১
ইসলামের রুকনসমূহের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
লেখকঃ কতিপয় ছাত্র • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪৬
সালাত নষ্ট হওয়ার কারণসমূহ:
নিম্নোক্ত যে কোনো একটি কারণ পাওয়া গেলে সালাত নষ্ট হয়ে যায়:
১- সালাতে ইচ্ছাকৃত পানাহার করলে। এ ব্যাপারে আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«إِنَّ فِي الصَّلاَةِ لَشُغْلًا»
“সালাত অনেক ব্যস্ততা ও নিমগ্নতা রয়েছে”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১২১৬।]
২- ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত বহির্ভুত কোনো কথাবার্তা বা সালাত সংশোধনের উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে অন্য কথা বলা। যায়িদ ইবন আরকাম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«كُنَّا نَتَكَلَّمُ فِي الصَّلَاةِ يُكَلِّمُ الرَّجُلُ صَاحِبَهُ وَهُوَ إِلَى جَنْبِهِ فِي الصَّلَاةِ حَتَّى نَزَلَتْ ﴿وَقُومُواْ لِلَّهِ قَٰنِتِينَ﴾ [ البقرة : ٢٣٨ ] فَأُمِرْنَا بِالسُّكُوتِ، وَنُهِينَا عَنِ الْكَلَامِ»
“আমরা সালাতে কথাবার্তা বলতাম। প্রত্যেকেই তার পাশের ব্যক্তির সাথে আলাপ করত। অতঃপর (আল্লাহর জন্য দাঁড়াবে বিনীতভাবে) [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৩৮] এ আয়াতটি যখন নাযিল হলো, তখন চুপ থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয় এবং পরস্পরে আলাপ করতে নিষেধ করা হয়”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১২০০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৩৯।]
এছাড়াও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য হাদীসে বলেছেন,
«إِنَّ هَذِهِ الصَّلَاةَ لَا يَصْلُحُ فِيهَا شَيْءٌ مِنْ كَلَامِ النَّاسِ، إِنَّمَا هُوَ التَّسْبِيحُ وَالتَّكْبِيرُ وَقِرَاءَةُ الْقُرْآنِ»
“সালাতে মানুষের কথাবার্তা জাতীয় কোনো কিছু বলা ঠিক নয়। বরং তা তো কেবল- তাসবীহ, তাকবীর ও কুরআন পাঠের জন্য”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৩৭।]
তবে সালাতের মধ্যে সালাতের সংশোধনের জন্য কোনো কথা বলা যেমন, ইমাম কিরাত পড়তে ভুলে গেলে মুসল্লী কিরাত শুরু করে তাকে স্মরণ করে দেওয়া বা ইমাম সালাম ফিরিয়ে মুসল্লীদেরকে সালাত পূর্ণ হয়েছে কি-না জিজ্ঞেস করলে সালাত অপূর্ণ থাকলে মুসল্লীদের দ্বারা উত্তর দেওয়া এবং ইমাম কর্তৃক বাকী সালাত পূর্ণ করা ইত্যাদি সালাতের মধ্যে করলে ক্ষতি নাই। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথেই এ ঘটনা ঘটেছে।
«فَقَالَ لَهُ ذُو اليَدَيْنِ أَنَسِيتَ أَمْ قَصُرَتْ؟ فَقَالَ : «لَمْ أَنْسَ وَلَمْ تَقْصُرْ» فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَصْحَابِهِ : «أَحَقٌّ مَا يَقُولُ؟» قَالُوا : نَعَمْ، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ أُخْرَيَيْنِ، ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ»
‘যুলইয়াদাইন’ (দুই হাতাওয়ালা বা লম্বা হাতাওয়ালা) বলল, হে আল্লাহর নবী! আপনি কি ভুল করেছেন, না সালাত ছোট করা হয়েছে? তিনি বললেন, “আমি ভুলে যাইনি এবং (সালাত) ছোটও করা হয়নি”। তিনি সাহাবীগণকে জিজ্ঞেস করলেন, যুলইয়াদাইন কি ঠিক বলেছে? তারা বললেন, হ্যাঁ, ‘যুলইয়াদাইন’ সঠিক বলেছে। তারপর তিনি উঠে দাঁড়িয়ে বাকী দু’রাকা‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর দু’টি সাজদাহ করলেন”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬০৫১।]
৩- উল্লিখিত সালাতের কোনো রুকন বা শর্ত বাদ পড়লে যা সালাতের মধ্যে বা সালাতের পরে পূর্ণ করা সম্ভব নয়। কেননা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত ভুলকারীকে বলেছেন,
«ارْجِعْ فَصَلِّ، فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ»
“ফিরে গিয়ে আবার সালাত আদায় কর। কেননা, তুমি সালাত আদায় কর নি”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৫৭।]
কেননা উক্ত ব্যক্তি সালাত ধীরস্থিরতা ও সোজা হয়ে উঠা বসার রুকন ছেড়ে দিয়েছিল। তাই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পুনরায় সালাত আদায় করতে বলেছেন।
৪- সালাতে অতিরিক্ত কাজ করা। কেননা এ ধরণের অতিরিক্ত কাজ করলে ইবাদতে বিঘ্ন ঘটে। যেমন, ইবাদতের পরিপন্থী কোনো কাজ করা, অন্তর ও অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গ দ্বারা সালাত ব্যতীত অন্য কাজ করা। তবে সামান্য কাজ যেমন, ইশারায় সালামের উত্তর দেওয়া বা কাপড় ঠিক করা, হাত দ্বারা শরীর চুলকানো ইত্যাদি সালাত নষ্ট করে না।
৫- অট্টহাসি হাসলে সালাত নষ্ট হয়ে যায়। আলেমগণ এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তবে তাবাসসুম বা মুচকি হাসি হাসলে অনেক আলেমের মতে, তাতে সালাত নষ্ট হয় না।
৬- সালাতে ওয়াক্তের তারতীব তথা ধারাবাহিকতা রক্ষা না করা। যেমন, মাগরিব না পড়ে ইশা আদায় করা। এতে ইশার সালাত নষ্ট হয়ে যাবে। কেননা সালাত ওয়াক্তের তারতীব তথা ধারাবাহিকতা বজায় রাখা ফরয। কেননা হাদীসে এক ওয়াক্ত সালাতের পরে অন্য ওয়াক্ত সালাতের কথা ধারাবাহিকভাবে এসেছে।
৭- স্পষ্ট ভুল করা। যেমন, ইশার সালাত চার রাকা‘আতের পরিবর্তে আট রাকা‘আত পড়া। কেননা এতে প্রমাণ করে যে সে সালাত একাগ্র ছিল না, ফলে এ ধরণের বড় ভুল করেছে।
১- সালাতে ইচ্ছাকৃত পানাহার করলে। এ ব্যাপারে আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«إِنَّ فِي الصَّلاَةِ لَشُغْلًا»
“সালাত অনেক ব্যস্ততা ও নিমগ্নতা রয়েছে”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১২১৬।]
২- ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত বহির্ভুত কোনো কথাবার্তা বা সালাত সংশোধনের উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে অন্য কথা বলা। যায়িদ ইবন আরকাম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«كُنَّا نَتَكَلَّمُ فِي الصَّلَاةِ يُكَلِّمُ الرَّجُلُ صَاحِبَهُ وَهُوَ إِلَى جَنْبِهِ فِي الصَّلَاةِ حَتَّى نَزَلَتْ ﴿وَقُومُواْ لِلَّهِ قَٰنِتِينَ﴾ [ البقرة : ٢٣٨ ] فَأُمِرْنَا بِالسُّكُوتِ، وَنُهِينَا عَنِ الْكَلَامِ»
“আমরা সালাতে কথাবার্তা বলতাম। প্রত্যেকেই তার পাশের ব্যক্তির সাথে আলাপ করত। অতঃপর (আল্লাহর জন্য দাঁড়াবে বিনীতভাবে) [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৩৮] এ আয়াতটি যখন নাযিল হলো, তখন চুপ থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয় এবং পরস্পরে আলাপ করতে নিষেধ করা হয়”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১২০০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৩৯।]
এছাড়াও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য হাদীসে বলেছেন,
«إِنَّ هَذِهِ الصَّلَاةَ لَا يَصْلُحُ فِيهَا شَيْءٌ مِنْ كَلَامِ النَّاسِ، إِنَّمَا هُوَ التَّسْبِيحُ وَالتَّكْبِيرُ وَقِرَاءَةُ الْقُرْآنِ»
“সালাতে মানুষের কথাবার্তা জাতীয় কোনো কিছু বলা ঠিক নয়। বরং তা তো কেবল- তাসবীহ, তাকবীর ও কুরআন পাঠের জন্য”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৩৭।]
তবে সালাতের মধ্যে সালাতের সংশোধনের জন্য কোনো কথা বলা যেমন, ইমাম কিরাত পড়তে ভুলে গেলে মুসল্লী কিরাত শুরু করে তাকে স্মরণ করে দেওয়া বা ইমাম সালাম ফিরিয়ে মুসল্লীদেরকে সালাত পূর্ণ হয়েছে কি-না জিজ্ঞেস করলে সালাত অপূর্ণ থাকলে মুসল্লীদের দ্বারা উত্তর দেওয়া এবং ইমাম কর্তৃক বাকী সালাত পূর্ণ করা ইত্যাদি সালাতের মধ্যে করলে ক্ষতি নাই। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথেই এ ঘটনা ঘটেছে।
«فَقَالَ لَهُ ذُو اليَدَيْنِ أَنَسِيتَ أَمْ قَصُرَتْ؟ فَقَالَ : «لَمْ أَنْسَ وَلَمْ تَقْصُرْ» فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَصْحَابِهِ : «أَحَقٌّ مَا يَقُولُ؟» قَالُوا : نَعَمْ، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ أُخْرَيَيْنِ، ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ»
‘যুলইয়াদাইন’ (দুই হাতাওয়ালা বা লম্বা হাতাওয়ালা) বলল, হে আল্লাহর নবী! আপনি কি ভুল করেছেন, না সালাত ছোট করা হয়েছে? তিনি বললেন, “আমি ভুলে যাইনি এবং (সালাত) ছোটও করা হয়নি”। তিনি সাহাবীগণকে জিজ্ঞেস করলেন, যুলইয়াদাইন কি ঠিক বলেছে? তারা বললেন, হ্যাঁ, ‘যুলইয়াদাইন’ সঠিক বলেছে। তারপর তিনি উঠে দাঁড়িয়ে বাকী দু’রাকা‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর দু’টি সাজদাহ করলেন”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬০৫১।]
৩- উল্লিখিত সালাতের কোনো রুকন বা শর্ত বাদ পড়লে যা সালাতের মধ্যে বা সালাতের পরে পূর্ণ করা সম্ভব নয়। কেননা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত ভুলকারীকে বলেছেন,
«ارْجِعْ فَصَلِّ، فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ»
“ফিরে গিয়ে আবার সালাত আদায় কর। কেননা, তুমি সালাত আদায় কর নি”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৫৭।]
কেননা উক্ত ব্যক্তি সালাত ধীরস্থিরতা ও সোজা হয়ে উঠা বসার রুকন ছেড়ে দিয়েছিল। তাই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পুনরায় সালাত আদায় করতে বলেছেন।
৪- সালাতে অতিরিক্ত কাজ করা। কেননা এ ধরণের অতিরিক্ত কাজ করলে ইবাদতে বিঘ্ন ঘটে। যেমন, ইবাদতের পরিপন্থী কোনো কাজ করা, অন্তর ও অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গ দ্বারা সালাত ব্যতীত অন্য কাজ করা। তবে সামান্য কাজ যেমন, ইশারায় সালামের উত্তর দেওয়া বা কাপড় ঠিক করা, হাত দ্বারা শরীর চুলকানো ইত্যাদি সালাত নষ্ট করে না।
৫- অট্টহাসি হাসলে সালাত নষ্ট হয়ে যায়। আলেমগণ এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তবে তাবাসসুম বা মুচকি হাসি হাসলে অনেক আলেমের মতে, তাতে সালাত নষ্ট হয় না।
৬- সালাতে ওয়াক্তের তারতীব তথা ধারাবাহিকতা রক্ষা না করা। যেমন, মাগরিব না পড়ে ইশা আদায় করা। এতে ইশার সালাত নষ্ট হয়ে যাবে। কেননা সালাত ওয়াক্তের তারতীব তথা ধারাবাহিকতা বজায় রাখা ফরয। কেননা হাদীসে এক ওয়াক্ত সালাতের পরে অন্য ওয়াক্ত সালাতের কথা ধারাবাহিকভাবে এসেছে।
৭- স্পষ্ট ভুল করা। যেমন, ইশার সালাত চার রাকা‘আতের পরিবর্তে আট রাকা‘আত পড়া। কেননা এতে প্রমাণ করে যে সে সালাত একাগ্র ছিল না, ফলে এ ধরণের বড় ভুল করেছে।