১
ইসলামের রুকনসমূহের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
লেখকঃ কতিপয় ছাত্র • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১১৪
সাওমের সুন্নতসমূহ:
১- সাহরী খাওয়া: সাওম পালনের নিয়তে শেষরাতে সাহরীর সময় কিছু খাওয়া ও পান করা। কেননা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«تَسَحَّرُوا فَإِنَّ فِي السَّحُورِ بَرَكَةً»
“তোমরা সাহরী খাও; কেননা সাহরীতে বরকত রয়েছে”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯২৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০৯৫।]
২- বিলম্বে সাহরী খাওয়া: তাছাড়া বিলম্ব করে সাহরী খাওয়া মুস্তাহাব। তবে অবশ্যই সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার (ফজরের আযানের) পূর্বেই শেষ করতে হবে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«لَا تَزَالُ أُمَّتِي بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الْإِفْطَارَ، وَأَخَّرُوا السُّحُورَ»
“আমার উম্মতেরা ততোদিন পর্যন্ত কল্যাণের ওপর থাকবে যতোদিন তারা ওয়াক্ত হওয়ামাত্রই ইফতার করবে এবং বিলম্বে সাহরী খাবে”। [মুসনাদ আহমদ, হাদীস নং ২১৩১২। লেখক হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, কিন্তু মুসনাদে আহমদের মুহাক্কিক আল্লামা শু‘আইব আরনাউত হাদীসটিকে দ‘য়ীফ বলেছনে। মুসনাদ আহমদ: (৩৫/২৪১)। মু ‘জাম আল কাবীর, হাদীস নং ৩৯৫, তিনি উম্মে হাকিম বিনত ওদায়া‘ থেকে বর্ণনা করেন। মাজমাউয যাওয়ায়েদে আল্লামা হাইসামী রহ. বলেছেন, “এ সনদের নারীদের থেকে ইবন মাজাহ হাদীস বর্ণনা করেছেন। অন্য কেউ বর্ণনা করেন নি এবং তাদেরকে জারাহ বা তা‘দীল কোনোটিই করেন নি”। মাজমা‘উয যাওয়ায়েদ: (৩/১৫৫)। -অনুবাদক]
৩- সুর্যাস্তের সাথে সাথেই দ্রুত ইফতার করা। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«لاَ يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الفِطْرَ»
“লোকেরা যতো দিন যাবৎ ওয়াক্ত হওয়া মাত্র ইফতার করবে, ততোদিন তারা কল্যাণের ওপর থাকবে”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯৫৭।]
৪- তাজা বা শুকনা খেজুর বা পানি দিয়ে ইফতার করা। এগুলো ক্রমান্বয়ে অর্থাৎ একটি পাওয়া না গেলে অন্যটি দিয়ে ইফতার করা মুস্তাহাব। কেননা আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে ইফতার করেছেন। আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُفْطِرُ عَلَى رُطَبَاتٍ قَبْلَ أَنْ يُصَلِّيَ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ رُطَبَاتٌ، فَتَمَرَاتٌ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ تَمَرَاتٌ حَسَا حَسَوَاتٍ مِنْ مَاءٍ»
“রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের পূর্বে বেজোড় সংখ্যক তাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। তাজা খেজুর না পেলে শুকনো খেজুর দিয়ে। আর খেজুর না পেলে তিনি কয়েক ঢোক পানি পান করে ইফতার করতেন”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ২৩৫৬। আলবানী রহ. হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। মুসনাদ আহমদ, হাদীস নং ১২৬৬৭। আল্লামা শু‘আইব আরনাউত বলেছেন, “হাদীসটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।]
৫- সাওম পালনকারী সাওম অবস্থায় বিশেষ করে ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে দো‘আ করা। কারণ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«ثَلَاثُ دَعَوَاتٍ مُسْتَجَابَاتٌ : دَعْوَةُ الصَّائِمِ، وَدَعْوَةُ الْمُسَافِرِ، وَدَعْوَةُ الْمَظْلُومِ»
“তিন ব্যক্তির দো‘আ আল্লাহর কাছে কবুল হয়। তারা হলেন: সাওম পালনকারী, মুসাফির ও নির্যাতিত ব্যক্তি দো‘আ"। [শু‘আবুল ঈমান লিল বাইহাকী, হাদীস নং ৩৩২৩। হাদীসটি সহীহ।]
তাছাড়া ‘আব্দুল্লাহ ইবন ‘আমর ইবন ‘আস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«إِنَّ لِلصَّائِمِ عِنْدَ فِطْرِهِ لَدَعْوَةً مَا تُرَدُّ» قَالَ ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ : سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، يَقُولُ إِذَا أَفْطَرَ : اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِرَحْمَتِكَ الَّتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ أَنْ تَغْفِرَ لِي»
“ইফতারের সময় সাওমপালনকারীর অবশ্যই একটি দো‘আ আছে, যা প্রত্যাখ্যান করা হয় না (কবুল হয়)। ইবন আবু মুলাইকা রহ. বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবন ‘আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে ইফতারের সময় বলতে শুনেছি: ‘‘হে আল্লাহ! আমি আপনার দয়া ও অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি যা সব কিছুর উপর পরিব্যপ্ত; যেন আপনি আমাকে ক্ষমা করেন’’। [ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৭৫৩। ইমাম বুসীরী রহ. যাওয়ায়েদে হাদীসের সনদটিকে সহীহ বলেছেন। আলবানী রহ. হাদীসটিকে দ‘য়ীফ বলেছেন।]
«تَسَحَّرُوا فَإِنَّ فِي السَّحُورِ بَرَكَةً»
“তোমরা সাহরী খাও; কেননা সাহরীতে বরকত রয়েছে”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯২৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০৯৫।]
২- বিলম্বে সাহরী খাওয়া: তাছাড়া বিলম্ব করে সাহরী খাওয়া মুস্তাহাব। তবে অবশ্যই সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার (ফজরের আযানের) পূর্বেই শেষ করতে হবে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«لَا تَزَالُ أُمَّتِي بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الْإِفْطَارَ، وَأَخَّرُوا السُّحُورَ»
“আমার উম্মতেরা ততোদিন পর্যন্ত কল্যাণের ওপর থাকবে যতোদিন তারা ওয়াক্ত হওয়ামাত্রই ইফতার করবে এবং বিলম্বে সাহরী খাবে”। [মুসনাদ আহমদ, হাদীস নং ২১৩১২। লেখক হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, কিন্তু মুসনাদে আহমদের মুহাক্কিক আল্লামা শু‘আইব আরনাউত হাদীসটিকে দ‘য়ীফ বলেছনে। মুসনাদ আহমদ: (৩৫/২৪১)। মু ‘জাম আল কাবীর, হাদীস নং ৩৯৫, তিনি উম্মে হাকিম বিনত ওদায়া‘ থেকে বর্ণনা করেন। মাজমাউয যাওয়ায়েদে আল্লামা হাইসামী রহ. বলেছেন, “এ সনদের নারীদের থেকে ইবন মাজাহ হাদীস বর্ণনা করেছেন। অন্য কেউ বর্ণনা করেন নি এবং তাদেরকে জারাহ বা তা‘দীল কোনোটিই করেন নি”। মাজমা‘উয যাওয়ায়েদ: (৩/১৫৫)। -অনুবাদক]
৩- সুর্যাস্তের সাথে সাথেই দ্রুত ইফতার করা। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«لاَ يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الفِطْرَ»
“লোকেরা যতো দিন যাবৎ ওয়াক্ত হওয়া মাত্র ইফতার করবে, ততোদিন তারা কল্যাণের ওপর থাকবে”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯৫৭।]
৪- তাজা বা শুকনা খেজুর বা পানি দিয়ে ইফতার করা। এগুলো ক্রমান্বয়ে অর্থাৎ একটি পাওয়া না গেলে অন্যটি দিয়ে ইফতার করা মুস্তাহাব। কেননা আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে ইফতার করেছেন। আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُفْطِرُ عَلَى رُطَبَاتٍ قَبْلَ أَنْ يُصَلِّيَ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ رُطَبَاتٌ، فَتَمَرَاتٌ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ تَمَرَاتٌ حَسَا حَسَوَاتٍ مِنْ مَاءٍ»
“রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের পূর্বে বেজোড় সংখ্যক তাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। তাজা খেজুর না পেলে শুকনো খেজুর দিয়ে। আর খেজুর না পেলে তিনি কয়েক ঢোক পানি পান করে ইফতার করতেন”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ২৩৫৬। আলবানী রহ. হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। মুসনাদ আহমদ, হাদীস নং ১২৬৬৭। আল্লামা শু‘আইব আরনাউত বলেছেন, “হাদীসটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।]
৫- সাওম পালনকারী সাওম অবস্থায় বিশেষ করে ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে দো‘আ করা। কারণ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«ثَلَاثُ دَعَوَاتٍ مُسْتَجَابَاتٌ : دَعْوَةُ الصَّائِمِ، وَدَعْوَةُ الْمُسَافِرِ، وَدَعْوَةُ الْمَظْلُومِ»
“তিন ব্যক্তির দো‘আ আল্লাহর কাছে কবুল হয়। তারা হলেন: সাওম পালনকারী, মুসাফির ও নির্যাতিত ব্যক্তি দো‘আ"। [শু‘আবুল ঈমান লিল বাইহাকী, হাদীস নং ৩৩২৩। হাদীসটি সহীহ।]
তাছাড়া ‘আব্দুল্লাহ ইবন ‘আমর ইবন ‘আস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«إِنَّ لِلصَّائِمِ عِنْدَ فِطْرِهِ لَدَعْوَةً مَا تُرَدُّ» قَالَ ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ : سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، يَقُولُ إِذَا أَفْطَرَ : اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِرَحْمَتِكَ الَّتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ أَنْ تَغْفِرَ لِي»
“ইফতারের সময় সাওমপালনকারীর অবশ্যই একটি দো‘আ আছে, যা প্রত্যাখ্যান করা হয় না (কবুল হয়)। ইবন আবু মুলাইকা রহ. বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবন ‘আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে ইফতারের সময় বলতে শুনেছি: ‘‘হে আল্লাহ! আমি আপনার দয়া ও অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি যা সব কিছুর উপর পরিব্যপ্ত; যেন আপনি আমাকে ক্ষমা করেন’’। [ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৭৫৩। ইমাম বুসীরী রহ. যাওয়ায়েদে হাদীসের সনদটিকে সহীহ বলেছেন। আলবানী রহ. হাদীসটিকে দ‘য়ীফ বলেছেন।]