১
দৈনন্দিন সহীহ দু‘আ ও কুরআন-সুন্নার চিকিৎসা
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২০৮
মধু দ্বারা চিকিৎসা
উপকারী প্রাকৃতিক চিকিৎসার মধ্য অন্যতম একটি হলো মধু। কুরআন মাজীদে মধুর উপকারিতা বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَاَوْحٰى رَبُّكَ اِلَى النَّحْلِ اَنِ اتَّخِذِيْ مِنَ الْجِبَالِ بُيُوْتًا وَّمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُوْنَ ‐ ثُمَّ كُلِيْ مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ فَاسْلُكِيْ سُبُلَ رَبِّكِ ذُلُلًاؕ يَّخْرُجُ مِنْ ۢبُطُوْنِهَا شَرَابٌ مُّخْتَلِفٌ اَلْوَانُهٗ فِيْهِ شِفَآءٌ لِّلنَّاسِؕ اِنَّ فِيْ ذٰلِكَ لَاٰيَةً لِّقَوْمٍ يَّتَفَكَّرُوْنَ ﴾
তোমার প্রতিপালক মৌমাছিকে এ নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা গৃহ নির্মাণ করো পাহাড়ে, বৃক্ষে ও মানুষের গৃহে। তারপর প্রত্যেক ফল হতে কিছু কিছু আহার করো, অতঃপর তোমার প্রতিপালকের সহজ পথ অনুসরণ করো। তার উদর হতে নির্গত হয় বিভিন্ন বর্ণের পানীয়, যাতে মানুষের জন্য রয়েছে আরোগ্য। অবশ্যই এতে চিমত্মাশীল সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন।
(সূরা নাহল- ৬৮, ৬৯)
মধু একটি উপকারী ও সুস্বাদু খাদ্য। তাছাড়া এর মধ্যে রোগ নিরাময় শক্তিও প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। মধু কোন কোন রোগের মহৌষধ। কারণ এর মধ্যে রয়েছে ফুল ও ফলের রস এবং উন্নত পর্যায়ের গ্লুকোজ। তাছাড়া মধুর একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তা নিজে কখনো পঁচে না এবং অন্য জিনিসকেও পঁচন থেকে দীর্ঘদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করে। এজন্য ঔষধ নির্মাণ শিল্পে এলকোহলের পরিবর্তে মধুর ব্যবহার হাজার বছর থেকে চলে আসছে।
ইউনানী ডাক্তারগণ লিখেছেন, সকাল বেলায় খালি পেটে মধু পান করা বা চেঁটে খাওয়া খুবই উপকারী; এতে কফ নির্গত হয়, পেটের বদ্ধ ময়লা বা দূষিত বসত্মুগুলো দূরীভূত হয়ে যায় এবং পাকস্থলীর যথাযথ ক্রিয়া ঠিক হয়ে যায়। এ ছাড়া পেটে জমে থাকা বায়ু নির্গত করতেও সাহায্য করে।
একদা জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে এসে বলল, আমার ভাইয়ের উদরাময় হয়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, তাকে মধু পান করাও। ফলে তাকে মধু পান করানো হলো। কিমত্মু উদরাময় উপশম হলো না। রাসূলুল্লাহ ﷺ পুনরায় মধু পান করাতে বললেন। এভাবে পর পর তিন বার নির্দেশ দিলেন। ৪র্থ বার লোকটি এসে বলল, তাকে প্রত্যেকবারই মধু পান করানো হয়েছে, কিমত্মু তবুও কোন উপশম হয়নি। বরং উদরাময় আরো বৃদ্ধিই পেয়েছে। এটা শোনার পর রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, আল্লাহর বাণী সত্য, তোমার ভাইয়ের পেটই মিথ্যা। এরপর লোকটিকে আবার মধু পান করানো হলো এবং সে সুস্থ হয়ে গেল। [সহীহ বুখারী, হা/৫৬৮৪; সহীহ মুসলিম, হা/৫৯০১; তিরমিযী, হা/২০৮২; মুসনাদে আহমাদ, হা/১১১৬২; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৬৬৭২; মুসত্মাদরাকে হাকেম, হা/৮২২১; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হা/২০১৭৩; মুসনাদে আবু ই‘আলা, হা/১২৬১; মিশকাত, হা/৪৫২১।]
তোমার ভাইয়ের পেট মিথ্যা- এ কথার অর্থ হলো- ঔষধ ঠিকই কাজ করছে, কিমত্মু তোমার ভাইয়ের পেট সে ক্রিয়া গ্রহণ করছে না। অতিরিক্ত দূষিত পদার্থ পেটে জমে আছে। এগুলো নির্গত হলে ঔষধের ক্রিয়া পরিলক্ষিত হবে। অবশেষে তাই দেখা গেল এবং লোকটি সুস্থ হয়ে গেল।
বক্ষরোগ বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতায় জানা গেছে যে, যদি কারো শ্বাসকষ্ট হয়, তবে তার নাকের সামনে এক পেয়ালা মধু রেখে বাতাস সঞ্চালন করে তার ঘ্রাণ নাকে প্রবেশ করালে শ্বাসকষ্টের রোগীর উপকার হবে।
প্রাচীনকালে যখন মানুষ গুড়, চিনি, মিছরি ইত্যাদি তৈরি করতে শেখেনি, তখন আল্লাহ প্রদত্ত এই মধুই মিষ্টি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। মিষ্ট-স্বাদ অনুভব করার একমাত্র উপকরণ ছিল মধু। পরে ধীরে ধীরে মানুষ আখ, খেজুর, তাল ইত্যাদির রস থেকে গুড়-চিনি ও মিছরি তৈরি করতে শিখল। আর মধু দুষ্প্রাপ্য হওয়ায় এবং গুড়-চিনি সহজলভ্য হওয়ায় মধুর ব্যবহার কমে যেতে লাগল। এমনকি ঔষধরূপেও এর ব্যবহার কমে গেল। অথচ গুড়-চিনি অপেক্ষা মধু বহুগুণে উৎকৃষ্ট বসত্মু।
﴿وَاَوْحٰى رَبُّكَ اِلَى النَّحْلِ اَنِ اتَّخِذِيْ مِنَ الْجِبَالِ بُيُوْتًا وَّمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُوْنَ ‐ ثُمَّ كُلِيْ مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ فَاسْلُكِيْ سُبُلَ رَبِّكِ ذُلُلًاؕ يَّخْرُجُ مِنْ ۢبُطُوْنِهَا شَرَابٌ مُّخْتَلِفٌ اَلْوَانُهٗ فِيْهِ شِفَآءٌ لِّلنَّاسِؕ اِنَّ فِيْ ذٰلِكَ لَاٰيَةً لِّقَوْمٍ يَّتَفَكَّرُوْنَ ﴾
তোমার প্রতিপালক মৌমাছিকে এ নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা গৃহ নির্মাণ করো পাহাড়ে, বৃক্ষে ও মানুষের গৃহে। তারপর প্রত্যেক ফল হতে কিছু কিছু আহার করো, অতঃপর তোমার প্রতিপালকের সহজ পথ অনুসরণ করো। তার উদর হতে নির্গত হয় বিভিন্ন বর্ণের পানীয়, যাতে মানুষের জন্য রয়েছে আরোগ্য। অবশ্যই এতে চিমত্মাশীল সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন।
(সূরা নাহল- ৬৮, ৬৯)
মধু একটি উপকারী ও সুস্বাদু খাদ্য। তাছাড়া এর মধ্যে রোগ নিরাময় শক্তিও প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। মধু কোন কোন রোগের মহৌষধ। কারণ এর মধ্যে রয়েছে ফুল ও ফলের রস এবং উন্নত পর্যায়ের গ্লুকোজ। তাছাড়া মধুর একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তা নিজে কখনো পঁচে না এবং অন্য জিনিসকেও পঁচন থেকে দীর্ঘদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করে। এজন্য ঔষধ নির্মাণ শিল্পে এলকোহলের পরিবর্তে মধুর ব্যবহার হাজার বছর থেকে চলে আসছে।
ইউনানী ডাক্তারগণ লিখেছেন, সকাল বেলায় খালি পেটে মধু পান করা বা চেঁটে খাওয়া খুবই উপকারী; এতে কফ নির্গত হয়, পেটের বদ্ধ ময়লা বা দূষিত বসত্মুগুলো দূরীভূত হয়ে যায় এবং পাকস্থলীর যথাযথ ক্রিয়া ঠিক হয়ে যায়। এ ছাড়া পেটে জমে থাকা বায়ু নির্গত করতেও সাহায্য করে।
একদা জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে এসে বলল, আমার ভাইয়ের উদরাময় হয়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, তাকে মধু পান করাও। ফলে তাকে মধু পান করানো হলো। কিমত্মু উদরাময় উপশম হলো না। রাসূলুল্লাহ ﷺ পুনরায় মধু পান করাতে বললেন। এভাবে পর পর তিন বার নির্দেশ দিলেন। ৪র্থ বার লোকটি এসে বলল, তাকে প্রত্যেকবারই মধু পান করানো হয়েছে, কিমত্মু তবুও কোন উপশম হয়নি। বরং উদরাময় আরো বৃদ্ধিই পেয়েছে। এটা শোনার পর রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, আল্লাহর বাণী সত্য, তোমার ভাইয়ের পেটই মিথ্যা। এরপর লোকটিকে আবার মধু পান করানো হলো এবং সে সুস্থ হয়ে গেল। [সহীহ বুখারী, হা/৫৬৮৪; সহীহ মুসলিম, হা/৫৯০১; তিরমিযী, হা/২০৮২; মুসনাদে আহমাদ, হা/১১১৬২; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৬৬৭২; মুসত্মাদরাকে হাকেম, হা/৮২২১; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হা/২০১৭৩; মুসনাদে আবু ই‘আলা, হা/১২৬১; মিশকাত, হা/৪৫২১।]
তোমার ভাইয়ের পেট মিথ্যা- এ কথার অর্থ হলো- ঔষধ ঠিকই কাজ করছে, কিমত্মু তোমার ভাইয়ের পেট সে ক্রিয়া গ্রহণ করছে না। অতিরিক্ত দূষিত পদার্থ পেটে জমে আছে। এগুলো নির্গত হলে ঔষধের ক্রিয়া পরিলক্ষিত হবে। অবশেষে তাই দেখা গেল এবং লোকটি সুস্থ হয়ে গেল।
বক্ষরোগ বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতায় জানা গেছে যে, যদি কারো শ্বাসকষ্ট হয়, তবে তার নাকের সামনে এক পেয়ালা মধু রেখে বাতাস সঞ্চালন করে তার ঘ্রাণ নাকে প্রবেশ করালে শ্বাসকষ্টের রোগীর উপকার হবে।
প্রাচীনকালে যখন মানুষ গুড়, চিনি, মিছরি ইত্যাদি তৈরি করতে শেখেনি, তখন আল্লাহ প্রদত্ত এই মধুই মিষ্টি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। মিষ্ট-স্বাদ অনুভব করার একমাত্র উপকরণ ছিল মধু। পরে ধীরে ধীরে মানুষ আখ, খেজুর, তাল ইত্যাদির রস থেকে গুড়-চিনি ও মিছরি তৈরি করতে শিখল। আর মধু দুষ্প্রাপ্য হওয়ায় এবং গুড়-চিনি সহজলভ্য হওয়ায় মধুর ব্যবহার কমে যেতে লাগল। এমনকি ঔষধরূপেও এর ব্যবহার কমে গেল। অথচ গুড়-চিনি অপেক্ষা মধু বহুগুণে উৎকৃষ্ট বসত্মু।