hadith book logo

ইসলামের রুকনসমূহের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

লেখকঃ কতিপয় ছাত্র • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮৯

৮- খনিজ সম্পদের যাকাত:

খনিজ সম্পদটি যদি সোনা বা রুপা হয় এবং নিসাব পরিমাণ হয় তবে তা উত্তোলনের সময়ই সোনা রুপার যাকাতের পরিমাণ অনুযায়ী (২.৫%) যাকাত আদায় করবে। এতে একবছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয়; বরং ফসলের যাকাতের ন্যায় যখনই উত্তোলন করা হবে তখনই যাকাত দিবে। এতে কি ২.৫% নাকি ২০% হারে যাকাত আদায় করবে সে ব্যাপারে আলেমদের মতানৈক্য রয়েছে। কেউ কেউ এতে গুপ্তধনের ন্যায় ২০% হারে যাকাত আদায় করার মত দিয়েছেন। আর যারা ২.৫% হারে যাকাত আদায় করার মত দিয়েছেন তারা সোনা রুপার যাকাত ফরয হওয়ার হাদীসের সাধারণ অর্থের দিকে কিয়াস করে ২.৫% হারে যাকাত আদায় করার মত ব্যক্ত করেছেন। এটি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিন্মোক্ত বাণী থেকে নেওয়া হয়েছে,

«لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ صَدَقَةٌ»

“পাঁচ উকিয়া (এক উকিয়া চল্লিশ দিরহাম পরিমাণ, ৫ উকিয়া x ৪০=২০০ দিরহাম সমান) পরিমাণের কম সম্পদের ওপর যাকাত নেই”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৪০৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯৭৯।]

এ হাদীসে খনিজ ও অনান্য সব সম্পদকে শামিল করেছে। তবে বিষয়টিতে প্রশস্তি রয়েছে। (অর্থাৎ যে কোনো মতই গ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে)

আর খনিজ সম্পদটি যদি সোনা রুপা না হয়ে অন্য কিছু হয়, যেমন: লোহা, পিতল, তেল, জ্বালানি বা অন্য কিছু ততে তাতে ২.৫% হারে যাকাত দেওয়া মুস্তাহাব। কেননা এ ব্যাপারে হাদীসে সরাসরি কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না। আর এগুলো সোনা বা রুপাও নয় যে এর ওপর যাকাত ফরয বলা যাবে।