hadith book logo

ইসলামের রুকনসমূহের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

লেখকঃ কতিপয় ছাত্র • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৫১

হজের সারসংক্ষেপ

১- যিলহজের আট তারিখ হাজী যে স্থানে অবস্থান করছে সে স্থান থেকেই ইহরাম বাঁধবে, ইহরামের কাপড় পরিধান করবে এবং হজের নিয়ত করে বলবে:

» لبيك اللهم حجاً »

“হে আল্লাহ, হজ আদায়ের জন্য আমি হাযির।

এরপর মিনার উদ্দেশে রওয়ানা হবে। সেখানে গিয়ে যোহর, আসর, মাগরিব, ‘ইশা ও পরের দিন ফজরের সালাত আদায় করবে। প্রতি সালাত তার সুনির্দিষ্ট সময়েই আদায় করবে। তবে চার রাকা‘আত বিশিষ্ট সালাত কসর করে পড়বে।

২- যিলহজের নয় তারিখ সূর্যোদয়ের পর ‘আরাফার উদ্দেশে রওয়ানা হবে। ‘আরাফায় গিয়ে একই আযান ও দু ইকামতে যোহর ও আসরের সালাত যোহরের সময় পরপর কসর করে পড়বে। তবে সে আরাফার সীমানায় আছে কি না তা নিশ্চিত হতে হবে।

৩- সূর্যাস্ত সম্পন্ন হলে শান্তভাবে মুযদালিফার দিকে রওয়ানা হবে। মুযদালিফায় গিয়ে একই আযান ও দু ইকামতে মাগরিব ও ‘ইশার সালাত একসাথে আদায় করবে। ‘ইশার সালাত কসর করে দু রাকা‘আত আদায় করবে। তারপর মুযদালিফায় অবস্থান করে রাত যাপন করবে। সেখানে ফজরেরে সালাত আদায় করবে এবং মাশ‘আরে হারামের কাছে যিকির ও দো‘আয় মশগুল থাকবে। তবে সমস্যাগ্রস্তদের জন্য মধ্য রাত্রির পর সেখান থেকে চলে যাওয়া বৈধ।

৪- ঈদের দিনে সূর্যোদয়ের পূর্বেই মিনার দিকে রওয়ানা হবে। মিনায় পৌঁছার পর জামরায়ে আকাবা তথা বড় জামরায় যাবে। বড় জামরাকে লক্ষ্য করে সাতটি কঙ্কর মারবে। একটির পর একটি বিরতিহীনভাবে মারবে। প্রতিটি কঙ্করের সাথে তাকবির দেবে।

৫- ঈদের দিন ও এরপরের তিনদিন মিনা বা মক্কায় হাদী যবেহ করবে যদি হাদী যবেহ করা আবশ্যক হয়ে থাকে। হাদীর গোশত নিজে খাবে, হাদীয়া দিবে ও দান করবে। হাদী আবশ্যক হওয়া সত্বেও যবেহ করার সামর্থ্য না থাকলে হজের তিনদিন সাওম পালন করবে এবং বাড়ি ফিরে বাকী সাতদিন সাওম পালন করবে।

৬- অতঃপর মাথার চুল মুণ্ডাবে অথবা ছোট করবে। এ সবের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে নিষেধাজ্ঞামুক্ত হয়ে যাবে, অতঃপর স্বামী-স্ত্রীর মিলন ব্যতীত ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ অন্যসব বিষয় হালাল হয়ে যাবে।

৭- এরপর মক্কায় ফিরে যাবে ও তাওয়াফে ইফাদা তথা হজের ফরয তাওয়াফ সম্পন্ন করবে। তামাত্তু হজকারী হলে সাফা-মারওয়ার সা‘ঈও করবে। তামাত্তু হজকারী না হলেও সাফা-মারওয়ার সা‘ঈ করবে যদি তাওয়াফে কুদূমের সাথে সা‘ঈ করে না থাকে। এর মাধ্যমে হাজী পূর্ণাঙ্গরূপে নিষেধাজ্ঞামুক্ত হয়ে যাবে। এটা সম্পন্ন করার পর তার জন্য ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ সকল বিষয় হালাল হয়ে যাবে; এমনকি স্বামী-স্ত্রী সহবাসও হালাল হয়ে যাবে।

৮- এরপর মিনায় ফিরে আসবে এবং সেখানে আইয়ামুত তাশরিকের দিনগুলোর রাত যাপন করবে। প্রতিদিন ছোট, মধ্যম, বড় এ তিন জামরার প্রতিটিতে কঙ্কর নিক্ষেপ করবে।

৯- মক্কা ছেড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে বিদায়ী তাওয়াফের জন্য মক্কায় যাবে এবং সা‘ঈ ব্যতীত মক্কায় সাত তাওয়াফ করে সাথে সাথে বিদায় নিবে।