১
ওমর (রাঃ) সম্পর্কে ১৫০টি শিক্ষণীয় ঘটনা
লেখকঃ আহমাদ আবদুল আলী তাহতাভী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৪৮
১৪৬. অপরাধী
ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ঐ সব বন্দীদেরকে মদীনায় প্রবেশের অনুমতি দিতেন না, যারা সদ্য বালেগ হয়েছে। হযরত মুগীরা ইবনে শুবা রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন কুফা নগরীতে ছিলেন তখন তিনি ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এমন এক দাসের জন্য অনুমতি চাইলেন যাকে আবু লুলু নামে ডাকা হতো এবং তার নাম ছিল ফাইরুয। সে এমন অনেক কাজ করত যার দ্বারা লোকেরা উপকার লাভ করত। সে ছিল একাধারে কর্মকার, চিত্রকর (নকশাকার) ও কাঠমিস্ত্রী। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তার ব্যাপারে অনুমতি দিলেন। মুগীরা রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে পাঠিয়ে দিলেন। আর সে তাকে দৈনিক মাত্র চার দেরহাম ভোগ করার সুযোগ দিত অথচ সে তার (মুগীরার) জন্য মাসে এক হাজার দিরহাম আয় করে দিত।
কেননা সে (গোলাম) বেশি করে জাতাকল ঘুরাত অর্থাৎ বেশি কাজ করত। সুতরাং গোলাম একদিন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর কাছে আসল এবং মুগীরা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ব্যাপারে সে নালিশ করে বলল যে, হে আমিরুল মু’মিনীন! সে আমার উপর বেশি করে কাজের বোঝা চাপিয়ে দেয় সুতরাং আপনি তাকে একটু বলে দিন তিনি যেন আমার কাজের চাপটা কমিয়ে দেন। তখন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন, তোমার কাজটি কি সুন্দর? ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে আরো বললেন, তোমার কাজের ফল অনেক। তুমি আল্লাহকে ভয় কর আর তোমার মনিবের উপর সদয় হও। আর ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ইচ্ছা করলেন তার ব্যাপারে তিনি মুগীরার সাথে সাক্ষাত করবেন এবং তার কাজ কমিয়ে দিতে বলবেন। অতপর গোলাম রাগান্বিত হয়ে চলে গেল। আর বলল যে, তার ন্যায়পরায়নতা আমি ব্যতীত অন্য মানুষের জন্য বৃদ্ধি পাক। আর সে ছিল অত্যন্ত খারাপ। যখন কোন ছোট বন্দী আনা হত তখন সে তাদের মাথা স্পর্শ করত এবং ক্রন্দন করত আর বলত ওমর আমার কলিজা খেয়েছে।
অতপর সে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু -কে হত্যা করার কথা মনে মনে ভাবতে লাগল। আর সে একদিন ছুরি সংগ্রহ করল এবং এতে অত্যাধিক পরিমাণে ধার দিল। অতঃপর সে হারমিযান নামক স্থানে আসল এবং বলল যে, এটার ব্যাপারে তোমাদের ধারণা কি? একজন লোক বলল যে, এটা দ্বারা তুমি যাকে আঘাত করবে সে মারা যাবে। এরপর আবু লুলু তার মনোবাসনা পূরণ করার জন্য সুযোগ খুঁজতে লাগল। একদিন সে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছ দিয়ে যাচ্ছিল তখন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন, আমি কি তোমাকে বলিনি যে, তোমার জন্য একটি দ্রুতগতি সম্পন্ন চাকা তৈরি করব যা বাতাসের গতিতে চলবে। তখন ঐ গোলাম ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর দিকে রাগান্বিত হয়ে তাকাল। (তখন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সাথে একদল লোক ছিল) তখন সে গোলাম বলল, আমিও আপনার জন্য একটি চাকা তৈরি করব। (আখবারু ওমর, পৃঃ ৪০২, ৪০৩)
কেননা সে (গোলাম) বেশি করে জাতাকল ঘুরাত অর্থাৎ বেশি কাজ করত। সুতরাং গোলাম একদিন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর কাছে আসল এবং মুগীরা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ব্যাপারে সে নালিশ করে বলল যে, হে আমিরুল মু’মিনীন! সে আমার উপর বেশি করে কাজের বোঝা চাপিয়ে দেয় সুতরাং আপনি তাকে একটু বলে দিন তিনি যেন আমার কাজের চাপটা কমিয়ে দেন। তখন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন, তোমার কাজটি কি সুন্দর? ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে আরো বললেন, তোমার কাজের ফল অনেক। তুমি আল্লাহকে ভয় কর আর তোমার মনিবের উপর সদয় হও। আর ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ইচ্ছা করলেন তার ব্যাপারে তিনি মুগীরার সাথে সাক্ষাত করবেন এবং তার কাজ কমিয়ে দিতে বলবেন। অতপর গোলাম রাগান্বিত হয়ে চলে গেল। আর বলল যে, তার ন্যায়পরায়নতা আমি ব্যতীত অন্য মানুষের জন্য বৃদ্ধি পাক। আর সে ছিল অত্যন্ত খারাপ। যখন কোন ছোট বন্দী আনা হত তখন সে তাদের মাথা স্পর্শ করত এবং ক্রন্দন করত আর বলত ওমর আমার কলিজা খেয়েছে।
অতপর সে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু -কে হত্যা করার কথা মনে মনে ভাবতে লাগল। আর সে একদিন ছুরি সংগ্রহ করল এবং এতে অত্যাধিক পরিমাণে ধার দিল। অতঃপর সে হারমিযান নামক স্থানে আসল এবং বলল যে, এটার ব্যাপারে তোমাদের ধারণা কি? একজন লোক বলল যে, এটা দ্বারা তুমি যাকে আঘাত করবে সে মারা যাবে। এরপর আবু লুলু তার মনোবাসনা পূরণ করার জন্য সুযোগ খুঁজতে লাগল। একদিন সে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছ দিয়ে যাচ্ছিল তখন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন, আমি কি তোমাকে বলিনি যে, তোমার জন্য একটি দ্রুতগতি সম্পন্ন চাকা তৈরি করব যা বাতাসের গতিতে চলবে। তখন ঐ গোলাম ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর দিকে রাগান্বিত হয়ে তাকাল। (তখন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সাথে একদল লোক ছিল) তখন সে গোলাম বলল, আমিও আপনার জন্য একটি চাকা তৈরি করব। (আখবারু ওমর, পৃঃ ৪০২, ৪০৩)