১
সূরা আলে ইমরান
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৮৯
আয়াত : ১৬১ – ১৬৩ আত্মসাৎ করার পরিণাম
وَمَا كَانَ لِنَبِيٍّ اَنْ يَّغُلَّؕ وَمَنْ يَّغْلُلْ يَأْتِ بِمَا غَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِۚ ثُمَّ تُوَفّۤى كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُوْنَ (১৬১) اَفَمَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَ اللهِ كَمَنْ ۢبَآءَ بِسَخَطٍ مِّنَ اللهِ وَمَأْوَاهُ جَهَنَّمُؕ وَبِئْسَ الْمَصِيْرُ (১৬২) هُمْ دَرَجَاتٌ عِنْدَ اللهِؕ وَاللهُ بَصِيْرٌ ۢبِمَا يَعْمَلُوْنَ (১৬৩)
শাব্দিক অনুবাদ
১৬১. وَمَا كَانَ আর উচিত নয় لِنَبِيٍّ কোন নবীর পক্ষে اَنْ যে يَغُلَّ সে আত্মসাৎ করবে। وَمَنْ তবে যে ব্যক্তি يَغْلُلْ আত্মসাৎ করবে, يَأْتِ তা নিয়ে আসবে بِمَا যা غَلَّ সে আত্মসাৎ করেছে يَوْمَ দিন اَلْقِيَامَةِ কিয়ামতের। ثُمَّ অতঃপর تُوَفّۤى পরিপূর্ণভাবে আদায় করে দেয়া হবে كُلُّ প্রত্যেক نَفْسٍ ব্যক্তিকেই مَا كَسَبَتْ যা সে অর্জন করেছে وَهُمْ لَا يُظْلَمُوْنَ এবং তাদের প্রতি অবিচার করা হবে না।
১৬২. اَفَمَنْ সে ব্যক্তি কি হতে পারে যে اِتَّبَعَ অনুসরণ করেছে رِضْوَانَ اللهِ আল্লাহর সন্তুষ্টির كَمَنْ ঐ ব্যক্তির মতো যে بَآءَ পতিত হয়েছে بِسَخَطٍ আক্রোশে مِنَ اللهِ আল্লাহর পক্ষ হতে? وَمَأْوَاهُ আর তার বাসস্থান হবে جَهَنَّمُ জাহান্নাম; وَبِئْسَ তা কতই না নিকৃষ্ট اَلْمَصِيْرُ গন্তব্যস্থল!
১৬৩. هُمْ তারা دَرَجَاتٌ ভিন্ন ভিন্ন পদমর্যাদার অধিকারী عِنْدَ اللهِ আল্লাহর নিকট; وَاللهُ আর আল্লাহ بَصِيْرٌ পরিপূর্ণ দৃষ্টিবান بِمَا সে বিষয়ে যা يَعْمَلُوْنَ তারা করছে।
সরল অনুবাদ
১৬১. আর আত্মসাৎ করা কোন নবীর পক্ষে শোভনীয় নয়। [উহুদ যুদ্ধে পেছনের অংশকে প্রতিরক্ষার জন্য রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যেসব তীরন্দাজকে পাহাড়ের গিরিপথে মোতায়েন করেছিলেন তারা যখন দেখলো যে, মুসলিম বাহিনীর অনেকেই পলায়নরত মুশরিকদের থেকে গনীমত সংগ্রহ করছে, তখন তাদের মধ্যে মাত্র কয়েকজন ব্যতীত সকলেই সেখান থেকে নেমে এসে অন্যদের সাথে গনীমতের মাল সংগ্রহ করতে ব্যস্ত হয়ে যায়। অথচ এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর জোরালো নির্দেশ ছিল যে, তারা যেন কিছুতেই সেখান থেকে নিচে না নামে। আর এই সুযোগে কাফিরদের বিচক্ষণ সেনানায়ক খালেদ বিন ওয়ালিদ সেদিক দিয়ে মুসলিমদের উপর আক্রমণ করে বসে। আর এতেই মুসলিমদের বিপর্যয় সূচনা হয়। অতঃপর যুদ্ধ শেষ হলে যেসব তীরন্দাজ সেখান থেকে নেমে গিয়েছিল, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাদেরকে ডেকে এর কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তখন তারা এমন কিছু অজুহাত পেশ করলো, যার ভিত্তি ছিল অত্যন্ত দুর্বল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, ‘‘আসলে কথা হচ্ছে, আমাদের উপর তোমাদের আস্থা ছিল না। তোমরা মনে করছিলে আমরা তোমাদের সাথে খেয়ানত করব এবং তোমাদের অংশ দেবো না’’। এ আয়াতে এ বিষয়টির দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলার এ বাণীর মর্মার্থ হচ্ছে এই যে, আল্লাহর নবী নিজেই যখন তোমাদের সেনাপতি ছিলেন এবং সমস্ত বিষয়ই ছিল তাঁর নিয়ন্ত্রণে, তখন তোমাদের মনে এ আশংকা কেমন করে দেখা দিল যে, তোমাদের সাথে খিয়ানত করা হবে এবং তোমাদেরকে গনীমতের অংশ দেয়া হবে না? অথবা এরূপ আশংকাবোধ কর যে, নবীর তত্ত্বাবধানে যেসব সম্পদ থাকবে, তা বিশ্বস্ততা, আমানতদারী ও ইনসাফের সাথে বণ্টন না করে অন্য কোনভাবে বণ্টন করা হবে? তাহলে তোমরা কিরূপ ঈমান আনয়ন করলে?] তবে যে ব্যক্তি (কোন কিছু) আত্মসাৎ করবে, সে যা আত্মসাৎ করেছে কিয়ামতের দিন তা নিয়ে উপস্থিত হবে। অতঃপর প্রত্যেক ব্যক্তিকেই তার অর্জিত (ভালো-মন্দের) পাওনা পরিপূর্ণভাবে আদায় করে দেয়া হবে; তাদের (কারো) প্রতি অবিচার করা হবে না।
১৬২. যে আল্লাহর সন্তুষ্টির (পথ) অনুসরণ করেছে সে কি তার মতো হতে পারে, যে আল্লাহর আক্রোশে পতিত হয়েছে? আর তার বাসস্থান হবে জাহান্নাম; তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্যস্থল!
১৬৩. আল্লাহর নিকট মানুষের ভিন্ন ভিন্ন পদমর্যাদা রয়েছে; আর তারা যা করে আল্লাহ তা দেখেন।
আয়াতের শিক্ষা
কোন কিছু আত্মসাৎ করা মহাপাপ।
কোন নবীই আত্মসাৎকারীদের অন্তর্ভুক্ত নন।
কিয়ামতের দিন আত্মসাৎকারী ব্যক্তি আত্মসাৎকৃত বস্তুসামগ্রী নিয়ে আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে।
আল্লাহর ক্রোধের পথ বর্জন করে চলতে হবে।
শাব্দিক অনুবাদ
১৬১. وَمَا كَانَ আর উচিত নয় لِنَبِيٍّ কোন নবীর পক্ষে اَنْ যে يَغُلَّ সে আত্মসাৎ করবে। وَمَنْ তবে যে ব্যক্তি يَغْلُلْ আত্মসাৎ করবে, يَأْتِ তা নিয়ে আসবে بِمَا যা غَلَّ সে আত্মসাৎ করেছে يَوْمَ দিন اَلْقِيَامَةِ কিয়ামতের। ثُمَّ অতঃপর تُوَفّۤى পরিপূর্ণভাবে আদায় করে দেয়া হবে كُلُّ প্রত্যেক نَفْسٍ ব্যক্তিকেই مَا كَسَبَتْ যা সে অর্জন করেছে وَهُمْ لَا يُظْلَمُوْنَ এবং তাদের প্রতি অবিচার করা হবে না।
১৬২. اَفَمَنْ সে ব্যক্তি কি হতে পারে যে اِتَّبَعَ অনুসরণ করেছে رِضْوَانَ اللهِ আল্লাহর সন্তুষ্টির كَمَنْ ঐ ব্যক্তির মতো যে بَآءَ পতিত হয়েছে بِسَخَطٍ আক্রোশে مِنَ اللهِ আল্লাহর পক্ষ হতে? وَمَأْوَاهُ আর তার বাসস্থান হবে جَهَنَّمُ জাহান্নাম; وَبِئْسَ তা কতই না নিকৃষ্ট اَلْمَصِيْرُ গন্তব্যস্থল!
১৬৩. هُمْ তারা دَرَجَاتٌ ভিন্ন ভিন্ন পদমর্যাদার অধিকারী عِنْدَ اللهِ আল্লাহর নিকট; وَاللهُ আর আল্লাহ بَصِيْرٌ পরিপূর্ণ দৃষ্টিবান بِمَا সে বিষয়ে যা يَعْمَلُوْنَ তারা করছে।
সরল অনুবাদ
১৬১. আর আত্মসাৎ করা কোন নবীর পক্ষে শোভনীয় নয়। [উহুদ যুদ্ধে পেছনের অংশকে প্রতিরক্ষার জন্য রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যেসব তীরন্দাজকে পাহাড়ের গিরিপথে মোতায়েন করেছিলেন তারা যখন দেখলো যে, মুসলিম বাহিনীর অনেকেই পলায়নরত মুশরিকদের থেকে গনীমত সংগ্রহ করছে, তখন তাদের মধ্যে মাত্র কয়েকজন ব্যতীত সকলেই সেখান থেকে নেমে এসে অন্যদের সাথে গনীমতের মাল সংগ্রহ করতে ব্যস্ত হয়ে যায়। অথচ এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর জোরালো নির্দেশ ছিল যে, তারা যেন কিছুতেই সেখান থেকে নিচে না নামে। আর এই সুযোগে কাফিরদের বিচক্ষণ সেনানায়ক খালেদ বিন ওয়ালিদ সেদিক দিয়ে মুসলিমদের উপর আক্রমণ করে বসে। আর এতেই মুসলিমদের বিপর্যয় সূচনা হয়। অতঃপর যুদ্ধ শেষ হলে যেসব তীরন্দাজ সেখান থেকে নেমে গিয়েছিল, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাদেরকে ডেকে এর কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তখন তারা এমন কিছু অজুহাত পেশ করলো, যার ভিত্তি ছিল অত্যন্ত দুর্বল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, ‘‘আসলে কথা হচ্ছে, আমাদের উপর তোমাদের আস্থা ছিল না। তোমরা মনে করছিলে আমরা তোমাদের সাথে খেয়ানত করব এবং তোমাদের অংশ দেবো না’’। এ আয়াতে এ বিষয়টির দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলার এ বাণীর মর্মার্থ হচ্ছে এই যে, আল্লাহর নবী নিজেই যখন তোমাদের সেনাপতি ছিলেন এবং সমস্ত বিষয়ই ছিল তাঁর নিয়ন্ত্রণে, তখন তোমাদের মনে এ আশংকা কেমন করে দেখা দিল যে, তোমাদের সাথে খিয়ানত করা হবে এবং তোমাদেরকে গনীমতের অংশ দেয়া হবে না? অথবা এরূপ আশংকাবোধ কর যে, নবীর তত্ত্বাবধানে যেসব সম্পদ থাকবে, তা বিশ্বস্ততা, আমানতদারী ও ইনসাফের সাথে বণ্টন না করে অন্য কোনভাবে বণ্টন করা হবে? তাহলে তোমরা কিরূপ ঈমান আনয়ন করলে?] তবে যে ব্যক্তি (কোন কিছু) আত্মসাৎ করবে, সে যা আত্মসাৎ করেছে কিয়ামতের দিন তা নিয়ে উপস্থিত হবে। অতঃপর প্রত্যেক ব্যক্তিকেই তার অর্জিত (ভালো-মন্দের) পাওনা পরিপূর্ণভাবে আদায় করে দেয়া হবে; তাদের (কারো) প্রতি অবিচার করা হবে না।
১৬২. যে আল্লাহর সন্তুষ্টির (পথ) অনুসরণ করেছে সে কি তার মতো হতে পারে, যে আল্লাহর আক্রোশে পতিত হয়েছে? আর তার বাসস্থান হবে জাহান্নাম; তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্যস্থল!
১৬৩. আল্লাহর নিকট মানুষের ভিন্ন ভিন্ন পদমর্যাদা রয়েছে; আর তারা যা করে আল্লাহ তা দেখেন।
আয়াতের শিক্ষা
কোন কিছু আত্মসাৎ করা মহাপাপ।
কোন নবীই আত্মসাৎকারীদের অন্তর্ভুক্ত নন।
কিয়ামতের দিন আত্মসাৎকারী ব্যক্তি আত্মসাৎকৃত বস্তুসামগ্রী নিয়ে আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে।
আল্লাহর ক্রোধের পথ বর্জন করে চলতে হবে।