hadith book logo

ইসলামের রুকনসমূহের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

লেখকঃ কতিপয় ছাত্র • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫০

সালাত আদায়ের পদ্ধতি:

১- মুসলিমগণ সালাতের ওয়াক্ত হলে পবিত্র হয়ে সতর ঢেকে সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কিবলামুখী করে দাঁড়াবে।

২- যে ওয়াক্তের সালাত আদায় করবে মনে মনে সে ওয়াক্তের সালাতের নিয়ত করবে, মুখে উচ্চরণ করবে না।

৩- ‘আল্লাহু আকবর’ তথা তাকবীরে তাহরীমা বলে কাঁধ বরাবর হাত উঠিয়ে হাত বাঁধবে।

৪- বুকের উপর বা বুকের নিচে ও নাভীর উপরে বাম হাতের উপর ডান হাত বাঁধবে।

৫- অতঃপর ‘আউযুবিল্লাহ’ ও ‘বিসমিল্লাহ’ বলে সালাত শুরু করবে ও সূরা ফাতিহা পড়বে। সূরা ফাতিহা শেষ করে ‘আমীন’ বলবে।

৬- এরপরে অন্য একটি সূরা বা কুরআনের যেকোনো জায়গা থেকে তার জন্য যা সহজ হয় সেখান থেকে পড়বে।

৭- অতঃপর কাঁধ বরাবর হাত উঠিয়ে ‘আল্লাহু আকবর’ বলে রুকুতে যাবে। হাতের তালু দিয়ে হাঁটু ধরবে, পিঠ সামনে হেলিয়ে দিবে। পিঠ ও মাথা সমান রাখবে, উঁচু নিচু হবে না। হাতের আঙ্গুলসমূহ হাঁটুর উপর খোলা থাকবে।

৮- রুকুতে «سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ» (সুবহানা রাব্বিয়াল ‘আযীম) তিন বা ততোধিকবার বলবে।

৯- রুকু থেকে উঠার সময় سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ) বলে কাঁধ বরাবর হাত উঠাবে। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ (রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদ) বলবে।

১০- ‘আল্লাহু আকবর’ বলে সাজদায় যাবে। সাত অঙ্গে সাজদাহ দিবে। তা হলো: নাক, কপাল, দু হাতের তালু, দু হাঁটু, দু পায়ের আঙ্গুলসমূহ। সাজদাহর সময় খেয়াল রাখবে হবে যে, নাক ও কপাল যেন মাটিতে লেগে থাকে, দু হাতের কনুই যেন শরীরের সাথে লেগে না থাকে বা জমিনে বিছিয়ে না থাকে; বরং মাটি ও শরীরে লেগে থাকা অবস্থা থেকে সরিয়ে নিয়ে প্রসারিত করে ফাঁক রাখবে। আর হাতের আঙুলসমূহ কিবলামুখী করে রাখবে।

১১- সাজদায় তিন বা ততোধিক বার «سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى» (সুবহানা রাব্বিয়াল আ‘লা) বলবে।

১২- ‘আল্লাহু আকবর’ বলে সাজদাহ থেকে মাথা উঠিয়ে বাম পা বিছিয়ে তাতে বসবে ও ডান পায়ের আঙ্গুলসমূহ খাড়া করে রাখবে। বসে «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَعَافِنِي، وَاهْدِنِي، وَارْزُقْنِي» এ দো‘আ পড়বে।

১৩- অতঃপর দ্বিতীয় সাজদাহ দিবে। একইভাবে সাজদাহ শেষে দাঁড়িয়ে সূরা ফাতিহা পড়ে অন্য সূরা মিলিয়ে যথারীতি রুকু সাজদাহ করে দ্বিতীয় রাকা‘আত শেষ করবে। দু রাকা‘আত বিশিষ্ট সালাত হলে দ্বিতীয় রাকা‘আত শেষে তাশাহহুদের জন্য বসে তাশাহহুদ, দুরূদ ও দো‘আ পড়ে السلام عليكم ورحمة الله (আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ) বলে প্রথমে ডানে সালাম ফিরাবে, অতঃপর বাম দিকে একইভাবে সালাম ফিরাবে।

১৪- আর দুয়ের অধিক রাকা‘আতবিশিষ্ট সালাত হলে প্রথক বৈঠক শেষে আত্তাহিয়্যাতু শেষ করে আবার দাঁড়াবে, তাকবীরের সাথে কাঁধ বরাবর হাত উঠাবে। অতঃপর যথারীতি সালাতের অবশিষ্ট রাকা‘আতে শুধু সূরা ফাতিহা পড়বে। উপরে বর্ণিত নিয়মানুযায়ী সালাতের বাকী অংশ শেষ করে ‘তাওয়ারুক’ পদ্ধতিতে বসবে। আর তা হলো: শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের সময় বাম পা এগিয়ে দিয়ে ডান পা খাড়া করে নিতম্বের উপর বসা।

হাত রানের উপর রাখবে, অতঃপর তাশাহহুদ, দুরূদ, কিছু দো‘আয় মাসূরা যেমন, জাহান্নাম, কবরের ‘আযাব, জীবন-মৃত্যু ফিতনা ও দাজ্জালের ফিতনা থেকে পানাহ চাওয়া।

১৬- অতঃপর আওয়াজ করে السلام عليكم ورحمة الله (আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ) বলে প্রথমে ডানে সালাম ফিরাবে, অতঃপর বাম দিকে সালাম ফিরাবে।