hadith book logo

ইসলামের রুকনসমূহের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

লেখকঃ কতিপয় ছাত্র • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৫০

উমরার সারসংক্ষেপ

১- ইহরাম বাঁধা: উমরাকারী যখন মিকাতে পৌঁছবে, সে পূর্বে উল্লিখিত ইহরামের সময়কার মুস্তাহাব কাজগুলো সম্পন্ন করে ইহরামের উত্তম কাপড় পরিধান করবে এবং উমরার নিয়ত করবে এবং বলবে: لبيك عمرة (হে আল্লাহ আমি উমরার জন্য হাযির)। অতঃপর উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করবে ও বলবে:

«لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ»

“আমি হাযির হে আল্লাহ, আমি হাযির, আমি হাযির। আপনার কোনো শরীক নেই। নিশ্চয়ই প্রশংসা ও নি‘আমত আপনার এবং রাজত্বও, আপনার কোনো শরীক নেই”।

২- তাওয়াফ: মক্কায় পৌঁছে মসজিদে হারামে যাবে এবং কা‘বাঘরের সাত চক্কর তাওয়াফ শুরু করবে। হাজরে আসওয়াদ দিয়ে শুরু করে হাজরে আসওয়াদেই শেষ করবে। তাওয়াফের পর মাকামে ইবরাহীমের পেছনে - যদি সম্ভব হয়- দু রাকা‘আত সালাত পড়বে।

৩- সা‘ঈ: এরপর সাফা পাহাড়ের দিকে যাবে। সাফা পাহাড়ের দিকে উঠার নিকটবর্তী হলে কুরআনুল কারীমের এ আয়াতটি পড়বে:

﴿إِنَّ ٱلصَّفَا وَٱلۡمَرۡوَةَ مِن شَعَآئِرِ ٱللَّهِ﴾ [ البقرة : ١٥٨ ]

“নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত”। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৫৮]

সাফা পাহাড়ে উঠবে। কিবলামুখী হবে। দু হাত উঠাবে। তাকবীর দেবে ও আল্লাহর প্রশংসা করবে। বলবে:

«لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ، أَنْجَزَ وَعْدَهُ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ»

“আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি এক। তাঁর কোনো অংশীদার নেই। রাজত্ব তাঁরই। প্রশংসাও তাঁর। সকল বিষয়ের ওপর তিনি ক্ষমতাবান। আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি এক। আল্লাহ তাঁর অঙ্গীকার পূর্ণ করেছেন ও তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই শত্রুদেরকে পরাজিত করেছেন”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২১৮।]

এরপর নিজের প্রার্থনা আল্লাহর কাছে ব্যক্ত করবে। এরপর উল্লিখিত দো‘আটি দ্বিতীয়বারের মতো পড়বে। এরপর আবার নিজের প্রার্থনা আল্লাহর কাছে ব্যক্ত করবে ও তৃতীয় বারের মতো উল্লিখিত দো‘আটি পড়বে। সাফা থেকে নেমে মারওয়ার পথে রওয়ানা হবে। দুই সবুজ চিহ্নের মাঝে দ্রুতপদে ধাবমান হবে। মারওয়ায় উঠবে এবং সাফায় যেভাবে দো‘আ প্রার্থনা করেছে, একইরূপে মারওয়াতেও করবে। সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাতবার সা‘ঈ করবে। সাফা ও মারওয়ার চক্কর হচ্ছে সাতটি। যাওয়া একটি আর ফিরে আসা আরেকটি চক্কর বিবেচিত হবে।

৪- মাথা মুণ্ডানো বা চুল ছোট করা: সা‘ঈ করার পর পুরুষ তার মাথার চুল মুণ্ডাবে বা ছোট করবে। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উমরার যাবতীয় কর্ম সম্পন্ন হয়ে যাবে।