hadith book logo

দৈনন্দিন সহীহ দু‘আ ও কুরআন-সুন্নার চিকিৎসা

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৩৯

তাবিজ ব্যবহার করা জাহেলী যুগের বৈশিষ্ট্য

তাবিজ ব্যবহার করা জাহেলী যুগের বৈশিষ্ট্য। সে যুগে মানুষের উপর চেপে বসেছিল অজ্ঞতা, আর তারা পরিণত হয়েছিল শয়তানের দাসে। তাই বৃদ্ধি পেয়েছিল তাদের ভ্রষ্টতা। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَأَنَّه كَانَ رِجَالٌ مِّنَ الْإِنْسِ يَعُوْذُوْنَ بِرِجَالٍ مِّنَ الْجِنِّ فَزَادُوْهُمْ رَهَقًا﴾

আর কতিপয় মানুষ কতক জিনের আশ্রয় নিত, ফলে তারা জিনদের অহংকার বাড়িয়ে দিত। ( সূরা জিন- ৬)

জাহেলী যুগের ইতিহাসে উল্লেখিত হয়েছে যে, তৎকালীন আরবরা যখন কোন মরু প্রান্তরে বন্য পশুদের এলাকায় গিয়ে পৌঁছত, তখন ভূত-প্রেত, জিন ও শয়তানের আশঙ্কা করত এবং কাফেলা মধ্যস্থিত একজন দাঁড়িয়ে উচ্চৈঃস্বরে এ বলে আওয়াজ দিত- আমরা এই উপত্যকার সরদারের আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তখন তারা কোন বিপদের সম্মুখীন হতো না এবং উক্ত আওয়াজ তাদের জন্য নিরাপত্তা হিসেবে কাজ করত। এ জন্যই জাহেলী যুগের লোকেরা বিভিন্ন পশু জবাই করে জিনদের নৈকট্য লাভের চেষ্টা করত, যাতে তারা কোন প্রকার ক্ষতি সাধন না করে। তাদের কেউ ঘর নির্মাণ করলে কিংবা কূপ খনন করলে জিনদের ক্ষতি রোধের জন্য পশু জবাই করত। এভাবেই তাদের মধ্যে এ ধারণা বদ্ধমূল হয়ে গেল যে, কোন কোন পাথর, গাছপালা, জীবজমত্মু এবং খনিজ পদার্থের এমন গুণাবলী রয়েছে, যেগুলো তাদেরকে জিনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। তাই সেগুলো দিয়ে তাবিজ বানিয়ে ব্যবহার করতে লাগল। মূলত এর প্রধান কারণ ছিল আল্লাহ সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতা এবং তাঁর উপর পূর্ণ ভরসা ও বিশ্বাস না থাকা।

এগুলো হচ্ছে, জাহেলী যুগের তাবিজ সম্পর্কে মানুষের বিশ্বাস ও কিছু কুসংস্কারের চিত্র। তাবিজের আকার আকৃতি বা ধরণ পরিবর্তন হলেও আকীদা-বিশ্বাসের ক্ষেত্রে এগুলোর অনেকটাই বর্তমান সমাজে বিদ্যমান। জাহেলী যুগে বদনযর থেকে বাঁচার জন্য ঘোড়ার গলায় খেজুরের ছিলা লটকাত। আর বর্তমানে বদনযর থেকে বাঁচার জন্য জুতা লটকায়। মূলত এতদুভয়ের মধ্যে কোন পার্থক্যই নেই। তাবিজ ব্যবহারের এই গোমরাহী পন্থা, কৃষক থেকে শুরু করে শহরের লোকদের মধ্যেও ছড়িয়ে আছে। এভাবে দেখা যায়, অনেক ড্রাইভার তাদের গাড়ির সামনের গ্লাসে তাগায় পুতি গেঁথে তা ঝুলিয়ে রাখে। অনুরূপভাবে, বাড়ি অথবা দোকানের সামনে বিভিন্ন জিনিস ঝুলিয়ে রাখা হয়। এ সকল জিনিস লাগানোর উদ্দেশ্য হচ্ছে, বদনযর থেকে হেফাযতে থাকা।

আসলে এ ধারণাগুলো তাওহীদ, শিরক ও মূর্তিপূজা সম্পর্কে মানুষের অজ্ঞতার কারণেই সৃষ্টি হয়েছে। যুগে যুগে মানব সমাজে রাসূল প্রেরণ করার যে কারণ ছিল তা হলো, সমস্ত শিরক, মূর্তিপূজা ইত্যাদি দূর করে তাওহীদকে প্রতিষ্ঠিত করা। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সকলকে তাওহীদের উপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন!

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي بِنِعْمَتِه تَتِمُّ الصَّالِحَاتُ ‐ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلٰى رَسُوْلِهٖ مُحَمَّدٍ وَّعَلٰى اٰلِهٖ وَصَحْبِهٖ اَجْمَعِيْنَ

সমাপ্ত