hadith book logo

সূরা আলে ইমরান

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৩

আয়াত : ৭২ – ৭৪ আহলে কিতাবের ষড়যন্ত্র ও তার জবাব

وَقَالَتْ طَّآئِفَةٌ مِّنْ اَهْلِ الْكِتَابِ اٰمِنُوْا بِالَّذِيْۤ اُنْزِلَ عَلَى الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَجْهَ النَّهَارِ وَاكْفُرُوْاۤ اٰخِرَه لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُوْنَ (৭২) وَلَا تُؤْمِنُوْاۤ اِلَّا لِمَنْ تَبِعَ دِيْنَكُمْ قُلْ اِنَّ الْهُدٰى هُدَى اللهِ اَنْ يُّؤْتٰۤى اَحَدٌ مِّثْلَ مَاۤ اُوْتِيْتُمْ اَوْ يُحَآجُّوْكُمْ عِنْدَ رَبِّكُمْؕ قُلْ اِنَّ الْفَضْلَ بِيَدِ اللهِۚ يُؤْتِيْهِ مَنْ يَّشَآءُؕ وَاللهُ وَاسِعٌ عَلِيْمٌ (৭৩)

শাব্দিক অনুবাদ

৭২. وَقَالَتْ আর বলল طَآئِفَةٌ একদল مِنْ اَهْلِ الْكِتَابِ আহলে কিতাবের, اٰمِنُوْا তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করো بِالَّذِيْۤ ঐ বিষয়ের উপর যা اُنْزِلَ অবতীর্ণ হয়েছে عَلَى الَّذِيْنَ তাদের উপর যারা اٰمَنُوْا বিশ্বাস করেছে وَجْهَ একটি ভাগে اَلنَّهَارِ দিনের وَاكْفُرُوْا এবং তোমরা অস্বীকার করো اٰخِرَه  তার অপর ভাগে। لَعَلَّهُمْ হয়তোবা তারা يَرْجِعُوْنَ ফিরে আসবে।

৭৩. وَلَا تُؤْمِنُوْا আর তোমরা বিশ্বাস করো না اِلَّا তবে لِمَنْ যে ব্যক্তি تَبِعَ অনুসরণ করে دِيْنَكُمْ তোমাদের মতাদর্শের। قُلْ (হে নবী!) বলো, اِنَّ নিশ্চয় اَلْهُدٰى প্রকৃত হেদায়াত হল هُدَى اللهِ আল্লাহর হেদায়াত। اَنْ يُّؤْتٰۤى যে দেয়া হবে اَحَدٌ কাউকে مِثْلَ অনুরূপ مَاۤ اُوْتِيْتُمْ তোমাদেরকে যা দেয়া হয়েছে اَوْ অথবা يُحَآجُّوْكُمْ তারা তোমাদের সাথে বিতর্ক করবে عِنْدَ সামনে رَبِّكُمْ তোমাদের প্রতিপালকের? قُلْ (হে নবী!) বলো, اِنَّ নিশ্চয় اَلْفَضْلَ মর্যাদা بِيَدِ হাতে اَللهِ আল্লাহরই; يُؤْتِيْهِ তিনি তা প্রদান করেন مَنْ يَّشَآءُ যাকে ইচ্ছা তাকে। وَاللهُ আর আল্লাহ وَاسِعٌ সর্বব্যাপী عَلِيْمٌ সর্বজ্ঞানী।

৭৪. يَخْتَصُّ তিনি মনোনীত করেন بِرَحْمَتِه  নিজ অনুগ্রহের জন্য مَنْ يَّشَآءُ যাকে ইচ্ছা করেন; وَاللهُ আর আল্লাহ ذُو الْفَضْلِ অনুগ্রহশীল اَلْعَظِيْمِ মহা।

সরল অনুবাদ

৭২. আহলে কিতাবের একদল (অপর দলকে) বলল, যারা বিশ্বাস করেছে তাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তোমরা দিনের প্রথম ভাগে তার উপর বিশ্বাস স্থাপন করো এবং দিনের শেষ ভাগে তা অস্বীকার করো। (এর ফলে) হয়তোবা তারা (ইসলাম থেকে) ফিরে আসবে। [এখানে ইসলাম বিদ্বেষীদের আরো একটি ভয়ংকর চক্রান্তের কথা ফাঁস করে দেয়া হয়েছে। আর তা হলো- যখন ইহুয়াদিরা দেখতে পেল যে, কোনক্রমেই রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কার্যক্রম থামানো যাচ্ছে না এবং তাঁর বিরুদ্ধে তাদের সকল পদক্ষেপই ব্যর্থ হচ্ছে, তখন তারা ফন্দি আঁটল যে, তারা কিছু লোককে ইসলাম গ্রহণ করার জন্য মুসলিমদের কাছে পাঠাবে, তারপর কিছু দিন পর মুরতাদ হয়ে যাবে। তারপর তারা এর কারণ হিসেবে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে দোষ-ত্রুটির কথা বর্ণনা করে বেড়াবে। যাতে করে ইসলাম সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও খারাপ ধারণা সৃষ্টি হয় এবং মুসলিমদের ঐক্য ভেঙ্গে যায়। সুতরাং এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য খুবই জরুরি।]

৭৩. (তারা আরো বলল) আর যে ব্যক্তি তোমাদের মতাদর্শের অনুসরণ করে তাকে ছাড়া তোমরা (অন্য কাউকে) বিশ্বাস করো না। (হে নবী!) বলো, আল্লাহর হেদায়াতই প্রকৃত হেদায়াত। (ষড়যন্ত্র করছ কি এজন্য যে) তোমাদেরকে যা দেয়া হয়েছে তা (অন্য) কাউকেও (কেন) দেয়া হবে [পৃথিবীতে যত নবী-রাসূলের আগমন ঘটেছিল, তার অধিকাংশই ছিল বনী ইসরাঈলের বংশধর। এতে বনী ইসরাঈলের লোকেরা খুবই গর্ববোধ করত। অবস্থা এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছিল যে, তারা ধারণা করে নিয়েছিল যে, নবী-রাসূল কেবল তাদের বংশ থেকেই আগমন করবে; অন্য কোন বংশ বা গোত্র থেকে নয়। আর এ কারণেই তারা যখন শেষ নবী আগমনের সমস্ত আলামত পর্যবেক্ষণ করল এবং মুহাম্মাদ (সাঃ)-কে পূর্বঘোষিত সেই নবী হিসেবে স্পষ্টভাবে চিনতে পারল, তখন তারা কেবল এই বাহানা ধরে তাঁকে অস্বীকার করে বসল এবং এ সম্পর্কিত তাদের কিতাবে বর্ণিত সমস্ত প্রমাণ গোপন করতে শুরু করল। কারণ তিনি ইসমাঈল (আঃ) এর বংশে জন্মেছিলেন।] অথবা তারা তোমাদের প্রতিপালকের সামনে তোমাদের সাথে বিতর্ক করবে? (হে নবী!) বলো, নিশ্চয় অনুগ্রহ আল্লাহরই হাতে; তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে তা প্রদান করেন। আর আল্লাহ সর্বব্যাপী ও সর্বজ্ঞানী।

৭৪. তিনি নিজ অনুগ্রহের জন্য (কিতাব অবতীর্ণ করে মর্যাদা দেয়ার জন্য) যাকে ইচ্ছা তাকে মনোনীত করেন; আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।

আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা

১. ঈমান আনার পর পুনরায় কুফরী করা অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ।

২. ঈমান ও আমলের ক্ষেত্রে কোন মানুষের অন্ধ অনুসরণ করা যাবে না।

৩. আহলে কিতাবের লোকজন কখনো মুসলিমদেরকে বিশ^স্ত মনে করা না।

৪. আল্লাহর হেদায়াতই প্রকৃত হেদয়াত; সুতরাং সর্বদা এর অনুসরণ করা আবশ্যক।

৫. মর্যাদা আল্লাহর পক্ষ হতেই এসে থাকে; সুতরাং এটি অর্জন করার জন্য কোন প্রকার অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করা যাবে না।