১
সূরা আলে ইমরান
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬৮
আয়াত : ১১৯ – ১২০ মুসলিমদের প্রতি আহলে কিতাবদের আচরণ
هَاۤ اَنْتُمْ اُولَآءِ تُحِبُّوْنَهُمْ وَلَا يُحِبُّوْنَكُمْ وَتُؤْمِنُوْنَ بِالْكِتَابِ كُلِّه ۚ وَاِذَا لَقُوْكُمْ قَالُوْاۤ اٰمَنَّاۚ وَاِذَا خَلَوْا عَضُّوْا عَلَيْكُمُ الْاَنَامِلَ مِنَ الْغَيْظِؕ قُلْ مُوْتُوْا بِغَيْظِكُمْؕ اِنَّ اللهَ عَلِيْمٌ ۢبِذَاتِ الصُّدُوْرِ (১১৯) اِنْ تَمْسَسْكُمْ حَسَنَةٌ تَسُؤْهُمْؗ وَاِنْ تُصِبْكُمْ سَيِّئَةٌ يَّفْرَحُوْا بِهَاؕ وَاِنْ تَصْبِرُوْا وَتَتَّقُوْا لَا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئًاؕ اِنَّ اللهَ بِمَا يَعْمَلُوْنَ مُحِيْطٌ (১২০)
শাব্দিক অনুবাদ
১১৯. هَاۤاَنْتُمْ তোমরাই তো اُولَآءِ তারা تُحِبُّوْنَهُمْ তাদেরকে ভালোবাস; وَلَا يُحِبُّوْنَكُمْ কিন্তু তারা তোমাদেরকে ভালোবাসে না। وَتُؤْمِنُوْنَ অথচ তোমরা ঈমান রাখ بِالْكِتَابِ কিতাবের উপর كُلِّه সব। وَاِذَا আর যখন لَقُوْكُمْ তারা তোমাদের সাথে মিলিত হয় قَالُوْا তখন তারা বলে, اٰمَنَّا আমরা ঈমান এনেছি। وَاِذَا কিন্তু যখন خَلَوْا তারা পৃথক হয়ে যায় عَضُّوْا তখন দাঁত দিয়ে কামড়াতে থাকে عَلَيْكُمُ তোমাদের উপর اَلْاَنَامِلَ আঙ্গুলের অগ্রভাগ مِنَ الْغَيْظِ রাগের কারণে। قُلْ বলে দাও, بِغَيْظِكُمْ مُوْتُوْا তোমরা আক্রোশে ফেটে পড়ো। اِنَّ নিশ্চয় اَللهَ আল্লাহ عَلِيْمٌ ভালভাবে জানেন بِذَاتِ বিষয় সম্পর্কে اَلصُّدُوْرِ অন্তরসমূহের ।
১২০. اِنْ যদি تَمْسَسْكُمْ তোমাদেরকে স্পর্শ করে حَسَنَةٌ কোন কল্যাণ, تَسُؤْهُمْ তবে তা তাদেরকে কষ্ট দেয়; وَاِنْ আর যদি تُصِبْكُمْ তোমাদেরকে আঘাত করে سَيِّئَةٌ কোন অকল্যাণ, يَفْرَحُوْا তাহলে তারা উৎফুল্ল হয় بِهَا তাতে। وَاِنْ অতএব যদি تَصْبِرُوْا তোমরা ধৈর্যধারণ কর وَتَتَّقُوْا ও তাক্বওয়া অবলম্বন কর, لَا يَضُرُّكُمْ তাহলে তোমাদের ক্ষতি করতে পারবে না كَيْدُهُمْ তাদের চক্রান্ত شَيْئًا সামান্যও اِنَّ নিশ্চয় اَللهَ আল্লাহ بِمَا যা يَعْمَلُوْنَ তারা করে مُحِيْطٌ সবকিছু পরিবেষ্টনকারী।
সরল অনুবাদ
১১৯. লক্ষ্য করো- তোমরাই তো তারা, যারা তাদেরকে ভালোবাস; কিন্তু তারা তোমাদেরকে ভালোবাসে না। অথচ তোমরা সব (আসমানী) কিতাবের উপর ঈমান রাখ (বিশ্বাস স্থাপন কর)। (পক্ষান্তরে) তারা যখন তোমাদের সাথে মিলিত হয় তখন তারা বলে, আমরা ঈমান এনেছি। কিন্তু যখন তারা (তোমাদের থেকে) পৃথক হয়ে যায় তখন তোমাদের উপর রাগের কারণে তারা (নিজেদের) আঙ্গুলের অগ্রভাগ দাঁত দিয়ে কামড়াতে থাকে। (সুতরাং তুমি তাদেরকে) বলে দাও, তোমরা তোমাদের রাগের মধ্যেই মরো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের অন্তরসমূহের বিষয় সম্পর্কে ভালভাবে জানেন।
১২০. (তাদের অবস্থা হচ্ছে) যদি কোন কল্যাণ তোমাদেরকে স্পর্শ করে, তবে তা তাদেরকে কষ্ট দেয়; আর যদি তোমাদেরকে কোন অকল্যাণ আঘাত করে, তাহলে তারা তাতে উৎফুল্ল (আনন্দিত) হয়। [এগুলো হচ্ছে ঐসব ইহুদীদের মনের প্রকৃত অবস্থা, যারা সাধারণভাবে অন্তরে মুনাফিকী লুকিয়ে রেখে নিজেদেরকে মুসলিম হিসেবেই পরিচয় প্রদান করত। মুসলিমগণ যাতে ভবিষ্যতে তাদের ব্যাপারে কোন ধরনের ধোঁকায় পতিত না হয়, সেজন্য আল্লাহ তা‘আলা এই আয়াতদ্বয়ের অবতারণা করেন।] অতএব যদি তোমরা ধৈর্যধারণ কর ও তাক্বওয়া অবলম্বন কর, তাহলে তাদের চক্রান্ত তোমাদের সামান্যও ক্ষতি করতে পারবে না। [এখানে আল্লাহ তা‘আলা এমন দুটি বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন, যার মাধ্যমে সত্যের বিপরীতে যত প্রকার চক্রান্ত ও শত্রুতা রয়েছে, সবগুলো থেকে নিরাপত্তা লাভ করা যাবে। কেননা সত্যের পক্ষে যারাই এ দুটি কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করবে, তারাই আল্লাহর পক্ষ হতে সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। আর আল্লাহ তা‘আলা যাকে সাহায্য করেন, তাকে কেউই পরাজিত করতে পারে না।অপরদিকে এই আয়াতাংশটি ঐসব লোকের অন্তরের চিকিৎসাস্বরূপ, যারা ঈমানী দুর্বলতার রোগে আক্রান্ত। যারা মনে করে যে, কাফিরদের সফলতার মূল কারণ হলো, তাদের আর্থিক প্রাচুর্যতা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি। পক্ষান্তরে মুসলিমদের অধঃপতনের মূল কারণ হলো তাদের আর্থিক অসচ্ছলতা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অবনতি। অথচ মুসলিমদের অবনতির মূল কারণ হলো, আল্লাহ তা‘আলার উপরোক্ত নির্দেশনা থেকে বিচ্যুত হয়ে যাওয়া তথা আল্লাহভীতি কমে যাওয়া এবং তাদের দ্বীনের উপর ধৈর্যের সাথে প্রতিষ্ঠিত না থাকা।] তারা যা করে নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু বেষ্টন করে আছেন। [এ বাক্যটি আয়াতের পূর্ববর্তী বাক্যকে সমর্থন করে। সুতরাং বলা যায় যে, যেহেতু তিনিই তাদেরকে পরিবেষ্টন করে আছেন এবং তাদের কোন কিছুই তার আয়ত্তের বাহিরে নয়, আবার তিনি তোমাদেরকে তাদের চক্রান্ত থেকে নিরাপত্তা লাভ করার জন্য এরূপ নির্দেশনা প্রদান করছেন, সুতরাং তোমরা তাঁর উপর আস্থা রেখে তাঁর এই নির্দেশনাটি শক্তভাবে ধারণ করো এবং কিছুতেই এর থেকে বিচ্যুত হয়ো না।]
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. মুখে ঈমান আনয়ন করে অন্তরে কুফরী লুকিয়ে রাখা যাবে না; এটি মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য।
২. অনেক সময় কাফিররা কেবল মুখে মুখে ঈমান আনয়ন করে মুসলিমদের ক্ষতি সাধন করার উদ্দেশ্যে ইসলামে প্রবেশ করে থাকে।
৩. মুসলিমদের সাফল্য দেখে কাফিররা খুবই রাগান্বিত হয়ে থাকে- যদিও অনেক সময় তারা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সন্তুষ্টির ভাব দেখায়।
৪. ধৈর্য ধারণ করলে এবং তাক্বওয়া অবলম্বন করলে কাফিরদের কোন চক্রান্তই মুসলমানদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।
৫. কাফিরদের সকল কর্মই আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ।
শাব্দিক অনুবাদ
১১৯. هَاۤاَنْتُمْ তোমরাই তো اُولَآءِ তারা تُحِبُّوْنَهُمْ তাদেরকে ভালোবাস; وَلَا يُحِبُّوْنَكُمْ কিন্তু তারা তোমাদেরকে ভালোবাসে না। وَتُؤْمِنُوْنَ অথচ তোমরা ঈমান রাখ بِالْكِتَابِ কিতাবের উপর كُلِّه সব। وَاِذَا আর যখন لَقُوْكُمْ তারা তোমাদের সাথে মিলিত হয় قَالُوْا তখন তারা বলে, اٰمَنَّا আমরা ঈমান এনেছি। وَاِذَا কিন্তু যখন خَلَوْا তারা পৃথক হয়ে যায় عَضُّوْا তখন দাঁত দিয়ে কামড়াতে থাকে عَلَيْكُمُ তোমাদের উপর اَلْاَنَامِلَ আঙ্গুলের অগ্রভাগ مِنَ الْغَيْظِ রাগের কারণে। قُلْ বলে দাও, بِغَيْظِكُمْ مُوْتُوْا তোমরা আক্রোশে ফেটে পড়ো। اِنَّ নিশ্চয় اَللهَ আল্লাহ عَلِيْمٌ ভালভাবে জানেন بِذَاتِ বিষয় সম্পর্কে اَلصُّدُوْرِ অন্তরসমূহের ।
১২০. اِنْ যদি تَمْسَسْكُمْ তোমাদেরকে স্পর্শ করে حَسَنَةٌ কোন কল্যাণ, تَسُؤْهُمْ তবে তা তাদেরকে কষ্ট দেয়; وَاِنْ আর যদি تُصِبْكُمْ তোমাদেরকে আঘাত করে سَيِّئَةٌ কোন অকল্যাণ, يَفْرَحُوْا তাহলে তারা উৎফুল্ল হয় بِهَا তাতে। وَاِنْ অতএব যদি تَصْبِرُوْا তোমরা ধৈর্যধারণ কর وَتَتَّقُوْا ও তাক্বওয়া অবলম্বন কর, لَا يَضُرُّكُمْ তাহলে তোমাদের ক্ষতি করতে পারবে না كَيْدُهُمْ তাদের চক্রান্ত شَيْئًا সামান্যও اِنَّ নিশ্চয় اَللهَ আল্লাহ بِمَا যা يَعْمَلُوْنَ তারা করে مُحِيْطٌ সবকিছু পরিবেষ্টনকারী।
সরল অনুবাদ
১১৯. লক্ষ্য করো- তোমরাই তো তারা, যারা তাদেরকে ভালোবাস; কিন্তু তারা তোমাদেরকে ভালোবাসে না। অথচ তোমরা সব (আসমানী) কিতাবের উপর ঈমান রাখ (বিশ্বাস স্থাপন কর)। (পক্ষান্তরে) তারা যখন তোমাদের সাথে মিলিত হয় তখন তারা বলে, আমরা ঈমান এনেছি। কিন্তু যখন তারা (তোমাদের থেকে) পৃথক হয়ে যায় তখন তোমাদের উপর রাগের কারণে তারা (নিজেদের) আঙ্গুলের অগ্রভাগ দাঁত দিয়ে কামড়াতে থাকে। (সুতরাং তুমি তাদেরকে) বলে দাও, তোমরা তোমাদের রাগের মধ্যেই মরো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের অন্তরসমূহের বিষয় সম্পর্কে ভালভাবে জানেন।
১২০. (তাদের অবস্থা হচ্ছে) যদি কোন কল্যাণ তোমাদেরকে স্পর্শ করে, তবে তা তাদেরকে কষ্ট দেয়; আর যদি তোমাদেরকে কোন অকল্যাণ আঘাত করে, তাহলে তারা তাতে উৎফুল্ল (আনন্দিত) হয়। [এগুলো হচ্ছে ঐসব ইহুদীদের মনের প্রকৃত অবস্থা, যারা সাধারণভাবে অন্তরে মুনাফিকী লুকিয়ে রেখে নিজেদেরকে মুসলিম হিসেবেই পরিচয় প্রদান করত। মুসলিমগণ যাতে ভবিষ্যতে তাদের ব্যাপারে কোন ধরনের ধোঁকায় পতিত না হয়, সেজন্য আল্লাহ তা‘আলা এই আয়াতদ্বয়ের অবতারণা করেন।] অতএব যদি তোমরা ধৈর্যধারণ কর ও তাক্বওয়া অবলম্বন কর, তাহলে তাদের চক্রান্ত তোমাদের সামান্যও ক্ষতি করতে পারবে না। [এখানে আল্লাহ তা‘আলা এমন দুটি বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন, যার মাধ্যমে সত্যের বিপরীতে যত প্রকার চক্রান্ত ও শত্রুতা রয়েছে, সবগুলো থেকে নিরাপত্তা লাভ করা যাবে। কেননা সত্যের পক্ষে যারাই এ দুটি কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করবে, তারাই আল্লাহর পক্ষ হতে সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। আর আল্লাহ তা‘আলা যাকে সাহায্য করেন, তাকে কেউই পরাজিত করতে পারে না।অপরদিকে এই আয়াতাংশটি ঐসব লোকের অন্তরের চিকিৎসাস্বরূপ, যারা ঈমানী দুর্বলতার রোগে আক্রান্ত। যারা মনে করে যে, কাফিরদের সফলতার মূল কারণ হলো, তাদের আর্থিক প্রাচুর্যতা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি। পক্ষান্তরে মুসলিমদের অধঃপতনের মূল কারণ হলো তাদের আর্থিক অসচ্ছলতা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অবনতি। অথচ মুসলিমদের অবনতির মূল কারণ হলো, আল্লাহ তা‘আলার উপরোক্ত নির্দেশনা থেকে বিচ্যুত হয়ে যাওয়া তথা আল্লাহভীতি কমে যাওয়া এবং তাদের দ্বীনের উপর ধৈর্যের সাথে প্রতিষ্ঠিত না থাকা।] তারা যা করে নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু বেষ্টন করে আছেন। [এ বাক্যটি আয়াতের পূর্ববর্তী বাক্যকে সমর্থন করে। সুতরাং বলা যায় যে, যেহেতু তিনিই তাদেরকে পরিবেষ্টন করে আছেন এবং তাদের কোন কিছুই তার আয়ত্তের বাহিরে নয়, আবার তিনি তোমাদেরকে তাদের চক্রান্ত থেকে নিরাপত্তা লাভ করার জন্য এরূপ নির্দেশনা প্রদান করছেন, সুতরাং তোমরা তাঁর উপর আস্থা রেখে তাঁর এই নির্দেশনাটি শক্তভাবে ধারণ করো এবং কিছুতেই এর থেকে বিচ্যুত হয়ো না।]
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. মুখে ঈমান আনয়ন করে অন্তরে কুফরী লুকিয়ে রাখা যাবে না; এটি মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য।
২. অনেক সময় কাফিররা কেবল মুখে মুখে ঈমান আনয়ন করে মুসলিমদের ক্ষতি সাধন করার উদ্দেশ্যে ইসলামে প্রবেশ করে থাকে।
৩. মুসলিমদের সাফল্য দেখে কাফিররা খুবই রাগান্বিত হয়ে থাকে- যদিও অনেক সময় তারা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সন্তুষ্টির ভাব দেখায়।
৪. ধৈর্য ধারণ করলে এবং তাক্বওয়া অবলম্বন করলে কাফিরদের কোন চক্রান্তই মুসলমানদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।
৫. কাফিরদের সকল কর্মই আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ।