hadith book logo

ইসলামের রুকনসমূহের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

লেখকঃ কতিপয় ছাত্র • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১১৩

সাওমের রুকনসমূহ:

১- বিরত থাকা: সাওম ভঙ্গকারী কারণ খাদ্য, পানীয় স্বামী-স্ত্রীর মিলন ইত্যাদি হতে বিরত থাকা।

২- নিয়ত: আল্লাহর আদেশ পালন করতে ও তার নৈকট্য লাভের প্রত্যাশায় অন্তরে সাওমের দৃঢ় সংকল্প করা। কেননা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ »

“প্রত্যেক কাজ নিয়াতের ওপর নির্ভরশীল” [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৯০৭।]

ফরয সাওমের ক্ষেত্রে রাত থাকা অবস্থায় ফজরের পূর্বেই নিয়ত করা ফরয। কেননা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«مَنْ لَمْ يُجْمِعِ الصِّيَامَ قَبْلَ الْفَجْرِ، فَلَا صِيَامَ لَهُ»

“যে ব্যক্তি ফজরের পূর্বে সাওমের নিয়ত করবে না, তার সাওম আদায় হবে না”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ২৪৫৪; সুনান নাসায়ী, হাদীস নং ২৩৩৩। ‬ আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।]

আর নফল সাওমের ক্ষেত্রে সূর্যোদয় এমনকি দ্বিপ্রহরেও নিয়ত করা যাবে। তবে শর্ত হলো সুবহে সাদিকের পর থেকে সে সময় পর্যন্ত কিছু পানাহার না করা। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বর্ণিত হাদীস এর দলীল। তিনি বলেন,

«قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ذَاتَ يَوْمٍ «يَا عَائِشَةُ، هَلْ عِنْدَكُمْ شَيْءٌ؟» قَالَتْ : فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ، مَا عِنْدَنَا شَيْءٌ قَالَ : «فَإِنِّي صَائِمٌ»

“রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাকে বললেন, “হে আয়েশা! তোমাদের কাছে কি কোনো (খাবার) আছে? আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন, ‘আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কাছে কোনো কিছু নেই। তিনি বললেন, তাহলে আমি সাওম পালন করলাম”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৫৪।]

৩- সময়: রমযানে সূর্যোদয়ের পূর্ব থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সাওম পালন করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

﴿وَكُلُواْ وَٱشۡرَبُواْ حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَكُمُ ٱلۡخَيۡطُ ٱلۡأَبۡيَضُ مِنَ ٱلۡخَيۡطِ ٱلۡأَسۡوَدِ مِنَ ٱلۡفَجۡرِۖ ثُمَّ أَتِمُّواْ ٱلصِّيَامَ إِلَى ٱلَّيۡلِۚ ١٨٧ ﴾ [ البقرة : ١٨٧ ]

“আর আহার কর ও পান কর যতক্ষণ না ফজরের সাদা রেখা কাল রেখা থেকে স্পষ্ট হয়। অতঃপর রাত পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করো”। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৭]