hadith book logo

ইসলামের রুকনসমূহের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

লেখকঃ কতিপয় ছাত্র • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭০

অসুস্থ ব্যক্তির সালাত

১-অসুস্থ ব্যক্তিকে যথাযম্ভব দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে হবে। দাঁড়াতে সক্ষম না হলে দেওয়াল বা খুঁটি বা লাঠির সাথে হেলান দিয়ে বা ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে।

২-একেবারেই দাঁড়াতে সক্ষম না হলে বসে সালাত আদায় করবে। দাঁড়ানো ও রুকুর স্থানে চারজানু হয়ে বসা আর সাজদাহর সময় মুফতারিশ তথা বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসা ও ডান পা খাড়া করে রাখা উত্তম।

৩- বসে সালাত আদায় করতে সক্ষম না হলে কিবলামুখী হয়ে কাত হয়ে শুয়ে সালাত আদায় করবে। ডান কাতে সালাত আদায় করা বাম কাতের চেয়ে উত্তম। আর যদি কিবলামুখী হওয়া সম্ভব না হয় তবে যেদিকে সম্ভব সেদিকে ফিরে সালাত আদায় করবে। তাকে পুনরায় এ সালাত আদায় করতে হবে না।

৪-কাত হয়ে শুয়ে সালাত আদায় করতে সক্ষম না হলে চিৎ হয়ে পা কিবলামুখী করে সালাত আদায় করবে। মাথা কিবলামুখী করতে উঁচু করা উত্তম। পা কিবলামুখী করতে সক্ষম না হলে যেভাবে সম্ভব সেভাবে আদায় করবে। তাকে পুনরায় এ সালাত আদায় করতে হবে না।

৫- অসুস্থ ব্যক্তিকে রুকু ও সাজদাহ করতে হবে। রুকু ও সাজদাহ করতে সক্ষম না হলে মাথার ইশারায় করবে। রুকুর চেয়ে সাজদাহ একটু বেশি হেলে পড়বে। শুধু রুকু করতে সক্ষম হলে ও সাজদাহ করতে অক্ষম হলে রুকুর সময় রুকু করবে আর সাজদাহর সময় ইশারা করবে। আর যদি সাজদাহ করতে সক্ষম হয়; কিন্তু রুকু করতে অক্ষম তখন সাজদাহর সময় সাজদাহ দিবে আর রুকুর সময় ইশারা করবে।

৬- রুকু সাজদায় মাথা দ্বারা ইশারা দিতে অক্ষম হলে চোখের পাতা দিয়ে ইশারা দিবে। অর্থাৎ রুকুতে চোখ অল্প বন্ধ করবে আর সাজদায় বেশি পরিমাণ বন্ধ করবে। অন্যদিকে আঙ্গুলের দ্বারা যেসব অসুস্থ ব্যক্তি ইশারা দিয়ে থাকেন তা আসলে সহীহ নয়। কুরআন, সুন্নাহ বা আহলে ইলমের থেকে এ ব্যাপারে কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না।

৭- মাথা দ্বারা ইশারা বা চোখের দ্বারাও যদি ইশারা দিতে না পারে তবে মনে মনে সালাত আদায় করবে। অর্থাৎ রুকু, সাজদাহ, দাঁড়ানো, বসা ও অন্যান্য রুকনের নিয়ত মনে মনে করবে ও ক্রমান্বয়ে সালাতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এভাবে করবে ও সালাত শেষ করবে।

৮- প্রত্যেক অসুস্থ মুসল্লির উচিত যথাযম্ভব ওয়াক্ত মতো সালাত আদায় করা। সময় শেষ করে সালাত আদায় করা জায়েয নেই। যদি অযু বা তায়াম্মুম করতে কষ্টকর হয় তবে মুসাফিরের ন্যায় দু ওয়াক্তের সালাত একত্রে করে পড়া জায়েয।

৯- যদি সব ওয়াক্তের সালাত ওয়াক্ত মতো আদায় করা তার জন্য বেশি কষ্টকর হয় তবে ‘জমা‘ বাইনাস সালাতাইন’ বা যোহর ও আসর এবং মাগরিব ও ইশা একত্রে আগে বা পরে পড়া জায়েয। ইচ্ছা করলে যোহরের সময় যোহর ও আসর একত্রে বা আসরের সময় যোহর ও আসর একত্রে এবং মাগরিবের সময় মাগরিব ও ইশা একত্রে বা ইশার সময় ইশা ও মাগরিব একত্রে পড়া জায়েয। অন্যদিকে ফজরের সালাতে কোনো জমা বা একত্রিকরণ নেই। কেননা ফজরের সালাতের সময় অন্যান্য সালাতের সময় থেকে আলাদা। এর আগে পরে কোনো সালাত নেই। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

﴿أَقِمِ ٱلصَّلَوٰةَ لِدُلُوكِ ٱلشَّمۡسِ إِلَىٰ غَسَقِ ٱلَّيۡلِ وَقُرۡءَانَ ٱلۡفَجۡرِۖ إِنَّ قُرۡءَانَ ٱلۡفَجۡرِ كَانَ مَشۡهُودٗا ٧٨﴾ [ الاسراء : ٧٨ ]

“সূর্য হেলে পড়ার সময় থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত সালাত কায়েম কর এবং ফজরের কুরআন। [‘ফজরের কুরআন’ দ্বারা উদ্দেশ্য ফজরের সালাত।] নিশ্চয় ফজরের কুরআন(ফিরিশতাদের) উপস্থিতির সময়”। [সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৭৮]