hadith book logo

ইসলামের রুকনসমূহের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

লেখকঃ কতিপয় ছাত্র • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৫৩

মসজিদে নববী যিয়ারত

মসজিদে নববী যিয়ারত সুন্নত। এর কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। হজের রুকন, শর্ত অথবা ওয়াজিবের মধ্যে শামিল নয়। এটি হজের কোনো পরিপূর্ণতাও নয়; বরং যিয়ারত করা সুন্নত। কেউ হজ পালন করতে এসে মসজিদে নববী যিয়ারত করতে সক্ষম না হলেও তার হজ পূর্ণ ও সহীহ হবে। মসজিদে নববী যিয়ারত করার কতিপয় আদব রয়েছে। সংক্ষেপে সেগুলো হলো:

১- মদীনা ও মসজিদে নববী যিয়ারতের উদ্দেশ্য হতে হবে মসজিদে নববীতে সালাত আদায় করা। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কবর যিয়ারত উদ্দেশ্য হলে শুদ্ধ হবে না। তবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর যিয়ারত মসজিদে নববী যিয়ারতের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। এজন্য আলাদা নিয়ত করার প্রয়োজন নেই।

২- যখন যিয়ারতকারী মসজিদে নববীতে পৌঁছবে, ডান পা আগে দেবে ও বলবে,

«بِسْمِ اللَّهِ، وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي وَافْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ»

“আল্লাহর নামে (প্রবেশ) এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম। হে আল্লাহ! আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং আমার জন্য আপনার দয়ার দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দিন’’। [ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৭৭১। ‬ আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।]

৩- তাহিয়াতুল মসজিদের দু রাকা‘আত সালাত আদায় করবে। এ দু রাকা‘আত রওজাতুল জান্নাতে পড়তে পারলে ভালো। যে জায়গাটি রাসূলের কক্ষ ও মিম্বারের মাঝখানে অবস্থিত।

৪- নবী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর, তার দুই সাথী আবু বকর ও উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমার কবরে সালাম দিবে। এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট শব্দ নেই। যদি বলে, আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহূ আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সালাত পেশ করে, তারপর তাঁর দু’ সাথীর উপর সালাম দেয় এবং তাদের জন্য দো‘আ করে তবে তা ভালো।

৫- দো‘আ করতে চাইলে কবর থেকে দূরে সরে কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর কাছে যা চাওয়ার চাইবে। এভাবে মসজিদে নববী যিয়ারত সম্পন্ন করবে।

৬- যিয়ারতকারীর জন্য আরো মুস্তাহাব হলো মসজিদে কুবায় সালাত আদায় করা এবং বাকী‘ ও অহূদের শহীদদের কবর যিয়ারত করা।