hadith book logo

দৈনন্দিন সহীহ দু‘আ ও কুরআন-সুন্নার চিকিৎসা

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২১০

জমজমের পানি দ্বারা চিকিৎসা

পবিত্র কাবার দ্বারপ্রামেত্ম অবস্থিত কূপকে জমজম কূপ বলে। এই কূপ আল্লাহ তা‘আলার একটি মহা নিদর্শন। পৃথিবীতে যত আশ্চর্যজনক সৃষ্টি রয়েছে, জমজম কূপ তার অন্যতম। এর পানি কখনো শেষ হয় না। এটা সকল পানির প্রধান, সর্বোৎকৃষ্ট ও সবচেয়ে মূল্যবান।

জমজম কূপ থেকে পানি উত্তলন করা হচ্ছে প্রায় ৪০০০ বছর পূর্ব থেকে, যা এখনো চলমান রয়েছে। মক্কার আশপাশে অনেকগুলো কূপ রয়েছে, যেগুলোর বেশিরভাগই শুকনো। কিমত্মু জমজম কূপ কখনই শুকায়না। জমজম কূপের পানি হচ্ছে এমন পানি, যা কখনো জীবাণু দ্বারা আক্রামত্ম হয়নি। হজ্জের সময় লক্ষ লক্ষ হাজীগণ এই পানি নিজ নিজ দেশে নিয়ে যাচ্ছে এবং তা আপনজন ও নিকট আত্মীয়-স্বজনদেরকে পান করতে দিচ্ছে, তাতে কোন লোকেরই কোন ক্ষতি হচ্ছে না, বরং অনেকেই তা পান করে বিভিন্ন রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করছে।

জমজমের পানির মধ্যে সাধারণ পানির তুলনায় ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম অনেক বেশি। জমজমের পানিতে রয়েছে ফ্লোরাইড; আর ফ্লোরাইডে রয়েছে জীবাণুনাশক ক্ষমতা। এটি তৃষ্ণা এবং ক্ষুধা উভয়ই মেটাতে সামর্থ্য রাখে।

ঔষধ হিসেবে এ পানি সর্বরোগের মহৌষধ। এর দ্বারা আমাশয়, পেট-কামড় ও পেট-ব্যথা ভালো হয়। প্রস্রাবজনিত রোগ এবং মূত্রাশয় ও মূত্রথলীর রোগে (যেমন পাথর ও ব্যথা) এটা বিশেষ উপকারী। ডায়রিয়া ও কলেরা রোগেও এটা সুফল আনয়ন করে। এ ছাড়া যিনি যে নিয়তে এই পানি পান করেন, তার সেই বিষয়ে উপকার হয়ে থাকে। হাদীসে এসেছে-

عَنْ جَابِرِبْنِ عَبْدِ اللهِ ، يَقُوْلُ : سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ يَقُوْلُ : مَاءُ زَمْزَمَ ، لِمَا شُرِبَ لَه

জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন, জমজমের পানি যে রোগের জন্য পান করা হয়, তা তার জন্য চিকিৎসা। [ইবনে মাজাহ, হা/৩০৬২; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৫০৩৮; মুসত্মাদরাকে হাকেম, হা/১৭৩৯; দার কুতনী, হা/২৭৩৯; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১১৬৫; জামেউস সগীর, হা/১০৪৯৩।]