hadith book logo

ওমর (রাঃ) সম্পর্কে ১৫০টি শিক্ষণীয় ঘটনা

লেখকঃ আহমাদ আবদুল আলী তাহতাভী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪

১১. কুরআনের সাথে ওমর (রাঃ) এর ঐক্যমত

আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, তিনটি বিষয়ে আমার সিদ্ধান্ত মহান আল্লাহর ওহীর সিদ্ধান্তের অনুরূপ হয়েছে। অথবা তিনি বলেছেন (রাবীর সন্দেহ), আমার রব আমার তিনটি সিদ্ধান্তের (সাথে মতৈক্য পোষণ করে) ওহী নাযিল করেছেন। যথা:

১. আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল আপনি যদি মাকামে ইবরাহীমে [যেখানে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম নামায পড়েছিলেন] নামায পড়তেন (তাহলে কতই না ভালো হতো)! অতঃপর মহান আল্লাহ এ প্রসঙ্গে আয়াত অবতীর্ণ করেন–

وَ اِذۡ جَعَلۡنَا الۡبَیۡتَ مَثَابَۃً لِّلنَّاسِ وَ اَمۡنًا ؕ وَ اتَّخِذُوۡا مِنۡ مَّقَامِ اِبۡرٰہٖمَ مُصَلًّی ؕ وَ عَہِدۡنَاۤ اِلٰۤی اِبۡرٰہٖمَ وَ اِسۡمٰعِیۡلَ اَنۡ طَہِّرَا بَیۡتِیَ لِلطَّآئِفِیۡنَ وَ الۡعٰکِفِیۡنَ وَ الرُّکَّعِ السُّجُوۡدِ ﴿۱۲۵﴾

“মাকামে ইবরাহীমকে তোমরা নামাযেরস্থায়ী জায়গা করে লও।” (সূরা বাকারা : আয়াত-১২৫)

২. আমি বলেছিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কাছে (উম্মুল মু’মিনীনের ঘরে) নেককার বদ্‌কার সব রকমের লোকই আসা যাওয়া করে। তাই আপনি যদি উম্মুল মু’মিনীনকে পর্দা করার আদেশ করতেন (তাহলে কতই না উত্তম হতো)! এর পরই আল্লাহ তাআলা পর্দার আয়াত নাযিল করেন।

৩. তিনি বলেন, এক সময় আমি জানতে পারলাম, নবী (সাঃ) তাঁর কোন স্ত্রীকে তিরষ্কার করেছেন এবং তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তাই আমি উম্মুল মু’মিনীনের কাছে গিয়ে বললাম, আপনারা নবীকে নারাজ করা থেকে বিরত থাকুন। অন্যথায় আল্লাহ তাঁর রাসূলকে আপনাদের পরিবর্তে আরো অতি উত্তম বিবি প্রদান করতে পারেন। এরপরই মহান আল্লাহ ওহী নাযিল করেন–

عَسٰی رَبُّہٗۤ اِنۡ طَلَّقَکُنَّ اَنۡ یُّبۡدِلَہٗۤ اَزۡوَاجًا خَیۡرًا مِّنۡکُنَّ مُسۡلِمٰتٍ مُّؤۡمِنٰتٍ قٰنِتٰتٍ تٰٓئِبٰتٍ عٰبِدٰتٍ سٰٓئِحٰتٍ ثَیِّبٰتٍ وَّ اَبۡکَارًا ﴿۵﴾

“এ কোন বিস্ময়ের ব্যাপার নয় যে, তিনি [নবী (সাঃ)] যদি তোমাদেরকে তালাক দিয়ে দেন, তাহলে আল্লাহ তা’আলা তাঁকে তোমাদের পরিবর্তে আরো অতি উত্তম মুসলিমা মু’মিনা, অনুগত ও ধৈর্য ধারণকারিণী, তাওবাহ্ কারিণী, ইবাদাতকারিণী, রোযাদার, সাইয়্যিবা (যুবতী) ও কুমারী দান করবেন।” (সূরা আত তাহরীম- ৫; বুখারী, ৪৪৮৩)