hadith book logo

ইসলামের রুকনসমূহের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

লেখকঃ কতিপয় ছাত্র • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪

ফায়েদা: পানির প্রকারভেদ:

১- স্বাভাবিক পানি: ইতোপূর্বে স্বাভাবিক পানির সংজ্ঞা ও হুকুম আলোচনা করা হয়েছে। এ পানি নিজে পবিত্র ও অন্য কিছুকেও পবিত্র করতে পারে।

২- ব্যবহৃত পানি: তা হলো অযু বা গোসলকারীর অঙ্গ স্পর্শ করে পতিত হওয়া পানি। এ পানির হুকুম হলো, পবিত্রতা অর্জনের জন্য স্বাভাবিক পানির মতো এ পানি ব্যবহার করা যাবে। কেননা এ পানি মূলত পবিত্র। হাদীসে এসেছে,

«أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَسَحَ بِرَأْسِهِ مِنْ فَضْلِ مَاءٍ كَانَ فِي يَدِهِ»

“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাতের অতিরিক্ত পানি দ্বারা মাথা মাসাহ করেন”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ১৩০। ‬ আলবানী রহ. হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।]

৩-যে পানির সাথে পবিত্র বস্তু মিশ্রিত হয়েছে: যেমন, সাবান, গাছের পাতা ইত্যাদি যা আলাদা করা যায়। এ পানির হুকুম হলো, যতক্ষণ এটাকে স্বাভাবিক পানি বলা যায় ততক্ষণ তা পবিত্র। অর্থাৎ এগুলো যদি পানিকে এমন পরিবর্তন করে না দেয় যার কারণে পানিকে পানি বলে অভিহিত করা যায় না, তাহলে তা পবিত্র।

৪- এমন পানি যার সাথে নাপাকি মিশ্রিত হয়েছে: এ পানির দু অবস্থা:

প্রথমত: নাজাসাত যদি পানির স্বাদ, রং ও গন্ধ পরিবর্তন করে দেয় তবে সকল আলেমের মতে, এ পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা জায়েয হবে না।

দ্বিতীয়ত: পানি তার স্বাভাবিক অবস্থাতে বিদ্যমান আছে, এর তিন গুণের কোনো গুণ পরিবর্তন করে দেয় নি। তাহলে এ পানি পবিত্র ও এ পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা যাবে। চাই পানির পরিমান বেশি হোক বা কম হোক। কেননা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«الْمَاءُ طَهُورٌ، لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ»

“পানি স্বাভাবিকভাবে পবিত্র, কোনো কিছু একে অপবিত্র করতে পারে না”। [মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ১১২৫৭। শু‘আইব আরনাউত বলেছেন, হাদীসটি বিভিন্ন শাহেদের ভিত্তিতে সহীহ।]