hadith book logo

ইসলামের রুকনসমূহের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

লেখকঃ কতিপয় ছাত্র • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১১৮

নফল সাওম:

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিম্নোক্ত সাওমসমূহ পালন করতে উৎসাহিত করেছেন।

১- শাওয়াল মাসের ছয়টি সাওম পালন করা। কেননা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتًّا مِنْ شَوَّالٍ، كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ»

“যে ব্যক্তি রমযানের সাওম পালন করল, অতঃপর এর পেছনে শাওয়াল মাসে ছয় দিন সাওম পালন করল সে যেন সারা বছর সাওম পালন করল”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৬৪।]

২- প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার সাওম পালন করা। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

« أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ أَكْثَرَ مَا يَصُومُ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسَ، فَقِيلَ لَهُ، فَقَالَ : " إِنَّ الْأَعْمَالَ تُعْرَضُ كُلَّ اثْنَيْنِ وَخَمِيسٍ - أَوْ : كُلَّ يَوْمِ اثْنَيْنِ وَخَمِيسٍ - فَيَغْفِرُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ لِكُلِّ مُسْلِمٍ - أَوْ : لِكُلِّ مُؤْمِنٍ - إِلَّا الْمُتَهَاجِرَيْنِ، فَيَقُولُ : أَخِّرْهُمَا " »

“রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোমবার ও বৃহস্পতিবার সাওম পালন করতেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি সোমবার ও বৃহস্পতিবার সাওম পালন করে থাকেন কেন? তিনি বলেন: নিশ্চয় প্রতি সোমবার ও বৃহষ্পতিবার আমলনামা পেশ করা হয়, আল্লাহ তা‘আলা সোমবার ও বৃহস্পতিবার এ দু’দিন পরস্পর সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যতীত প্রত্যেক মুসলিম অথবা মুমিনকে ক্ষমা করেন। তিনি (ফিরিশতাদের) বলেন: তারা সন্ধিতে আবদ্ধ হওয়া অবধি তাদের ত্যাগ করো”। [ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৭৪০। ‬ আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।]

৩- প্রতিমাসের তিনদিন (১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ) সাওম পালন করা। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«صِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ صِيَامُ الدَّهْرِ، وَأَيَّامُ الْبِيضِ صَبِيحَةَ ثَلَاثَ عَشْرَةَ وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ وَخَمْسَ عَشْرَةَ»

“প্রতি মাসে তিনদিন সাওম পালন করা সারা বছর সাওম পালন করার মতো। এ তিন দিন হলো আইয়্যামে বীয তথা ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ”। [সুনান নাসাঈ আল কুবরা, হাদীস নং ২৭৪১। হাদীসটি হাসান।]

৪- যিলহজ মাসের প্রথম দশদিন সাওম পালন করা। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«مَا مِنْ أَيَّامٍ، الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ، مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ» يَعْنِي الْعَشْرَ، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ؟ قَالَ : «وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، إِلَّا رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ، فَلَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذَلِكَ بِشَيْءٍ»

“আল্লাহর নিকট যুল হজের দশ দিনের সৎকাজের চাইতে অধিক পছন্দনীয় সৎকাজ আর নেই। সহাবীগণ বলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আল্লাহর পথে জিহাদও নয় কি? তিনি বলেন, আল্লাহর পথে জিহাদও নয়; কিন্তু যে ব্যক্তি তার জান-মালসহ আল্লাহর পথে বের হয়ে তার কোনো কিছু নিয়ে আর ফিরে আসে না (তার মর্যাদা অনেক)”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৬৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং]

তন্মধ্যে বেশি তাগিদ রয়েছে আরাফার দিনের সাওম। আর তা হচ্ছে হাজী ব্যতীত অন্যদের জন্য নয় তারিখের সাওম। কারণ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«صَوْمُ يَوْمِ عَرَفَةَ يُكَفِّرُ سَنَتَيْنِ مَاضِيَةً وَمُسْتَقْبَلَةً»

“আরাফাত দিবসের সাওম একবছর পূর্বের ও পরের গুনাহের কাফফারা হয়।”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৬২।]

৫- মুহাররম মাসে সাওম পালন করা। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে জিজ্ঞাসা করা হলো,

َأَيُّ الصِّيَامِ أَفْضَلُ بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ؟ فَقَالَ : «َأَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ، صِيَامُ شَهْرِ اللهِ الْمُحَرَّمِ»

“রমযান মাসের সিয়ামের পর কোনো সাওম সর্বোত্তম? তিনি বললেন, রমযান মাসের সিয়ামের পর আল্লাহর মাস মুহাররমের সাওম সর্বোত্তম”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৬৩।]

৬- আশুরার সাওম পালন করা। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«وَصَوْمُ عَاشُورَاءَ يُكَفِّرُ سَنَةً مَاضِيَةً»

“আশুরা দিবসের সাওম এর পূর্বের এক বছরের গুনাহের কাফফারা হয়”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৬২।]

তবে দশ তারিখের সাথে ৯ তারিখ একটি সাওম বেশি রাখা মুস্তাহাব, যাতে ইয়াহূদী নাসারাদের বিরোধিতা করা হয়। কেননা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াহূদী এবং নাসারাদের আশুরার ১০ তারিখে সম্মান করতে দেখে তিনি বলেছেন,

«فَإِذَا كَانَ الْعَامُ الْمُقْبِلُ إِنْ شَاءَ اللهُ صُمْنَا الْيَوْمَ التَّاسِعَ» قَالَ : فَلَمْ يَأْتِ الْعَامُ الْمُقْبِلُ، حَتَّى تُوُفِّيَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ .

“ইনশাআল্লাহ আগামী বছর আমরা নবম তারিখেও সিয়াম পালন করবো। বর্ণনাকারী বলেন, এখনো আগামী বছর আসেনি, স্থাএমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মারা যান”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৩৪।]