hadith book logo

ইসলামের রুকনসমূহের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

লেখকঃ কতিপয় ছাত্র • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১১৭

রমযানে যেসব কাজ করা বৈধ:

রমযান মাসে দিনের বেলায় নিম্নোক্ত কাজ করা বৈধ:

১-পানিতে নামা, ডুবানো, পানিতে শরীর ঠাণ্ডা করা। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন,

«أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ «يُدْرِكُهُ الفَجْرُ وَهُوَ جُنُبٌ مِنْ أَهْلِهِ، ثُمَّ يَغْتَسِلُ، وَيَصُومُ»

“নিজ নিজ স্ত্রীর সাথে মিলনজনিত জুনূবী অবস্থায় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফজরের সময় হয়ে যেতো। তখন তিনি গোসল করতেন এবং সাওম পালন করতেন”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯৩৬।]

তাছাড়া রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই সাওম অবস্থায় মাথায় ঠাণ্ডা পানি দিয়েছেন।

«قَالَ أَبُو بَكْرٍ : قَالَ : الَّذِي حَدَّثَنِي لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْعَرْجِ يَصُبُّ عَلَى رَأْسِهِ الْمَاءَ، وَهُوَ صَائِمٌ مِنَ الْعَطَشِ، أَوْ مِنَ الْحَرِّ»

“আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, উক্ত ব্যক্তি আমাকে বর্ণনা করেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আরজ’ নামক স্থানে এমতাবস্থায় দেখি যে, তিনি সায়িম অবস্থায় তৃষ্ণার্ত হওয়ার কারণে গরমের ফলে স্বীয় মস্তকে পানি ঢালছিলেন। [আবু দাউদ, হাদীস নং ২৩৬৫। ‬ আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।]

২- জুনুবী অবস্থায় সকাল করা। কেননা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটি করেছেন যা পূর্বোল্লিখিত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। আর তা ছিল রমযানের সাওমে।

৩- সুবহে সাদিক স্পষ্টভাবে উদিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত পানাহার ও স্ত্রী সহবাস করা। কেননা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«إِنَّ بِلاَلًا يُنَادِي بِلَيْلٍ، فَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يُنَادِيَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ»

“বিলাল রাতে আযান দিয়ে থাকেন। কাজেই তোমরা (সাহরী) পানাহার করতে থাক; যতক্ষণ না ইবন উম্মে মাকতুম আযান দেয়”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬২০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০৯২।]

৪- রাতের বেলায় হায়েয ও নিসাফ শেষ হলে সকাল পর্যন্ত গোসলে বিলম্ব করা জায়েয এবং এমতাবস্থায় সাওম পালন করা সঠিক হবে, অতঃপর গোসল করে পবিত্র হয়ে সালাত আদায় করবে।

৫- জমহুর আলেমের মতে, দিনের যে কোনো সময় মিসওয়াক করা জায়েয। কেননা মিসওয়াক সম্পর্কিত হাদীসসমূহ ‘আম, কোনো সময়কে খাস করে নি। যেসব হাদীস সায়িম অবস্থায় শেষবেলায় মিসওয়াক করা মাকরূহ বলেছে আলেমগণ সেসব হাদীসকে দ‘য়ীফ বলেছেন।

৬- বৈধকাজে সফর করা জায়েয; যদিও এ সফরের কারণে সাওম ভঙ্গ করতে হয়।

৭- মুখের ভিতরে না গেলে সেসব ঔষধ গ্রহণ করা জায়েয। যেমন: খাদ্য হিসেবে গ্রহণীয় নয় এমন ইনজেকশন নেওয়া জায়েয।

৮- মুখের ভিতরে না যাওয়ার শর্তে খাদ্যদ্রব্য চর্বন করা ও স্বাদ দেখা জায়েয।

৯- আতর, সুগন্ধি, আগরবাতির ধোঁয়া ও সুগন্ধির ঘ্রাণ নেওয়া জায়েয।