই দ্বীন পালিত হবে এবং তিনি যখন মৃত্যুবরণ করবে, তখন এটি বিলীন হয়ে যাবে। বরং এটি একটি চিরস্থায়ী ধর্ম। এটি কিয়ামত পর্যন্ত এরূই থাকবে। এটি প্রচারের ক্ষেত্রে যদি কেউ বিশেষ কোন অবদান রেখে থাকে, তাহলে তাকে নিয়ে কোনরূপ বাড়াবাড়ির আশ্রয় গ্রহণ করাও বৈধ নয়। সুতরাং তোমরা যদি ইসলাম ও মুহাম্মাদ (সাঃ) সম্পর্কে অনুরূপ ধারণা পোষণ কর, যেরূপ ধারণা করে তোমরা এসব সমালোচনায় লিপ্ত হয়েছিল এবং ইসলামকে ত্যাগ করার মনোবাসনা করেছিল, তাহলে আল্লাহর দ্বীনে তোমাদের কোন প্রয়োজন নেই। পরকালে তোমরা এরূপ ঈমান নিয়ে কখনো সফলতা অর্জন করতে পারবে না। তবে তোমাদের মধ্যে যারা এসব অহেতুক সমালোচনায় কান না দিয়ে ইসলামকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে এবং মুহাম্মাদ (সাঃ) ও তার রিসালাতকে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবে গ্রহণ করবে, পরকালে তারাই উত্তমভাবে পুরস্কৃত হবে।]
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. মুহাম্মাদ ﷺ ছিলেন পূর্ববর্তী রাসূলগণের মতোই একজন রাসূল।
২. মুহাম্মাদ ﷺ প্রকৃতপক্ষেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন।
৩. কারো মৃত্যুতে শোক পালনে বাড়াবাড়ি করা যাবে না।
৪. মুহাম্মাদ ﷺ এর অনুপস্থিতেও তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শের অবাধ্য হওয়া যাবে না।