hadith book logo

ইসলামের রুকনসমূহের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

লেখকঃ কতিপয় ছাত্র • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২২

হজের হুকুম:

মক্কায় গমন করতে সক্ষম সকল নারী পুরুষের ওপর হজ পালন করা ফরয। কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমা দ্বারা হজ ফরয হওয়া সাব্যস্ত।

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

﴿وَلِلَّهِ عَلَى ٱلنَّاسِ حِجُّ ٱلۡبَيۡتِ مَنِ ٱسۡتَطَاعَ إِلَيۡهِ سَبِيلٗاۚ وَمَن كَفَرَ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ ٱلۡعَٰلَمِينَ ٩٧﴾ [ ال عمران : ٩٧ ]

“এবং সামর্থ্যবান মানুষের ওপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হজ করা ফরয। আর যে কুফরী করে, তবে আল্লাহ তো নিশ্চয় সৃষ্টিকুল থেকে অমুখাপেক্ষী”। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯৭]

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«بُنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ : شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ»

“ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি। আল্লাহ ব্যতীত কোনো (সত্য) ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল, এ কথার সাক্ষ্য দান, সালাত কায়েম করা, যাকাত দেওয়া, হজ করা এবং রমযান মাসের সিয়াম পালন করা”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৬।]

সকল মুসলিম একমত যে, হজ পালন করা ফরয। এটি ইসলামের একটি রুকন এবং দীনের অত্যাবশ্যকীয় জ্ঞাতব্য বিষয়। যে ব্যক্তি হজকে অস্বীকার করবে সে কাফির ও ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাবে।

তাছাড়া সব আলেম এ ব্যাপারেও একমত যে, জীবনে একবার হজ পালন করা ফরয। তবে কেউ মানত করলে ভিন্ন কথা। মানত করলে তাকে উক্ত হজ আদায় করা ফরয। এছাড়া কেউ অতিরিক্ত করলে সেটা মুস্তাহাব।

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। এতে তিনি বললেন,

«أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ فَرَضَ اللهُ عَلَيْكُمُ الْحَجَّ، فَحُجُّوا»، فَقَالَ رَجُلٌ : أَكُلَّ عَامٍ يَا رَسُولَ اللهِ؟ فَسَكَتَ حَتَّى قَالَهَا ثَلَاثًا، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " لَوْ قُلْتُ : نَعَمْ لَوَجَبَتْ، وَلَمَا اسْتَطَعْتُمْ " ، ثُمَّ قَالَ : «ذَرُونِي مَا تَرَكْتُكُمْ، فَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِكَثْرَةِ سُؤَالِهِمْ وَاخْتِلَافِهِمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ، فَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِشَيْءٍ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ، وَإِذَا نَهَيْتُكُمْ عَنْ شَيْءٍ فَدَعُوهُ»

“হে মানবমণ্ডলী! আল্লাহ তোমাদের ওপর হজ ফরয করেছেন। কাজেই তোমরা হজ পালন করবে। তখন এক ব্যক্তি বললো: হে আল্লাহর রাসূল। প্রতি বছর কি হজ করতে হবে? তিনি চুপ রইলেন এবং লোকটি এভাবে তিনবার জিজ্ঞেস কররো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি যদি হ্যাঁ বলতাম, তাহলে তা প্রতি বছরের জন্যেই ফরয হয়ে যেত। কিন্তু তোমাদের পক্ষে তা করা সম্ভব হতো না। তিনি আরো বললেন: “যে ব্যাপারে আমি তোমাদেরকে কিছু বলি নি সে বিষয় সেরূপ থাকতে দাও। কেননা তোমাদের পূর্বে যারা ছিল তারা বেশি প্রশ্ন করার ও তাদের নবীদের সাথে মতবিরোধ করার কারণেই ধ্বংস হয়েছে। কাজেই আমি যখন তোমাদের কোনো বিষয়ে নির্দেশ দেই, তোমরা তা যথাসাধ্য পালন করবে, আর যখন কোনো বিষয়ে নিষেধ করি তখন তা পরিত্যাগ করবে”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৩৩৭।]

ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে খুৎবা দিচ্ছিলেন। এতে তিনি বললনে,

«يَا أَيُّهَا النَّاسُ، كُتِبَ عَلَيْكُمِ الْحَجُّ . قَالَ : فَقَامَ الْأَقْرَعُ بْنُ حَابِسٍ، فَقَالَ : أَفِي كُلِّ عَامٍ يَا رَسُولَ اللهِ؟ فَقَالَ : لَوْ قُلْتُهَا لَوَجَبَتْ، وَلَوْ وَجَبَتْ لَمْ تَعْمَلُوا بِهَا، وَلَمْ تَسْتَطِيعُوا أَنْ تَعْمَلُوا بِهَا، الْحَجُّ مَرَّةٌ، فَمَنْ زَادَ فَهُوَ تَطَوُّعٌ»

“হে মানব সকল! তোমাদের ওপর হজ ফরয করা হয়েছে”। তখন আকরা‘ ইবন হাবিস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল প্রতি বছরই কি হজ পালন করা ফরয? তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “আমি যদি হ্যাঁ বলি তাহলে তা প্রতি বছরই আদায় করা ফরয হবে। আর যদি তোমাদের ওপর প্রতি বছর হজ পালন ফরয করা হয় তোমরা তা পালন করবে না এবং তোমাদের সাধ্যও হবে না। জীবনে একবার হজ পালন করা ফরয। অতিরিক্ত যা করা হবে তা নফল”। [মুসনাদ আহমদ, হাদীস নং ২৬৪২, শু‘আইব আরনাউত হাদীসের সনদটিকে সহীহ বলেছনে। মুসতাদরাকে হাকিম, হাদীস নং ৩১৫৫। ইমাম হাকিম হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ বলেছেন; কিন্তু তারা এ সনদে বর্ণনা করেন নি। ইমাম যাহাবী রহ. ও বুখারী ও মুসলিমের শর্তে স্বীকৃতি দিয়েছেন।]