hadith book logo

ইসলামের রুকনসমূহের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

লেখকঃ কতিপয় ছাত্র • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২৮

ইহরামের সুন্নতসমূহ:

১- ইহরামের জন্য গোসল করা। হায়েয ও নিফাস হলেও গোসল করা সুন্নত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«إنَّ النُّفَسَاءَ وَالحَائِضَ [খাত্তাবী রহ. বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হায়েয ও নেফাসবতী নারীকে গোসল করে ইহরাম বাঁধতে আদেশ দিয়েছেন। সুতরাং পবিত্র ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রযোজ্য।] تَغْتَسِلُ، وَتُحْرِمُ، وَتَقْضِي المَنَاسِكَ كُلَّهَا، غَيْرَ أَنْ لَا تَطُوفَ بِالبَيْتِ حَتَّى تَطْهُرَ»

“হায়েয ও নেফাসবতী মহিলারা গোসল করে ইহরাম বাঁধবে এবং হজের সব আমল পুরা করবে। তবে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত আল্লাহর ঘরের তাওয়াফ করবে না”। [তিরমিযী, হাদীস নং ৯৪৫, ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান গরীব বলেছেন। ‬ আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ৩৪৩৫। শু‘আইব আরনাউত হাদীসের সনদটিকে হাসান লিগাইরিহী বলেছেন।]

২- একটি চাদর এবং সেলাইবিহীন লুঙ্গি পরে ইহরাম বাঁধা। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

«انْطَلَقَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ المَدِينَةِ بَعْدَ مَا تَرَجَّلَ، وَادَّهَنَ وَلَبِسَ إِزَارَهُ وَرِدَاءَهُ هُوَ وَأَصْحَابُهُ

“রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ চুল আঁচড়িয়ে, তেল মেখে, লুঙ্গি ও চাদর পরে (হজের উদ্দেশ্যে) মদীনা থেকে রওয়ানা হন”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫৪৫।]

৩- নখ কাঁটা, মোচ কাঁটা, বোগলের পশম উপড়ে ফেলা ও নাভীর নিচের লোম কামানো। কেননা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন করেছেন। তাছাড়া হজের কাজ দীর্ঘদিন চলার কারণে এসব পশম লম্বা হয়ে যাবে, আর ইহরাম অবস্থায় এগুলো কাঁটাও যাবে না।

৪- ফরয বা নফল সালাতের পরে ইহরামের নিয়ত করা।

৫- নিয়তের পরে তালবিয়া পাঠ করা। তালবিয়া হলো নিম্নোক্ত এ দো‘আ পড়া:

«لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالمُلْكَ، لاَ شَرِيكَ لَكَ»

“আমি হাযির, হে আল্লাহ! আমি হাযির। আপনার কোনো শরীক নেই। নিশ্চয় প্রশংসা ও নি‘আমত আপনার এবং রাজত্বও, আপনার কোনো শরীক নেই”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫৪৯।]

পুরুষ উচ্চস্বরে এবং নারীরা এমনভাবে বলবে যেন পাশের লোক শুনতে পায়। মুস্তাহাব হচ্ছে, বেশি বেশি পরিমাণ ও বার বার তালবিয়া পাঠ করা । এরপরে দো‘আ করা ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দুরূদ পাঠ করা।