১
ইসলামের রুকনসমূহের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
লেখকঃ কতিপয় ছাত্র • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১২৯
ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজসমূহ:
হজ অথবা উমরার ইহরাম বাঁধলে নিম্নোক্ত কাজসমূহ করা নিষেধ:
১- মাথার চুল মুণ্ডানো, কাটা অথবা উপড়ে ফেলা। এমনিভাবে শরীরের অন্যান্য লোমও কাঁটা বা মুণ্ডানো বা উপড়ে ফেলা নিষেধ।
২- হাত ও পায়ের নখ কাটা।
৩- এমন কোনো কাপড় দিয়ে পুরুষের মাথা ঢেকে রাখা যা মাথার সাথে লেগে থাকে।
৪- পুরুষের ক্ষেত্রে সেলাই-করা পোশাক পরা। সেলাই করা পোশাক অর্থ এমন পোশাক যা মানুষের শরীরের মাপে অথবা কোনো অঙ্গের মাপে সেলাই করে তৈরি করা হয়েছে, যেমন স্বাভাবিক পরিধানের পোশাক, প্যান্ট-পাজামা, জামা, ইত্যাদি।
৫- ইহরামের পর শরীর, কাপড় অথবা অন্য কোথাও সুগন্ধি লাগানো।
কেউ উক্ত পাঁচটি কাজ করলে তাকে ফিদিয়া দিতে হবে। ফিদিয়া হলো তিন দিন সাওম পালন করা বা ৬জন মিসকিনকে এক মুদ পরিমাণ করে খাদ্য দেওয়া বা একটি ছাগল যবাই করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
﴿فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوۡ بِهِۦٓ أَذٗى مِّن رَّأۡسِهِۦ فَفِدۡيَةٞ مِّن صِيَامٍ أَوۡ صَدَقَةٍ أَوۡ نُسُكٖ﴾ [ البقرة : ١٩٦ ]
“আর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ কিংবা তার মাথায় যদি কোনো কষ্ট থাকে তবে সিয়াম কিংবা সদাকা অথবা পশু যবেহ এর মাধ্যমে ফিদয়া দেবে”। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৯৬]
৬- স্থলজ শিকার-জন্তু হত্যা করা বা শিকার করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَقۡتُلُواْ ٱلصَّيۡدَ وَأَنتُمۡ حُرُمٞ﴾ [ المائدة : ٩٥ ]
“হে মুমিনগণ, ইহরামে থাকা অবস্থায় তোমরা শিকারকে হত্যা করো না”। [সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৯৫]
সুতরাং কেউ যদি ইচ্ছা করে তা হত্যা করে, তবে তাকে অনুরূপ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَمَن قَتَلَهُۥ مِنكُم مُّتَعَمِّدٗا فَجَزَآءٞ مِّثۡلُ مَا قَتَلَ مِنَ ٱلنَّعَمِ﴾ [ المائدة : ٩٥ ]
“আর যে কেউ তোমাদের মধ্য থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে তা হত্যা করবে সে যেন অনুরূপ প্রাণি ক্ষতিপূরণ দেয়”। [সূরা আল-মায়িদা: ৯৫]
যেমন কেউ হরিণ, পাহাড়ী ছাগল ও খরগোশ ইত্যাদি শিকার করলে মিসকীনকে সমজাতীয় একটি প্রাণি ফিদিয়া দিতে হবে। নির্দিষ্ট প্রাণি পাওয়া না গেলে উক্ত প্রাণীর মূল্যের সমপরিমাণ খাদ্য দান করতে হবে। মিসকিনদের মধ্যে তা বিলিয়ে দিতে হবে। খাদ্য ফিদিয়া দিতে সক্ষম না হলে যে কয়জন মিসকিনকে খাদ্য দেওয়ার তাদের পরিবর্তে সাওম পালন করবে।
৭- সহবাস বা সহবাসের পূর্বকাজ যেমন চুম্বন ইত্যাদি করা হারাম। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
﴿ٱلۡحَجُّ أَشۡهُرٞ مَّعۡلُومَٰتٞۚ فَمَن فَرَضَ فِيهِنَّ ٱلۡحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي ٱلۡحَجِّ﴾ [ البقرة : ١٩٧ ]
“হজের সময় নির্দিষ্ট মাসসমূহ। অতএব, এ মাসসমূহে যে নিজের ওপর হজ আরোপ করে নিল, তার জন্য হজে অশ্লীল ও পাপ কাজ এবং ঝগড়া-বিবাদ বৈধ নয়”। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৯৭]
সহবাস করলে হজ বাতিল হয়ে যাবে। তাকে বাতিল হওয়া সত্বেও হজের বাকী কাজ পূর্ণ করতে হবে এবং পরের বছর আবার হজ করতে হবে। উমার ইবন খাত্তাব, আলী ইবন আবী তালিব ও আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, মুহরিম অবস্থায় কেউ স্ত্রীসহবাস করলে কী করণীয়? তারা বললেন,
«يَنْفُذَانِ لِوَجْهِهِمَا، حَتَّى يَقْضِيَا حَجَّهُمَا . ثُمَّ عَلَيْهِمَا حَجُّ قَابِلٍ، وَالْهَدْيُ»
“তারা হজের বাকী কাজ সমাপন করবে। অতঃপর, পরের বছর পুনরায় হজ করবে এবং হাদী যবাই করবে”। [মুয়াত্তা মালেক, হাদীস নং ১৪২১।]
১- মাথার চুল মুণ্ডানো, কাটা অথবা উপড়ে ফেলা। এমনিভাবে শরীরের অন্যান্য লোমও কাঁটা বা মুণ্ডানো বা উপড়ে ফেলা নিষেধ।
২- হাত ও পায়ের নখ কাটা।
৩- এমন কোনো কাপড় দিয়ে পুরুষের মাথা ঢেকে রাখা যা মাথার সাথে লেগে থাকে।
৪- পুরুষের ক্ষেত্রে সেলাই-করা পোশাক পরা। সেলাই করা পোশাক অর্থ এমন পোশাক যা মানুষের শরীরের মাপে অথবা কোনো অঙ্গের মাপে সেলাই করে তৈরি করা হয়েছে, যেমন স্বাভাবিক পরিধানের পোশাক, প্যান্ট-পাজামা, জামা, ইত্যাদি।
৫- ইহরামের পর শরীর, কাপড় অথবা অন্য কোথাও সুগন্ধি লাগানো।
কেউ উক্ত পাঁচটি কাজ করলে তাকে ফিদিয়া দিতে হবে। ফিদিয়া হলো তিন দিন সাওম পালন করা বা ৬জন মিসকিনকে এক মুদ পরিমাণ করে খাদ্য দেওয়া বা একটি ছাগল যবাই করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
﴿فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوۡ بِهِۦٓ أَذٗى مِّن رَّأۡسِهِۦ فَفِدۡيَةٞ مِّن صِيَامٍ أَوۡ صَدَقَةٍ أَوۡ نُسُكٖ﴾ [ البقرة : ١٩٦ ]
“আর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ কিংবা তার মাথায় যদি কোনো কষ্ট থাকে তবে সিয়াম কিংবা সদাকা অথবা পশু যবেহ এর মাধ্যমে ফিদয়া দেবে”। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৯৬]
৬- স্থলজ শিকার-জন্তু হত্যা করা বা শিকার করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَقۡتُلُواْ ٱلصَّيۡدَ وَأَنتُمۡ حُرُمٞ﴾ [ المائدة : ٩٥ ]
“হে মুমিনগণ, ইহরামে থাকা অবস্থায় তোমরা শিকারকে হত্যা করো না”। [সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৯৫]
সুতরাং কেউ যদি ইচ্ছা করে তা হত্যা করে, তবে তাকে অনুরূপ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَمَن قَتَلَهُۥ مِنكُم مُّتَعَمِّدٗا فَجَزَآءٞ مِّثۡلُ مَا قَتَلَ مِنَ ٱلنَّعَمِ﴾ [ المائدة : ٩٥ ]
“আর যে কেউ তোমাদের মধ্য থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে তা হত্যা করবে সে যেন অনুরূপ প্রাণি ক্ষতিপূরণ দেয়”। [সূরা আল-মায়িদা: ৯৫]
যেমন কেউ হরিণ, পাহাড়ী ছাগল ও খরগোশ ইত্যাদি শিকার করলে মিসকীনকে সমজাতীয় একটি প্রাণি ফিদিয়া দিতে হবে। নির্দিষ্ট প্রাণি পাওয়া না গেলে উক্ত প্রাণীর মূল্যের সমপরিমাণ খাদ্য দান করতে হবে। মিসকিনদের মধ্যে তা বিলিয়ে দিতে হবে। খাদ্য ফিদিয়া দিতে সক্ষম না হলে যে কয়জন মিসকিনকে খাদ্য দেওয়ার তাদের পরিবর্তে সাওম পালন করবে।
৭- সহবাস বা সহবাসের পূর্বকাজ যেমন চুম্বন ইত্যাদি করা হারাম। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
﴿ٱلۡحَجُّ أَشۡهُرٞ مَّعۡلُومَٰتٞۚ فَمَن فَرَضَ فِيهِنَّ ٱلۡحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي ٱلۡحَجِّ﴾ [ البقرة : ١٩٧ ]
“হজের সময় নির্দিষ্ট মাসসমূহ। অতএব, এ মাসসমূহে যে নিজের ওপর হজ আরোপ করে নিল, তার জন্য হজে অশ্লীল ও পাপ কাজ এবং ঝগড়া-বিবাদ বৈধ নয়”। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৯৭]
সহবাস করলে হজ বাতিল হয়ে যাবে। তাকে বাতিল হওয়া সত্বেও হজের বাকী কাজ পূর্ণ করতে হবে এবং পরের বছর আবার হজ করতে হবে। উমার ইবন খাত্তাব, আলী ইবন আবী তালিব ও আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, মুহরিম অবস্থায় কেউ স্ত্রীসহবাস করলে কী করণীয়? তারা বললেন,
«يَنْفُذَانِ لِوَجْهِهِمَا، حَتَّى يَقْضِيَا حَجَّهُمَا . ثُمَّ عَلَيْهِمَا حَجُّ قَابِلٍ، وَالْهَدْيُ»
“তারা হজের বাকী কাজ সমাপন করবে। অতঃপর, পরের বছর পুনরায় হজ করবে এবং হাদী যবাই করবে”। [মুয়াত্তা মালেক, হাদীস নং ১৪২১।]