hadith book logo

দৈনন্দিন সহীহ দু‘আ ও কুরআন-সুন্নার চিকিৎসা

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৩০

ঝাড়ফুঁকের আয়াতসমূহ

১. সূরা ফাতিহা :

আবু সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ এর কিছু সংখ্যক সাহাবী কোন এক সফরে যাত্রা করেন। তারা আরবদের কোন এক সম্প্রদায়ের নিকট পৌঁছে তাদের নিকট মেহমানদারী কামনা করলেন। কিন্তু তারা তাঁদের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করল। (ঘটনাক্রমে) ঐ সম্প্রদায়ের দলপতি বিচ্ছু দ্বারা দংশিত হলো। লোকেরা তার (সুস্থতার) জন্য সর্বপ্রকার চেষ্টা করল, কিন্তু ফল হলো না। তখন তাদের কেউ বলল, ঐ যে লোকগুলো এখানে এসেছে, তাদের নিকট যদি তোমরা যেতে! হয়তো তাদের কারো নিকট কিছু (ব্যবস্থা) থাকতে পারে। তখন তারা তাদের কাছে গেল এবং বলল, হে সফরকারী দল! আমাদের দলপতিকে বিচ্ছু দংশন করেছে। আমরা সব রকমের চেষ্টা করেছি কিন্তু কিছুতেই উপকার হচ্ছে না। তোমাদের কারো কাছে কোন ব্যবস্থা আছে কি? তখন সাহাবীদের একজন বললেন, হ্যাঁ- আল্লাহর শপথ! আমি ঝাড়ফুঁক করি। তবে দেখো, আমরা তোমাদের নিকট মেহমানদারী কামনা করেছিলাম, কিন্তু তোমরা আমাদের মেহমানদারী করনি। কাজেই আমি তোমাদের ঝাড়ফুঁক করব না, যে পর্যন্ত না তোমরা আমাদের জন্য পারিশ্রমিক নির্ধারণ করবে। তখন তারা তাঁদের সাথে একপাল বকরীর শর্ত করল। এরপর ঐ সাহাবী গিয়ে তার (দংশিত স্থানের) উপর থুথু দিতে দিতে সূরা ফাতিহা পড়তে লাগলেন। ফলে সে এমনভাবে সুস্থ হলো যেন তার কোন অসুস্থতাই নেই।

বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তারা তাদের স্বীকৃত পারিশ্রমিক পুরোপুরি দিয়ে দিল। তখন সাহাবীদের কেউ কেউ বললেন, এটা ভাগ করো। কিন্তু ঝাড়ফুঁককারী বললেন, এটা করো না। আগে আমরা নবী ﷺ এর কাছে গিয়ে তাঁকে এ ঘটনা জানাই এবং দেখি তিনি আমাদেরকে কী নির্দেশ দেন। তারা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে এসে বিষয়টি জানালেন। তিনি বললেন, তুমি কীভাবে জানলে যে, ওটা (সূরা ফাতিহা) একটা দু‘আ? তারপর বললেন, তোমরা ঠিকই করেছ। (এবার) ভাগ করো এবং তোমাদের সঙ্গে আমার জন্যও একটা অংশ রাখো। এ বলে নবী ﷺ হাসলেন। [সহীহ বুখারী, হা/২২৭৬; ইবনে মাজাহ, হা/২১৫৬; মিশকাত, হা/২৯৮৫।]

সূরা ফাতিহা এ বইয়ের ২২ পৃষ্ঠায় রয়েছে।

২. আয়াতুল কুরসী : আয়াতুল কুরসী ৩৫ পৃষ্ঠায় রয়েছে।

৩. সূরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত : এ দু’টি আয়াত ৩৬ পৃষ্ঠায় রয়েছে।

৪. সূরা ইখলাস : সূরা ইখলাস ৩৭ পৃষ্ঠায় রয়েছে।

৫. সূরা ফালাক্ব : সূরা ফালাক্ব ৩৭ পৃষ্ঠায় রয়েছে।

৬. সূরা নাস : সূরা নাস ৩৮ পৃষ্ঠায় রয়েছে।

উপরোক্ত সূরাগুলো প্রতি ফরয সালাতের পর ১ বার করে, তবে ফজর ও মাগরিবের পর সূরা নাস, ফালাক্ব ও ইখলাস ৩ বার করে পাঠ করবে।

৭. আরো কয়েকটি আয়াত :

﴿وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْاٰنِ مَا هُوَ شِفَآءٌ وَّرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِيْنَ وَلَا يَزِيْدُ الظَّالِمِيْنَ اِلَّا خَسَارًا﴾

আমি কুরআন অবতীর্ণ করি, যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমতস্বরূপ, কিন্তু সেটা যালিমদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করে। (সূরা বনী ইসরাঈল- ৮২)

﴿وَاِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِيْنِ﴾

আর যখন আমি রোগাক্রান্ত হই, তখন তিনিই আমাকে রোগমুক্ত করেন।

(সূরা শু‘আরা– ৮০)

﴿وَيَشْفِ صُدُوْرَ قَوْمٍ مُّؤْمِنِيْنَ﴾

তিনি মুমিন সম্প্রদায়ের অন্তরকে প্রশান্ত করবেন। (সূরা তওবা- ১৪)

﴿قُلْ هُوَ لِلَّذِيْنَ اٰمَنُوْا هُدًى وَّشِفَآءٌ﴾

বলো, মুমিনদের জন্য এটা পথপ্রদর্শক ও ব্যাধির প্রতিকার। (সূরা হা-মীম সাজদা- ৪৪)