১
সূরা আলে ইমরান
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১০০
আয়াত : ১৮৩ – ১৮৪ কাফিরদের ছলনামূলক আবেদনের জবাব
اَلَّذِيْنَ قَالُوْاۤ اِنَّ اللهَ عَهِدَ اِلَيْنَاۤ اَلَّا نُؤْمِنَ لِرَسُوْلٍ حَتّٰى يَأْتِيَنَا بِقُرْبَانٍ تَأْكُلُهُ النَّارُؕ قُلْ قَدْ جَآءَكُمْ رُسُلٌ مِّنْ قَبْلِيْ بِالْبَيِّنَاتِ وَبِالَّذِيْ قُلْتُمْ فَلِمَ قَتَلْتُمُوْهُمْ اِنْ كُنْتُمْ صَادِقِيْنَ (১৮৩) فَاِنْ كَذَّبُوْكَ فَقَدْ كُذِّبَ رُسُلٌ مِّنْ قَبْلِكَ جَآءُوْا بِالْبَيِّنَاتِ وَالزُّبُرِ وَالْكِتَابِ الْمُنِيْرِ (১৮৪)
শাব্দিক অনুবাদ
১৮৩. اَلَّذِيْنَ যারা قَالُوْا বলে, اِنَّ اللهَ নিশ্চয় আল্লাহ عَهِدَ অঙ্গীকার প্রদান করেছেন اِلَيْنَا আমাদেরকে اَلَّا যেন না করি نُؤْمِنَ বিশ্বাস স্থাপন لِرَسُوْلٍ কোন রাসূলের প্রতি حَتّٰى যতক্ষণ না يَأْتِيَنَا আমাদের নিকট আসে بِقُرْبَانٍ এমন কুরবানী تَأْكُلُهُ যা গ্রাস করে নেয় اَلنَّارُ অগ্নি। قُلْ বলে দাও, قَدْ নিশ্চয় جَآءَكُمْ তোমাদের নিকট এসেছিল رُسُلٌ অনেক রাসূল مِنْ قَبْلِيْ আমার পূর্বে بِالْبَيِّنَاتِ স্পষ্ট প্রমাণ সহকারে وَبِالَّذِيْ এবং তা সহকারে যা قُلْتُمْ তোমরা বলছো। فَلِمَ এরপরও কেন قَتَلْتُمُوْهُمْ তোমরা তাদেরকে হত্যা করেছিলে اِنْ যদি كُنْتُمْ তোমরা হও صَادِقِيْنَ সত্যবাদী?
১৮৪. فَاِنْ অতঃপর যদি كَذَّبُوْكَ তারা তোমাকে মিথ্যারোপ করে, فَقَدْ তবে নিশ্চয় كُذِّبَ মিথ্যারোপ করা হয়েছিল رُسُلٌ রাসূলগণকে مِنْ قَبْلِكَ তোমার পূর্বেও। جَآءُوْا তারা আগমন করেছিল بِالْبَيِّنَاتِ প্রকাশ্য নিদর্শনাবলি وَالزُّبُرِ ও যাবুরসমূহ (লিখিত নির্দেশাবলি) এবং وَالْكِتَابِ গ্রন্থসহ اَلْمُنِيْرِ উজ্জ্বল।
সরল অনুবাদ
১৮৩. (এরা হচ্ছে ঐসব লোক) যারা বলে, নিশ্চয় আল্লাহ আমাদেরকে অঙ্গীকার প্রদান করেছেন যে, অগ্নি যা গ্রাস করে এমন কুরবানী আমাদের জন্য আনয়ন না করা পর্যন্ত আমরা যেন কোন নবীর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করি; (হে নবী! তাদেরকে) বলে দিন, নিশ্চয় আমার পূর্বে তোমাদের নিকট স্পষ্ট প্রমাণ সহকারে অনেক রাসূল এসেছিল এবং তোমরা (আজ) যা বলছো, তা সহকারেও এসেছিল। এরপরও কেন তোমরা তাদেরকে হত্যা করেছিলে- যদি তোমরা সত্যবাদী হও? [এখানে ইহুদীদের একটি দাবীকে খন্ডন করা হয়েছে। কেননা তারা দাবী করত যে, আমাদের থেকে অঙ্গীকার নেয়া হয়েছে যে, আমরা যেন কেবল সেসব রাসূলকেই বিশ্বাস করি, যার দু‘আর কারণে আসমান থেকে আগুন এসে কুরবানী ও সদকাকে জ্বালিয়ে দেয়। সুতরাং হে মুহাম্মাদ! আমরা যেহেতু এখনও আপনার মধ্যে এরূপ কোন নিদর্শন দেখতে পাইনি, সুতরাং আপনার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করার জন্য আমরা বাধ্য নই। ইহুদীদের এসব দাবী ও অজুহাত ছিল একেবারেই মিথ্যা এবং নিজেদের মনগড়া। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর বিরুধিতা করার জন্য তারা এসব অসার গল্প তৈরি করে নিয়েছিল। কেননা বর্তমানে তারা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নবুওয়াতের ব্যাপারে যে ধরনের দাবী উত্থাপন করছে, ইতিপূর্বে তাদের পূর্বপুরুষরা একই দাবী করেছিল। অতঃপর তাদের রাসূলগণ তাদের পূর্বপুরুষদেরকে সেসব নিদর্শন সরাসরি প্রত্যক্ষ করিয়েছেন। কিন্তু এরপরও তারা তাদের নবুওয়াতের উপর বিশ্বাস স্থাপন করল না; বরং তারা নবীদের বিরুধিতায় আরো কঠোর হয়ে গেলো এবং কোন কোন নবীকে তারা হত্যা করে ফেলল। মূলত এখানে তাদের অন্তরে লুকায়িত চরম হঠকারিতা কাজ করেছিল- যেরকমটি এখনও তাদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। সুতরাং এখনও যদি তাদেরকে এসব নিদর্শন প্রদর্শন করানো হয়, তাহলে তারা আবারও অস্বীকার করে বসবে এবং তাদের উপর আল্লাহর সেসব আযাব অবধারিত হয়ে যাবে, যেসব আযাব অবতরণের মাধ্যমে ইতিপূর্বে আল্লাহ তা‘আলা অনেক সম্প্রদায়কে ধ্বংস করে দিয়েছেন।]
১৮৪. অতঃপর যদি তারা তোমাকে মিথ্যারোপ করে, তবে তোমার পূর্বেও রাসূলগণকে মিথ্যারোপ করা হয়েছিল। তারা প্রকাশ্য নিদর্শনাবলি ও যাবুরসমূহ (লিখিত নির্দেশাবলি) এবং উজ্জ্বল গ্রন্থসহ আগমন করেছিল। [অর্থাৎ এত স্পষ্ট নিদর্শনাবলি প্রত্যক্ষ করেও যদি তারা ঈমান আনয়ন করতে অস্বীকার করে, তাহলে এতে আশ্চর্য হওয়ার অথবা অত্যধিক চিন্তা করার কিছু নেই। কেননা এটিই তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, যা তারা উত্তরাধিকার সূত্রে তাদের পূর্বপুরুষদের থেকে প্রাপ্ত হয়েছে। তারা তোমার সাথে যেরূপ আচরণ করেছে, ইতিপূর্বে তারা তাদের নিকট অবতীর্ণ নবী-রাসূলদের সাথেও অনুরূপ আচরণ করত; বরং এর থেকেও জঘন্য ব্যবহার করত। অথচ তাদের কাছে তাওরাত, যাবুরসহ সকল কুরআন ব্যতীত অন্যান্য আসমানী কিতাবসমূহ উপস্থিত ছিল এবং সেখানে তাদের এসব কর্মের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞারোপও বর্ণিত ছিল। বর্তমানে তারা তোমার কাছে যেসব নিদর্শন প্রত্যক্ষ করার দাবী করছে, ইতিপূর্বে তারা এগুলো প্রত্যেকটিই দাবী করেছিল এবং তাদেরকে সেগুলো দেখানোও হয়েছিল; বরং আরো এমন কিছু নিদর্শন দেখানো হয়েছিল, যা দেখার জন্য তাদের জ্ঞান কল্পনাও করেনি। এতদ্বসত্ত্বেও তারা সেগুলো অমান্য করে নানা ধরনের কুকর্ম করে বেড়াত। অত্র আয়াত দ্বারা আল্লাহ তা‘আলা নবী (সাঃ)-কে এক ধরনের সান্ত্বনা প্রদান করেছেন মাত্র।]
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
সরাসরি অগ্নি এসে কুরবানীকৃত বস্তু গ্রাস করে নেয়াটাই ছিল পূর্ব যুগের কুরবানী কবুল হওয়ার আলামত।
নবীদেরকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা ছিল নবী ইসরাঈলের অন্যতম চরিত্র।
কেউ সত্যের উপর মিথ্যারোপ করলে তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই; কেননা পূর্ববর্তী নবী ও সৎ লোকদের ক্ষেত্রে এরূপই ঘটেছিল।
শাব্দিক অনুবাদ
১৮৩. اَلَّذِيْنَ যারা قَالُوْا বলে, اِنَّ اللهَ নিশ্চয় আল্লাহ عَهِدَ অঙ্গীকার প্রদান করেছেন اِلَيْنَا আমাদেরকে اَلَّا যেন না করি نُؤْمِنَ বিশ্বাস স্থাপন لِرَسُوْلٍ কোন রাসূলের প্রতি حَتّٰى যতক্ষণ না يَأْتِيَنَا আমাদের নিকট আসে بِقُرْبَانٍ এমন কুরবানী تَأْكُلُهُ যা গ্রাস করে নেয় اَلنَّارُ অগ্নি। قُلْ বলে দাও, قَدْ নিশ্চয় جَآءَكُمْ তোমাদের নিকট এসেছিল رُسُلٌ অনেক রাসূল مِنْ قَبْلِيْ আমার পূর্বে بِالْبَيِّنَاتِ স্পষ্ট প্রমাণ সহকারে وَبِالَّذِيْ এবং তা সহকারে যা قُلْتُمْ তোমরা বলছো। فَلِمَ এরপরও কেন قَتَلْتُمُوْهُمْ তোমরা তাদেরকে হত্যা করেছিলে اِنْ যদি كُنْتُمْ তোমরা হও صَادِقِيْنَ সত্যবাদী?
১৮৪. فَاِنْ অতঃপর যদি كَذَّبُوْكَ তারা তোমাকে মিথ্যারোপ করে, فَقَدْ তবে নিশ্চয় كُذِّبَ মিথ্যারোপ করা হয়েছিল رُسُلٌ রাসূলগণকে مِنْ قَبْلِكَ তোমার পূর্বেও। جَآءُوْا তারা আগমন করেছিল بِالْبَيِّنَاتِ প্রকাশ্য নিদর্শনাবলি وَالزُّبُرِ ও যাবুরসমূহ (লিখিত নির্দেশাবলি) এবং وَالْكِتَابِ গ্রন্থসহ اَلْمُنِيْرِ উজ্জ্বল।
সরল অনুবাদ
১৮৩. (এরা হচ্ছে ঐসব লোক) যারা বলে, নিশ্চয় আল্লাহ আমাদেরকে অঙ্গীকার প্রদান করেছেন যে, অগ্নি যা গ্রাস করে এমন কুরবানী আমাদের জন্য আনয়ন না করা পর্যন্ত আমরা যেন কোন নবীর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করি; (হে নবী! তাদেরকে) বলে দিন, নিশ্চয় আমার পূর্বে তোমাদের নিকট স্পষ্ট প্রমাণ সহকারে অনেক রাসূল এসেছিল এবং তোমরা (আজ) যা বলছো, তা সহকারেও এসেছিল। এরপরও কেন তোমরা তাদেরকে হত্যা করেছিলে- যদি তোমরা সত্যবাদী হও? [এখানে ইহুদীদের একটি দাবীকে খন্ডন করা হয়েছে। কেননা তারা দাবী করত যে, আমাদের থেকে অঙ্গীকার নেয়া হয়েছে যে, আমরা যেন কেবল সেসব রাসূলকেই বিশ্বাস করি, যার দু‘আর কারণে আসমান থেকে আগুন এসে কুরবানী ও সদকাকে জ্বালিয়ে দেয়। সুতরাং হে মুহাম্মাদ! আমরা যেহেতু এখনও আপনার মধ্যে এরূপ কোন নিদর্শন দেখতে পাইনি, সুতরাং আপনার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করার জন্য আমরা বাধ্য নই। ইহুদীদের এসব দাবী ও অজুহাত ছিল একেবারেই মিথ্যা এবং নিজেদের মনগড়া। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর বিরুধিতা করার জন্য তারা এসব অসার গল্প তৈরি করে নিয়েছিল। কেননা বর্তমানে তারা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নবুওয়াতের ব্যাপারে যে ধরনের দাবী উত্থাপন করছে, ইতিপূর্বে তাদের পূর্বপুরুষরা একই দাবী করেছিল। অতঃপর তাদের রাসূলগণ তাদের পূর্বপুরুষদেরকে সেসব নিদর্শন সরাসরি প্রত্যক্ষ করিয়েছেন। কিন্তু এরপরও তারা তাদের নবুওয়াতের উপর বিশ্বাস স্থাপন করল না; বরং তারা নবীদের বিরুধিতায় আরো কঠোর হয়ে গেলো এবং কোন কোন নবীকে তারা হত্যা করে ফেলল। মূলত এখানে তাদের অন্তরে লুকায়িত চরম হঠকারিতা কাজ করেছিল- যেরকমটি এখনও তাদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। সুতরাং এখনও যদি তাদেরকে এসব নিদর্শন প্রদর্শন করানো হয়, তাহলে তারা আবারও অস্বীকার করে বসবে এবং তাদের উপর আল্লাহর সেসব আযাব অবধারিত হয়ে যাবে, যেসব আযাব অবতরণের মাধ্যমে ইতিপূর্বে আল্লাহ তা‘আলা অনেক সম্প্রদায়কে ধ্বংস করে দিয়েছেন।]
১৮৪. অতঃপর যদি তারা তোমাকে মিথ্যারোপ করে, তবে তোমার পূর্বেও রাসূলগণকে মিথ্যারোপ করা হয়েছিল। তারা প্রকাশ্য নিদর্শনাবলি ও যাবুরসমূহ (লিখিত নির্দেশাবলি) এবং উজ্জ্বল গ্রন্থসহ আগমন করেছিল। [অর্থাৎ এত স্পষ্ট নিদর্শনাবলি প্রত্যক্ষ করেও যদি তারা ঈমান আনয়ন করতে অস্বীকার করে, তাহলে এতে আশ্চর্য হওয়ার অথবা অত্যধিক চিন্তা করার কিছু নেই। কেননা এটিই তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, যা তারা উত্তরাধিকার সূত্রে তাদের পূর্বপুরুষদের থেকে প্রাপ্ত হয়েছে। তারা তোমার সাথে যেরূপ আচরণ করেছে, ইতিপূর্বে তারা তাদের নিকট অবতীর্ণ নবী-রাসূলদের সাথেও অনুরূপ আচরণ করত; বরং এর থেকেও জঘন্য ব্যবহার করত। অথচ তাদের কাছে তাওরাত, যাবুরসহ সকল কুরআন ব্যতীত অন্যান্য আসমানী কিতাবসমূহ উপস্থিত ছিল এবং সেখানে তাদের এসব কর্মের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞারোপও বর্ণিত ছিল। বর্তমানে তারা তোমার কাছে যেসব নিদর্শন প্রত্যক্ষ করার দাবী করছে, ইতিপূর্বে তারা এগুলো প্রত্যেকটিই দাবী করেছিল এবং তাদেরকে সেগুলো দেখানোও হয়েছিল; বরং আরো এমন কিছু নিদর্শন দেখানো হয়েছিল, যা দেখার জন্য তাদের জ্ঞান কল্পনাও করেনি। এতদ্বসত্ত্বেও তারা সেগুলো অমান্য করে নানা ধরনের কুকর্ম করে বেড়াত। অত্র আয়াত দ্বারা আল্লাহ তা‘আলা নবী (সাঃ)-কে এক ধরনের সান্ত্বনা প্রদান করেছেন মাত্র।]
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
সরাসরি অগ্নি এসে কুরবানীকৃত বস্তু গ্রাস করে নেয়াটাই ছিল পূর্ব যুগের কুরবানী কবুল হওয়ার আলামত।
নবীদেরকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা ছিল নবী ইসরাঈলের অন্যতম চরিত্র।
কেউ সত্যের উপর মিথ্যারোপ করলে তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই; কেননা পূর্ববর্তী নবী ও সৎ লোকদের ক্ষেত্রে এরূপই ঘটেছিল।