hadith book logo

দৈনন্দিন সহীহ দু‘আ ও কুরআন-সুন্নার চিকিৎসা

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯৭

সালাম

সালাম অর্থ শান্তি। কাউকে সালাম দেয়া মানে হচ্ছে, তার জন্য শান্তি ও কল্যাণ কামনা করা। সালাম প্রদানের অপরিসীম গুরুত্ব হাদীসে বর্ণনা করা হয়েছে।

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ قَالَ حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ خَمْسٌ : رَدُّ السَّلَامِ ، وَعِيَادَةُ الْمَرِيْضِ ، وَاتِّبَاعُ الْجَنَائِزِ ، وَإِجَابَةُ الدَّعْوَةِ ، وتَشْمِيْتُ الْعَاطِسِ

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, এক মুসলিমের উপর অপর মুসলিমের পাঁচটি হক আছে। ১. সালামের উত্তর দেয়া, ২. রোগীর সেবা করা, ৩. জানাযায় অংশগ্রহণ করা, ৪. দাওয়াত কবুল করা, ৫. হাঁচিদাতার উত্তর দেয়া। [সহীহ বুখারী, হা/১২৪০; সহীহ মুসলিম, হা/৫৭৭৮; ইবনে মাজাহ, হা/১৪৩৫; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৩৪৬৭; জামেউস সগীর, হা/৫৪৬১; মিশকাত, হা/১৫২৪।]

তাই একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ হলেই আমরা সালাম বিনিময় করব। যে আগে সালাম দেয় সে উত্তম। সালামের উত্তরদানের সময় শব্দ বাড়িয়ে বলা সুন্নাত। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَاِذَا حُيِّيْتُمْ بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوْا بِاَحْسَنَ مِنْهَاۤ اَوْ رُدُّوْهَا﴾

তোমাদেরকে যখন সালাম দেয়া হয়, তখন তোমরা তার চেয়ে আরো উত্তমভাবে উত্তর প্রদান করবে অথবা তারই অনুরূপ করবে। (সূরা নিসা- ৮৬)

সালাম দেয়ার সময় বলবে,

اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَ رَحْمَةُ اللهِ

উচ্চারণ : আস্সালা-মু ‘আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লা-হ।

অর্থ : আপনার উপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

আর সালামের উত্তর দেয়ার সময় বলবে,

وَ عَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَ رَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُه

উচ্চারণ : ওয়া ‘আলাইকুমুস সালা-মু ওয়া রাহমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকা-তুহ।

অর্থ : আর আপনার উপরও শান্তি ও আল্লাহর রহমত এবং বরকত বর্ষিত হোক। [আত্বা (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) এর নিকট ছিলেন। তখন এক ব্যক্তি তার নিকট এসে সালাম দিল। তখন আমি উত্তরে এ শব্দগুলো বললাম। তা শুনে ইবনে আববাস (রাঃ) বললেন, ফেরেশতারা যে পর্যমত্ম বলে থাকে তুমি সে পর্যমত্ম গিয়ে থামলে। অর্থাৎ ফেরেশতারাও এ শব্দগুলো দিয়ে সালামের উত্তর দিয়ে থাকে। (মুসত্মাদরাকে হাকেম, হা/৩৩১৬; সিলসিলা সহীহাহ, হা/১৪৪৯)]

পরস্পর সাক্ষাৎ হলে মুসাফাহা করা উত্তম। বারা ইবনে আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেছেন, যখন কোন দু’জন মুসলিম মিলিত হয় অতঃপর মুসাফাহা করে এবং আল্লাহর প্রশংসা করে, তখন তাদের গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। [জামেউস সগীর, হা/৪৫০৭।]