hadith book logo

ওমর (রাঃ) সম্পর্কে ১৫০টি শিক্ষণীয় ঘটনা

লেখকঃ আহমাদ আবদুল আলী তাহতাভী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬

৩. বোনের বাড়ির দিকে ওমর (রাঃ)

ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ছুটলেন তার বোন-ভগ্নিপতির বাড়ির দিকে। ঘরের দরজায় ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর করাঘাত পড়ল, তারা দু’জন ঐ সময় খাব্বাব ইবনে আরাত এর কাছে কুরআন শিখছিলেন। ওমরের আভাস পেয়ে খাব্বাব আত্মগোপন করলেন। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বোন-ভগ্নিপতিকে প্রথমেই জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের এখানে গুণগুণ আওয়াজ শুনছিলাম, তা কিসের? তারা তখন কুরআনের সূরা ত্বাহা পাঠ করছিলেন।

তারা উত্তর দিলেন, আমরা নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলছিলাম। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, সম্ববতঃ তোমরা দু’জন ধর্মত্যাগী হয়েছ। ভগ্নিপতি বললেন, তোমার ধর্ম ছাড়া অন্য কোথাও যদি সত্য থাকে তুমি কি করবে ওমর? ওমর তাঁর ভগ্নিপতির উপর ঝাপিয়ে পড়লেন এবং দু’পায়ে ভীষণভাবে তাঁকে মাড়তে লাগলেন। বোন তাঁর স্বামীকে বাঁচাতে এলে ওমর তাকে ধরেও এমন মার দিলেন যে, তাঁর মুখ রক্তাক্ত হয়ে গেল। বোন রাগে উত্তেজিত হয়ে বলে উঠলেন, সত্য যদি তোমার দ্বীনের বাইরে অন্য কোথাও থেকে থাকে, তাহলে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নেই এবং আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর রাসূল।

এরপর ওমর বললেন, তোমরা কী পড়তে ছিলে আমাকে দেখাও, বোন বললেন, তুমি অপবিত্র তাই গোসল অথবা অযু করে আস। এরপর উমর ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লেন পরে ঘরে আসলেন। তখন বোন সহীফাটি দিলেন সেখানে লেখা ছিল–

طٰہٰ ۚ ﴿۱﴾ مَاۤ اَنۡزَلۡنَا عَلَیۡکَ الۡقُرۡاٰنَ لِتَشۡقٰۤی ۙ ﴿۲﴾ اِلَّا تَذۡکِرَۃً لِّمَنۡ یَّخۡشٰی ۙ ﴿۳﴾ تَنۡزِیۡلًا مِّمَّنۡ خَلَقَ الۡاَرۡضَ وَ السَّمٰوٰتِ الۡعُلٰی ؕ ﴿۴﴾ اَلرَّحۡمٰنُ عَلَی الۡعَرۡشِ اسۡتَوٰی ﴿۵﴾ لَہٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الۡاَرۡضِ وَ مَا بَیۡنَہُمَا وَ مَا تَحۡتَ الثَّرٰی ﴿۶﴾ وَ اِنۡ تَجۡہَرۡ بِالۡقَوۡلِ فَاِنَّہٗ یَعۡلَمُ السِّرَّ وَ اَخۡفٰی ﴿۷﴾ اَللّٰہُ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ؕ لَہُ الۡاَسۡمَآءُ الۡحُسۡنٰی ﴿۸﴾

১. ত্বা-হা-,

২. তুমি কষ্ট পাবে এজন্য আমি তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করিনি,

৩. বরং যে ভয় করে কেবল তার উপদেশ লাভের জন্য,

৪. যিনি পৃথিবী ও সমুচ্চ আকাশমণ্ডলী সৃষ্টি করেছেন তাঁর নিকট হতে এটা অবতীর্ণ,

৫. দয়াময় আরশে সমাসীন।

৬. যা আছে আকাশমণ্ডলীতে, পৃথিবীতে, এ দু’য়ের মধ্যবর্তী স্থানে ও ভূগর্ভে তা তারই।

৭. যদি তুমি উচ্চকণ্ঠে কথা বলো, তবে তিনি তো যা গুপ্ত ও অব্যক্ত সকলই জানেন।

৮. আল্লাহ, তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই, সুন্দর সুন্দর নাম তারই।

এরপর নিচের আয়াতগুলো দেখলেন–

اِنَّنِیۡۤ اَنَا اللّٰہُ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّاۤ اَنَا فَاعۡبُدۡنِیۡ ۙ وَ اَقِمِ الصَّلٰوۃَ لِذِکۡرِیۡ ﴿۱۴﴾ اِنَّ السَّاعَۃَ اٰتِیَۃٌ اَکَادُ اُخۡفِیۡہَا لِتُجۡزٰی کُلُّ نَفۡسٍۭ بِمَا تَسۡعٰی ﴿۱۵﴾ فَلَا یَصُدَّنَّکَ عَنۡہَا مَنۡ لَّا یُؤۡمِنُ بِہَا وَ اتَّبَعَ ہَوٰىہُ فَتَرۡدٰی ﴿۱۶﴾

১৪. ‘আমিই আল্লাহ, আমি ব্যতীত সত্য কোন ইলাহ নেই। অতএব আমার ইবাদাত করো এবং আমার স্মরণার্থে সালাত কায়েম করো।

১৫. কিয়ামাত অবশ্যম্ভাবী, আমি এটা গোপন রাখতে চাই যাতে প্রত্যেকেই নিজ কর্মানুযায়ী ফল লাভ করতে পারে।

১৬. সুতরাং যে ব্যক্তি কিয়ামত বিশ্বাস করে না ও নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, সে যেন তোমাকে তাতে বিশ্বাস স্থাপনে নিবৃত্ত না করে, নিবৃত্ত হলে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে।

এ আয়াতগুলো দেখে বললেন, যে ব্যক্তি এ বাক্যগুলো পড়বে তার জন্য আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদাত করা সমিচীন নয়। তোমরা আমাকে নিয়ে মুহাম্মাদের কাছে চল। (তারীখুল খুলাফা, ৪৩-৪৪)