১
সূরা আলে ইমরান
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৮৫
আয়াত : ১৫৬ মুনাফিকদের মতো আচরণ না করার ব্যাপারে সতর্কতা
يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تَكُوْنُوْا كَالَّذِيْنَ كَفَرُوْا وَقَالُوْا لِاِخْوَانِهِمْ اِذَا ضَرَبُوْا فِي الْاَرْضِ اَوْ كَانُوْا غُزًّى لَّوْ كَانُوْا عِنْدَنَا مَا مَاتُوْا وَمَا قُتِلُوْاۚ لِيَجْعَلَ اللهُ ذٰلِكَ حَسْرَةً فِيْ قُلُوْبِهِمْؕ وَاللهُ يُحْيِيْ وَيُمِيْتُؕ وَاللهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ بَصِيْرٌ (১৫৬)
শাব্দিক অনুবাদ
১৫৬. يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا ওহে যারা ঈমান আনয়ন করেছ! لَا تَكُوْنُوْا তোমরা হয়ো না كَالَّذِيْنَ ঐসব লোকের মতো, যারা كَفَرُوْا অস্বীকার করেছে وَقَالُوْا এবং বলেছে لِاِخْوَانِهِمْ তাদের ভাইদের ব্যাপারে اِذَا যখন ضَرَبُوْا তারা ভ্রমণ করে فِي الْاَرْضِ পৃথিবীতে اَوْ অথবা كَانُوْا তারা থাকে غُزًّى যুদ্ধরত لَوْ যদি كَانُوْا তারা থাকত عِنْدَنَا আমাদের নিকট مَا مَاتُوْا তবে তারা মৃত্যুবরণ করত না وَمَا قُتِلُوْا এবং নিহতও হতো না। لِيَجْعَلَ যাতে করতে পারেন اَللهُ আল্লাহ ذٰلِكَ এটাকে حَسْرَةً আফসোসের কারণ فِيْ قُلُوْبِهِمْ তাদের অন্তরে। وَاللهُ আর আল্লাহই يُحْيِيْ জীবন দান করেন وَيُمِيْتُ এবং মৃত্যু দান করেন। وَاللهُ আর আল্লাহ بِمَا সে বিষয়ে যা تَعْمَلُوْنَ তোমরা করছ بَصِيْرٌ পরিপূর্ণ দৃষ্টিবান।
সরল অনুবাদ
১৫৬. হে মুমিনগণ! তোমরা ঐসব লোকের মতো হয়ো না, যারা অস্বীকার করেছে এবং যখন তাদের ভাইয়েরা পৃথিবীতে ভ্রমণ করে অথবা যুদ্ধরত থাকে তখন তাদের সম্পর্কে বলে- যদি তারা আমাদের নিকট থাকত তবে মৃত্যুমুখে পতিত হতো না অথবা নিহতও হতো না। [এ আয়াতটি মদিনার ঐসব ইহুদীদের প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে, যারা উহুদ যুদ্ধের পরাজয় সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের সমালোচনার সাথে সাথে এরূপ মন্তব্য করে বেড়াত। সামান্য লক্ষ্য করলেই দেখা যায় যে, তাদের এই মন্তব্যটি প্রত্যেক যুগের মুনাফিক ও দুর্বল ঈমানের অধিকারী লোকদের মন্তব্যগুলোর সাথে খুবই সাদৃশ্যপূর্ণ। তারা এসব মন্তব্যের মাধ্যমে প্রকৃত ঈমানদারদেরকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। সুতরাং তাদের সমালোচনাসমূহ এড়িয়ে চলাই মুমিনদের জন্য কল্যাণকর।] এটা এ জন্য যে, যাতে করে আল্লাহ এটাকে তাদের অন্তরে আফসোসের কারণ করতে পারেন। [এখানে আফসোস বলতে ঐসব লোকের অভিব্যক্তিকে বুঝানো হয়েছে, যারা প্রকৃতপক্ষে ঈমানদার নয় তথা মুনাফিক অথবা যারা ঈমানের দিক থেকে একেবারেই দুর্বল। মুজাহিদদের ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত বিষয়টি অনুধাবন করতে সক্ষম না হওয়ার কারণেই তারা এ ধরনের আফসোস করে থাকে। অতঃপর তাদের এসব আফসোস ক্রমেই তীব্রতা লাভ করে।] (প্রকৃতপক্ষে) আল্লাহই জীবন দান করেন ও মৃত্যু দান করেন। [এটি হচ্ছে তাদের আফসোসের বিষয়ে একটি জবাব। কেননা তারা যে বিষয়টি নিয়ে আফসোস করছে এবং মুসলিমদের ক্ষতি হিসেবে দেখছে, সেটি নিয়ে তাদের এরূপ ধারণা পোষণ করাটাই সঠিক নয়। কেননা ঐ বিষয়টি কেবল আল্লাহর ইচ্ছাতেই সংঘটিত হয়ে থাকে। তারা যদি ময়দানে না নেমে ঘরে বসে থাকত, তাহলেও তো তাদের একই পরিণতি হতো- যেমনিভাবে অন্যান্য মানুষের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।] আর তোমরা যা করছ সে বিষয়ে আল্লাহ পরিপূর্ণ দৃষ্টিবান। [অর্থাৎ তোমরা ঘরে বসে ঈমানের বিষয়ে কতটুকু দায়িত্ব পালন করছ এবং তারা ময়দানে বের হয়ে কতটুকু দায়িত্ব পালন করছে, সবকিছুই আল্লাহ তা‘আলা যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। অতঃপর কিয়ামতের দিন তিনি উভয়পক্ষকে তাদের যথাযথ পাওনা বুঝিয়ে দেবেন।]
আয়াত থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
মুজাহিদদের ব্যাপারে বিরোপ মন্তব্য করা মুনাফিকদের কাজ।
জীবন ও মৃত্যু কেবল আল্লাহরই ইচ্ছাধীন।
মুজাহিদদের মর্যাদা ঘরে বসে থাকা লোকদের থেকে অনেক বেশি।
আল্লাহ তা‘আলা বান্দাদের সকল কর্মই প্রত্যক্ষ করে থাকেন।
শাব্দিক অনুবাদ
১৫৬. يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا ওহে যারা ঈমান আনয়ন করেছ! لَا تَكُوْنُوْا তোমরা হয়ো না كَالَّذِيْنَ ঐসব লোকের মতো, যারা كَفَرُوْا অস্বীকার করেছে وَقَالُوْا এবং বলেছে لِاِخْوَانِهِمْ তাদের ভাইদের ব্যাপারে اِذَا যখন ضَرَبُوْا তারা ভ্রমণ করে فِي الْاَرْضِ পৃথিবীতে اَوْ অথবা كَانُوْا তারা থাকে غُزًّى যুদ্ধরত لَوْ যদি كَانُوْا তারা থাকত عِنْدَنَا আমাদের নিকট مَا مَاتُوْا তবে তারা মৃত্যুবরণ করত না وَمَا قُتِلُوْا এবং নিহতও হতো না। لِيَجْعَلَ যাতে করতে পারেন اَللهُ আল্লাহ ذٰلِكَ এটাকে حَسْرَةً আফসোসের কারণ فِيْ قُلُوْبِهِمْ তাদের অন্তরে। وَاللهُ আর আল্লাহই يُحْيِيْ জীবন দান করেন وَيُمِيْتُ এবং মৃত্যু দান করেন। وَاللهُ আর আল্লাহ بِمَا সে বিষয়ে যা تَعْمَلُوْنَ তোমরা করছ بَصِيْرٌ পরিপূর্ণ দৃষ্টিবান।
সরল অনুবাদ
১৫৬. হে মুমিনগণ! তোমরা ঐসব লোকের মতো হয়ো না, যারা অস্বীকার করেছে এবং যখন তাদের ভাইয়েরা পৃথিবীতে ভ্রমণ করে অথবা যুদ্ধরত থাকে তখন তাদের সম্পর্কে বলে- যদি তারা আমাদের নিকট থাকত তবে মৃত্যুমুখে পতিত হতো না অথবা নিহতও হতো না। [এ আয়াতটি মদিনার ঐসব ইহুদীদের প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে, যারা উহুদ যুদ্ধের পরাজয় সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের সমালোচনার সাথে সাথে এরূপ মন্তব্য করে বেড়াত। সামান্য লক্ষ্য করলেই দেখা যায় যে, তাদের এই মন্তব্যটি প্রত্যেক যুগের মুনাফিক ও দুর্বল ঈমানের অধিকারী লোকদের মন্তব্যগুলোর সাথে খুবই সাদৃশ্যপূর্ণ। তারা এসব মন্তব্যের মাধ্যমে প্রকৃত ঈমানদারদেরকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। সুতরাং তাদের সমালোচনাসমূহ এড়িয়ে চলাই মুমিনদের জন্য কল্যাণকর।] এটা এ জন্য যে, যাতে করে আল্লাহ এটাকে তাদের অন্তরে আফসোসের কারণ করতে পারেন। [এখানে আফসোস বলতে ঐসব লোকের অভিব্যক্তিকে বুঝানো হয়েছে, যারা প্রকৃতপক্ষে ঈমানদার নয় তথা মুনাফিক অথবা যারা ঈমানের দিক থেকে একেবারেই দুর্বল। মুজাহিদদের ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত বিষয়টি অনুধাবন করতে সক্ষম না হওয়ার কারণেই তারা এ ধরনের আফসোস করে থাকে। অতঃপর তাদের এসব আফসোস ক্রমেই তীব্রতা লাভ করে।] (প্রকৃতপক্ষে) আল্লাহই জীবন দান করেন ও মৃত্যু দান করেন। [এটি হচ্ছে তাদের আফসোসের বিষয়ে একটি জবাব। কেননা তারা যে বিষয়টি নিয়ে আফসোস করছে এবং মুসলিমদের ক্ষতি হিসেবে দেখছে, সেটি নিয়ে তাদের এরূপ ধারণা পোষণ করাটাই সঠিক নয়। কেননা ঐ বিষয়টি কেবল আল্লাহর ইচ্ছাতেই সংঘটিত হয়ে থাকে। তারা যদি ময়দানে না নেমে ঘরে বসে থাকত, তাহলেও তো তাদের একই পরিণতি হতো- যেমনিভাবে অন্যান্য মানুষের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।] আর তোমরা যা করছ সে বিষয়ে আল্লাহ পরিপূর্ণ দৃষ্টিবান। [অর্থাৎ তোমরা ঘরে বসে ঈমানের বিষয়ে কতটুকু দায়িত্ব পালন করছ এবং তারা ময়দানে বের হয়ে কতটুকু দায়িত্ব পালন করছে, সবকিছুই আল্লাহ তা‘আলা যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। অতঃপর কিয়ামতের দিন তিনি উভয়পক্ষকে তাদের যথাযথ পাওনা বুঝিয়ে দেবেন।]
আয়াত থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
মুজাহিদদের ব্যাপারে বিরোপ মন্তব্য করা মুনাফিকদের কাজ।
জীবন ও মৃত্যু কেবল আল্লাহরই ইচ্ছাধীন।
মুজাহিদদের মর্যাদা ঘরে বসে থাকা লোকদের থেকে অনেক বেশি।
আল্লাহ তা‘আলা বান্দাদের সকল কর্মই প্রত্যক্ষ করে থাকেন।