hadith book logo

ওমর (রাঃ) সম্পর্কে ১৫০টি শিক্ষণীয় ঘটনা

লেখকঃ আহমাদ আবদুল আলী তাহতাভী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৫

৩২. আবু বকর (রাঃ) এবং ওমর (রাঃ) এর মধ্যকার বিষয়

আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একদা আমি নবী (সাঃ)-এর কাছে বসা ছিলাম। হঠাৎ আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর লুঙ্গির একপাশ এমনভাবে ধরে হাজির হলেন যে, তার হাঁটু পর্যন্ত দেখা যাচ্ছিল। তখন নবী (সাঃ) বললেন, তোমাদের এ সঙ্গীটি ক্ষেপে গেছেন। অতঃপর আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু সালাম করলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার ও খাত্তাব তনয়ের মাঝে কিছু বাকবিতণ্ডা হয় এবং আমিই তাকে প্রথমে কিছু বিদ্রুপ কথা বলে ফেলি। পরে আমি নিজের ভুল বুঝে তার নিকট মাফ চাই। কিন্তু তিনি আমাকে মাফ করতে রাজী হলেন না। তাই আপনার কাছে হাজির হয়েছি। তখন তিনি তিনবার এ কথাটি বললেন, হে আবু বকর! আল্লাহ তোমাকে মাফ করবেন।

ওদিকে ‘ওমর তাঁর নিজের কাজের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আবু বাকরের বাড়ি যান এবং জিজ্ঞেস করেন, এখানে কি আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু আছেন? লোকেরা বলল, ‘না, নেই। অতঃপর ‘ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী (সাঃ)-এর কাছে গিয়ে হাজির হলেন। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু -কে দেখে নবী (সাঃ) এর মুখমণ্ডল বিবর্ণ হতে লাগল। এতে আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ভীত হয়ে গেলেন এবং নতজানু হয়ে আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ! আমিই অধিকতর অন্যায় আচরণকারী ছিলাম। এ কথাটি তিনি দু’বার বললেন।

তখন নবী (সাঃ) বললেন, এটা তো নিশ্চিত যে, আল্লাহ যখন আমাকে নবী মনোনীত করে তোমাদের কাছে পাঠিয়েছেন তখন তোমরা সবাই বলেছিলে, আপনি মিথ্যা বলছেন। কিন্তু আবূ বক্‌র রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছিল, তিনি মুহাম্মাদ সত্য বলেছেন। তারপর সে নিজের সত্তা ও সমস্ত ধন সম্পদ দিয়ে আমার প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছে। এমতাবস্থায় তোমরা কি আমার সৌজন্যে আমার এ সাথীর দোষ-ক্রটি ত্যাগ করতে পার না। শেষ কথাটি তিনি দু’বার বললেন। এ ঘটনার পর আবু বক্‌রকে আর কখনো দুঃখ দেয়া হয়নি। অর্থাৎ কেউ তার প্রতি কঠোর ব্যবহার করেননি। (বুখারী, হাদীস-৩৬৬১)