hadith book logo

দৈনন্দিন সহীহ দু‘আ ও কুরআন-সুন্নার চিকিৎসা

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৭

ইস্তিখারার দু‘আ

জাবির (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে যেভাবে কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন সেভাবে সকল কাজে ইস্তিখারা করার নিয়ম ও দু‘আ শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন, যখন তোমাদের কেউ কোন কাজ করবে তখন সে যেন দু’রাক‘আত সালাত আদায় করে এবং এ দু‘আ পড়ে।

اَللّٰهُمَّ اِنِّيْ اَسْتَخِيْرُكَ بِعِلْمِكَ وَاَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَاَسْاَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيْمِ فَاِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا اَقْدِرُ وَتَعْلَمُ وَلَا اَعْلَمُ وَاَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوْبِ - اَللّٰهُمَّ اِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ اَنَّ هٰذَا الْاَمْرَ خَيْرٌ لِّيْ فِيْ دِيْنِيْ وَمَعَاشِيْ وَعَاقِبَةِ اَمْرِيْ فَاقْدُرْهُ لِيْ وَيَسِّرْهُ لِىْ ثُمَّ بَارِكْ لِيْ فِيْهِ اَللّٰهُمَّ وَاِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ اَنَّ هٰذَا الْاَمْرَ شَرٌّ لِّيْ فِيْ دِيْنِيْ وَمَعَاشِيْ وَعَاقِبَةِ اَمْرِيْ فَاصْرِفْنِيْ عَنْهُ وَاصْرِفْهُ عَنِّيْ وَاقْدُرْ لِيَ الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ اَرْضِنِيْ بِه

উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসতাখীরুকা বি‘ইলমিকা ওয়াআসতাক্বদিরুকা বিকুদ্রাতিকা ওয়াআস্আলুকা মিন ফাযলিকাল ‘আযীম। ফাইন্নাকা তাক্বদিরু ওয়ালা আক্বদিরু, ওয়া তা‘লামু ওয়ালা আ‘লামু ওয়াআনতা ‘আল্লা-মুল্ গুয়ূব। আল্লা-হুম্মা ইনকুনতা তা‘লামু আন্না হা-যাল আমরা খাইরুল্লী ফীদ্বীনী ওয়া মা‘আ-শী ওয়া ‘আ-ক্বিবাতি আমরী ফাক্বদুরহু লী ওয়া ইয়াসসিরহু লী সুম্মা বা-রিক লী ফীহ। আল্লা-হুম্মা ওয়া ইনকুনতা তা‘লামু আন্না হা-যাল আমরা শাররুল্লী ফীদ্বীনী ওয়ামা‘আ-শী ওয়া ‘আ-ক্বিবাতি আমরী ফাস্রিফ্নী ‘আনহু ওয়াস্রিফ্হু ‘আন্নী ওয়াক্বদুরলিয়াল খাইরা হাইছু কা-না, ছুম্মা আরযিনী বিহ।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আপনারই জ্ঞান ও কুদরতের সাহায্যে এ বিষয়ের (যে বিষয়ের ব্যাপারে ইস্তিখারা করবে উহার) ভালো দিক জ্ঞাত হওয়ার জন্য প্রার্থনা করছি এবং আমি আপনার নিকট অনুগ্রহ কামনা করছি। আপনি সক্ষম, আমি সক্ষম নই। আপনি জানেন, আমি জানি না। আর আপনি অদৃশ্যের খবর জানেন। হে আল্লাহ! আপনি যদি মনে করেন এ বিষয়টি আমার দ্বীন, আমার জীবনধারণ ও পরিণামের ব্যাপারে আমার জন্য ভালো হবে, তাহলে আপনি আমার জন্য তা নির্ধারণ করুন। অতঃপর তা আমার জন্য সহজ করে দিন এবং তাতে বরকত দান করুন। আর যদি মনে করেন যে, বিষয়টি আমার জন্য আমার দ্বীন, আমার জীবনধারণ ও আমার পরিণামের ব্যাপারে অকল্যাণকর, তাহলে আপনি আমার হতে তা ফিরিয়ে রাখুন এবং আমাকেও তা হতে ফিরিয়ে রাখুন। আর আমার জন্য নির্ধারণ করুন কল্যাণ তা যেখানেই হোক এবং আমাকে তাতে সন্তুষ্ট রাখুন। [সহীহ বুখারী, হা/৬৩৮২, ৭৩৯০; আবু দাঊদ, হা/১৫৪০; তিরমিযী, হা/৪৮০; নাসাঈ, হা/৩২৫৩; ইবনে মাজাহ, হা/১৩৮৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৪৭৪৮; মিশকাত, হা/১৩২৩।]

ইসিত্মখারা করার নিয়ম :

কোন বিষয়ে স্থির সিদ্ধামত্ম না করে এবং কোন দিকে ঝুঁক না রেখে নিরপেক্ষ ও খোলা মনে ইসিত্মখারার নিয়তে সাধারণ সালাতের ন্যায় দু’রাক‘আত সালাত আদায় করবে। অতঃপর যেদিকে মন টানবে সেভাবেই কাজ করবে। এ সালাত দিনে বা রাতে যে কোন সময় পড়া যায়।

ইসিত্মখারার সালাতে রাসূলুল্লাহ ﷺ কর্তৃক শেখানো বিশেষ দু‘আটি পাঠ করতে হবে। দু‘আটি কখন পড়বে, সে বিষয়ে দুটি নিয়ম পাওয়া যায়। একটি হলো, সালাম ফিরানোর পর দু‘আ করবে। আর দ্বিতীয়টি হলো, সালাতের মধ্যেই দু‘আ করবে। আর এক্ষেত্রে সিজদায় অথবা শেষ বৈঠকে তাশাহ্হুদের পর সালামের পূর্বে পাঠ করবে।

সুতরাং ইসিত্মখারার দু‘আটিও শেষ বৈঠকে বসে পাঠ করা বাঞ্ছনীয়। আর যদি কেউ সালাম ফিরানোর পর উক্ত দু‘আ পাঠ করতে চায়, তাহলে বেশি দেরি না করে এবং অন্য কোন কথা না বলে তাড়াতাড়ি দু‘আ করবে এবং শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা ও নবী ﷺ এর প্রতি দরূদ পাঠ করবে। যেমন- ‘‘আল হামদুলিল্লাহি রাবিবল ‘আ-লামীন, ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু ‘আলা রাসূলিহিল কারীম’’- এ অংশটি পাঠ করার পর দু‘আটি পাঠ করবে। [আবু দাঊদ, হা/১৪৮৩; তিরমিযী, হা/৩৪৭৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩৯৮২; সহীহ ইবনে হিববান, হা/১৯৬০; মুসত্মাদরাকে হাকেম, হা/৮৪০।] উল্লেখ্য যে, ইসিত্মখারার পর যেদিকে মন ঝুঁকে, সেটাই করা উচিত।