১
ইসলামের রুকনসমূহের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
লেখকঃ কতিপয় ছাত্র • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৮১
যেসব মালের যাকাত নেই:
১- ফলমূল ও শাকসবজি: শরী‘আতে এসব মালের যাকাত সাব্যস্ত নেই। তবে এর থেকে কিছু গরীব মিসকীনকে দান করা মুস্তাহাব। কেননা এসব মালের যাকাত কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতের মধ্যে সাধারণভাবে শামিল। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَنفِقُواْ مِن طَيِّبَٰتِ مَا كَسَبۡتُمۡ وَمِمَّآ أَخۡرَجۡنَا لَكُم مِّنَ ٱلۡأَرۡضِۖ ٢٦٧﴾ [ البقرة : ٢٦٧ ]
“হে মুমিনগণ, তোমরা ব্যয় কর উত্তম বস্তু, তোমরা যা অর্জন করেছ এবং আমি জমিন থেকে তোমাদের জন্য যা উৎপন্ন করেছি তা থেকে”। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৬৭]
২- দাস-দাসী, ঘোড়া, খচ্চর ও গাধার যাকাত নেই। কেননা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«لَيْسَ عَلَى المُسْلِمِ فِي فَرَسِهِ وَغُلاَمِهِ صَدَقَةٌ»
“মুসলিমের ওপর তার ঘোড়া ও গোলামের কোনো যাকাত নেই”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৪৬৩।]
এছাড়া রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খচ্চর ও গাধার যাকাত গ্রহণ করেছেন বলে কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না।
৩- নিসাব পরিমাণ পূর্ণ না হলে যাকাত ফরয নয়। তবে সম্পদের মালিক ইচ্ছা করলে দান করতে পারেন। কেননা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ مِنَ صَدَقَةٌ، وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ مِنَ الوَرِقِ صَدَقَةٌ، وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ ذَوْدٍ مِنَ الإِبِلِ صَدَقَةٌ»
“পাঁচ উকিয়া (এক উকিয়া চল্লিশ দিরহাম পরিমাণ, ৫ উকিয়া x ৪০ = ২০০ দিরহাম সমান) পরিমাণের কম সম্পদের ওপর যাকাত নেই; পাঁচ ওসাক (এক ওসাক ৬০ সা‘-এর সমান, ৫ ওসাক x ৬০= ৩০০ সা‘।) এর কম উৎপন্ন দ্রব্যের ওপর যাকাত নেই এবং পাঁচটি উটের কমের ওপর যাকাত নেই”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৪০৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯৭৯।]
৪- ব্যবসায়িক পণ্য যা সংরক্ষণের জন্য রাখা হয়েছে; ব্যবসার জন্য নয়, এতে যাকাত নেই। যেমন: বিছানাপত্র, ঘর-বাড়ি, কল-কারখানা ও গাড়ি।
৫- ব্যবহৃত মূল্যবান অলংকার যেমন, পান্না, মণিমুক্তা, নীলকান্তমণি ও অন্যান্য গহনাদির কোনো যাকাত নেই। তবে এগুলো যদি ব্যবসার জন্য হয় তবে এতে ব্যবসার মালের মতো যাকাত দিতে হবে।
৬- শুধু সৌন্দর্য্যের ব্যবহৃত মহিলাদের অলংকারে যাকাত নেই। কিন্তু সৌন্দর্য্যের সাথে যদি প্রয়োজনের সময় কাজে লাগবে বলে গচ্ছিত করে রাখার হয় তবে এতে গচ্ছিত সম্পদের মতো যাকাত আসবে। তা সত্বেও অধিক তাকওয়া অবম্বলনে নারীর অলংকারে সর্বাবস্থায় যাকাত আদায় করা উত্তম। কেননা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন,
«دَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَأَى فِي يَدَيَّ فَتَخَاتٍ مِنْ وَرِقٍ، فَقَالَ : «مَا هَذَا يَا عَائِشَةُ؟»، فَقُلْتُ : صَنَعْتُهُنَّ أَتَزَيَّنُ لَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ : «أَتُؤَدِّينَ زَكَاتَهُنَّ؟»، قُلْتُ : لَا، أَوْ مَا شَاءَ اللَّهُ، قَالَ : «هُوَ حَسْبُكِ مِنَ النَّارِ»
“রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আমার ঘরে আসলেন। তখন তিনি আমার হাতে রুপার তৈরি আংটি দেখতে পেলেন। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, এটি কী হে আয়েশা? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনার জন্য আমি নিজেকে সজ্জিত করতে এটি তৈরি করেছি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি এর যাকাত আদায় করো? আমি বললাম, না। অথবা আল্লাহ যা চাইলেন তা বললাম। তিনি (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার জাহান্নামে যাওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ১৫৬৫। আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।]
﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَنفِقُواْ مِن طَيِّبَٰتِ مَا كَسَبۡتُمۡ وَمِمَّآ أَخۡرَجۡنَا لَكُم مِّنَ ٱلۡأَرۡضِۖ ٢٦٧﴾ [ البقرة : ٢٦٧ ]
“হে মুমিনগণ, তোমরা ব্যয় কর উত্তম বস্তু, তোমরা যা অর্জন করেছ এবং আমি জমিন থেকে তোমাদের জন্য যা উৎপন্ন করেছি তা থেকে”। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৬৭]
২- দাস-দাসী, ঘোড়া, খচ্চর ও গাধার যাকাত নেই। কেননা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«لَيْسَ عَلَى المُسْلِمِ فِي فَرَسِهِ وَغُلاَمِهِ صَدَقَةٌ»
“মুসলিমের ওপর তার ঘোড়া ও গোলামের কোনো যাকাত নেই”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৪৬৩।]
এছাড়া রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খচ্চর ও গাধার যাকাত গ্রহণ করেছেন বলে কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না।
৩- নিসাব পরিমাণ পূর্ণ না হলে যাকাত ফরয নয়। তবে সম্পদের মালিক ইচ্ছা করলে দান করতে পারেন। কেননা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ مِنَ صَدَقَةٌ، وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ مِنَ الوَرِقِ صَدَقَةٌ، وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ ذَوْدٍ مِنَ الإِبِلِ صَدَقَةٌ»
“পাঁচ উকিয়া (এক উকিয়া চল্লিশ দিরহাম পরিমাণ, ৫ উকিয়া x ৪০ = ২০০ দিরহাম সমান) পরিমাণের কম সম্পদের ওপর যাকাত নেই; পাঁচ ওসাক (এক ওসাক ৬০ সা‘-এর সমান, ৫ ওসাক x ৬০= ৩০০ সা‘।) এর কম উৎপন্ন দ্রব্যের ওপর যাকাত নেই এবং পাঁচটি উটের কমের ওপর যাকাত নেই”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৪০৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯৭৯।]
৪- ব্যবসায়িক পণ্য যা সংরক্ষণের জন্য রাখা হয়েছে; ব্যবসার জন্য নয়, এতে যাকাত নেই। যেমন: বিছানাপত্র, ঘর-বাড়ি, কল-কারখানা ও গাড়ি।
৫- ব্যবহৃত মূল্যবান অলংকার যেমন, পান্না, মণিমুক্তা, নীলকান্তমণি ও অন্যান্য গহনাদির কোনো যাকাত নেই। তবে এগুলো যদি ব্যবসার জন্য হয় তবে এতে ব্যবসার মালের মতো যাকাত দিতে হবে।
৬- শুধু সৌন্দর্য্যের ব্যবহৃত মহিলাদের অলংকারে যাকাত নেই। কিন্তু সৌন্দর্য্যের সাথে যদি প্রয়োজনের সময় কাজে লাগবে বলে গচ্ছিত করে রাখার হয় তবে এতে গচ্ছিত সম্পদের মতো যাকাত আসবে। তা সত্বেও অধিক তাকওয়া অবম্বলনে নারীর অলংকারে সর্বাবস্থায় যাকাত আদায় করা উত্তম। কেননা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন,
«دَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَأَى فِي يَدَيَّ فَتَخَاتٍ مِنْ وَرِقٍ، فَقَالَ : «مَا هَذَا يَا عَائِشَةُ؟»، فَقُلْتُ : صَنَعْتُهُنَّ أَتَزَيَّنُ لَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ : «أَتُؤَدِّينَ زَكَاتَهُنَّ؟»، قُلْتُ : لَا، أَوْ مَا شَاءَ اللَّهُ، قَالَ : «هُوَ حَسْبُكِ مِنَ النَّارِ»
“রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আমার ঘরে আসলেন। তখন তিনি আমার হাতে রুপার তৈরি আংটি দেখতে পেলেন। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, এটি কী হে আয়েশা? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনার জন্য আমি নিজেকে সজ্জিত করতে এটি তৈরি করেছি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি এর যাকাত আদায় করো? আমি বললাম, না। অথবা আল্লাহ যা চাইলেন তা বললাম। তিনি (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার জাহান্নামে যাওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ১৫৬৫। আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।]