hadith book logo

ইসলামের রুকনসমূহের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

লেখকঃ কতিপয় ছাত্র • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৫

সালাতে মাকরূহসমূহ:

১- আকাশের পানে তাকানো। কেননা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«مَا بَالُ أَقْوَامٍ يَرْفَعُونَ أَبْصَارَهُمْ إِلَى السَّمَاءِ فِي صَلاَتِهِمْ»، فَاشْتَدَّ قَوْلُهُ فِي ذَلِكَ، حَتَّى قَالَ : «لَيَنْتَهُنَّ عَنْ ذَلِكَ أَوْ لَتُخْطَفَنَّ أَبْصَارُهُمْ»

“লোকদের কি হয়েছে যে, তারা চক্ষু আকাশের দিকে তাকিয়ে সালাত আদায় করছে? এ সম্পর্কে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করে তিনি বলেন, তারা অবশ্যই যেন উপরের দিকে দৃষ্টিপাত করা থেকে বিরত থাকে। অন্যথায় তাদের চক্ষুসমূহ ছিনিয়ে নেওয়া হবে”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৫০। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪২৮।]

২- কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়ানো। যিয়াদ ইবন সুবাইহ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার আমি ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর পিছনে দাঁড়িয়ে সালাত পড়ছিলাম। এ সময় আমি আমার হস্তদ্বয়কে কোমরের দুই পাশে স্থাপন করি। এতদ্দর্শনে সালাত শেষে তিনি আমাকে বলেন,

«هَذَا الصَّلْبُ فِي الصَّلَاةِ، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْهَى عَنْهُ»

“সালাতের সাথে এরূপ দণ্ডায়মান হওয়া শূলিকাষ্ঠের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে দাঁড়াতে নিষেধ করেছেন”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ৯০৩। ‬ আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।]

৩- প্রয়োজন ব্যতীত মাথা বা চোখ এদিক সেদিক হেলানো ও তাকানো। ‘আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাতের মধ্যে (ঘাড় ফিরিয়ে) এদিক ওদিক তাকানোর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করি। জবাবে তিনি বলেন,

«هُوَ اخْتِلاَسٌ يَخْتَلِسُهُ الشَّيْطَانُ مِنْ صَلاَةِ العَبْدِ»

“এটি শয়তানের ছোঁ মারা, সে মানুষের সালাত থেকে কিছু অংশ ছো মেরে নিয়ে যায়”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৫১।]

৪- অনর্থক কাজ করা বা এমন কাজ করা যা সালাত খুশু‘ (একাগ্রচিত্ত) নষ্ট হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«اسْكُنُوا فِي الصَّلَاةِ»

“তোমরা সালাতের মধ্যে শান্ত থাকবে”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৩০।]

৫- মুসল্লী তার চুল, জামার হাতা বা জামার ওপর সাজদাহ দেওয়া। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«أُمِرْتُ أَنْ أَسْجُدَ عَلَى سَبْعَةِ أَعْظُمٍ، وَلَا أَكُفَّ ثَوْبًا وَلَا شَعْرًا»

“আমাকে সাতটি হাড়ের সাহায্যে সাজদাহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং মাথার চুল ও কাপড় ধরে রাখতে নিষেধ করা হয়েছে”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৯০।]

৬- একাধিকবার সাজদাহর স্থান থেকে পাথরকণা বা মাটি সরিয়ে সমান করা। মু‘আইকীব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মসজিদের মধ্যে অর্থাৎ সালাতরত অবস্থায় পাথর-টুকরা সরানো সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন,

«إِنْ كُنْتَ فَاعِلًا فَوَاحِدَةً»

“যদি তোমাকে এরূপ (পাথর টুকরা সরানোর কাজ) করতেই হয়, তাহলে একবার মাত্র করতে পারো”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৪৬।]

৭- সদল করে (তথা মাথার উপর থেকে দু’ কাধের উপর কিছু না রাখা মাটির দিকে প্রলম্বিত কাপড় পরিধান করে) সালাত আদায় করা ও সালাতে মুখ ঢেকে রাখা। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

«نَهَى رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم عَنِ السَّدْلِ فِي الصَّلَاةِ وَأَنْ يُغَطِّيَ الرَّجُلُ فَاهُ»

“রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সদল করে সালাত পড়তে নিষেধ করেছেন এবং সালাতের সময় মুখ ঢাকতেও নিষেধ করেছেন”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ৬৪৩। ‬ আলবানী রহ. হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।]

৮- খাবার সামনে নিয়ে সালাত আদায় করা। কেননা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«لَا صَلَاةَ بِحَضْرَةِ الطَّعَامِ»

“খাবার হাযির হলে কোনো সালাত পড়া চলবে না”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৬০।]

৯- পায়খানা-পেশাবের বেগ নিয়ে সালাত আদায় করা। কেননা উপরোক্ত হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«لَا صَلَاةَ بِحَضْرَةِ الطَّعَامِ، وَلَا هُوَ يُدَافِعُهُ الْأَخْبَثَانِ [ الْأَخْبَثَانِ অর্থ পায়খানা পেশাব।]»

“খাবার হাযির হলে কোনো সালাত পড়া চলবে না। কিংবা পায়খানা পেশাবের বেগ নিয়েও সালাত পড়া চলবে না। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৬০।]

১০- প্রচণ্ড ঘুম পেলে সালাত আদায় করা। কেননা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«إِذَا نَعَسَ أَحَدُكُمْ وَهُوَ يُصَلِّي فَلْيَرْقُدْ، حَتَّى يَذْهَبَ عَنْهُ النَّوْمُ، فَإِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا صَلَّى وَهُوَ نَاعِسٌ، لاَ يَدْرِي لَعَلَّهُ يَسْتَغْفِرُ فَيَسُبُّ نَفْسَهُ»

“সালাত আদায়ের অবস্থায় তোমাদের কারো যদি তন্দ্রা আসে তবে সে যেন ঘুমের রেশ কেটে না যাওয়া পর্যন্ত ঘুমিয়ে নেয়। কারণ, তন্দ্রাবস্থায় সালাত আদায় করলে সে জানতে পারবে না, হয়ত সে ক্ষমা চাইতে গিয়ে নিজেকে গালি দিয়ে বসবে। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২১২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৮৬।]