hadith book logo

হাদীস সংকলনের ইতিহাস

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১১৫

মুসান্নাফ আবূ বকর ইবনে শায়বাহ

এই পর্যায়ে ইমাম আবূ বকর ইবনে শায়বার হাদীস গ্রন্হাবলী বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁহার সংকলিত ‘মুসনাদ’ ও মুসন্নাফ’ তৃতীয় হিজরী শতকের প্রখ্যাত হাদীস গ্রন্হ। ‘মুসান্নাফ’ এক অতুলনীয় গ্রন্হ বলিয়া মুহাদ্দিসগণ একবাক্যে উল্লেখ করিয়াছেন। ইহা তাঁহাদের দৃষ্টিতে এক গৌরবের বস্তুও বটে। হাফেজ ইবনে কাসীর এতদূর বলিয়াছেনঃ

‘মুসান্নাফ’ এমনই একখানি গ্রন্হ যে, এইরূপ একখানি গ্রন্হ কেহ কখনো সংকলন করেন নাই, না ইহার পূর্বৈ না ইহার পরে।

হাফেজ ইবনে হাজম আন্দালূসী ইহাকে ‘মূয়াত্তা ইমাম মালিক’ হইতেও অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ ও অধিকতর মর্যাদাসম্পন্ন গ্রন্হ বলিয়া ঘোষণা করিয়াছেন।

বস্তুত সহীহ মুসলিম, সুনানে আবূ দাউদ ও সুনানে ইবনে মাজাহ- সিহাহ সিত্তার এই প্রখ্যাত গ্রন্হত্রয়ে ‘মুয়াত্তা’ অপেক্ষা বেশী হাদীস আবূ বকর ইবনে শায়বার এই ‘মুসান্নাফ’ হইতে গ্রহণ করা হইয়াছে।

এই গ্রন্হ কেবলমাত্র ‘আহকাম’ সম্পর্কিত হাদীস গৃহীত হইয়াছে- যাহা হইতে ফিকাহর কোন না কোন মাসায়ালা প্রকাশিত হয়। কিন্তু তাহাতে যেমন বিশেষ কোন ফিকাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় নাই, তেমনি কোনটির প্রতি অধিক গুরুত্বও আরোপ করা হয় নাই। বরং হিজায ও ইরাক অঞ্চলের হাদীস বর্ণনাকারীদের নিকট যত হাদীসই পাওযা গিয়াছে তাহা সবই সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ নীতিতে এই গ্রন্হে গ্রহণ করা হইয়াছে। ফলে এই গ্রন্হ হইতে প্রত্যেক ফিকাহবিদই নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে নিজের মত গ্রহণ ও উহার অনুকূলে হাদীসের ভিত্তি বা প্রমাণ সংগ্রহ করিতে পারেন।

এই গ্রন্হের আর একটি বৈশিষ্ট্য এই যে, ইহাতে প্রত্যেকটি ‘হাদীস নববী’র সঙ্গে সঙ্গে সাহাবা ও তাবেয়ীনের কথা ও ফতোয়াও উদ্ধৃত হইয়াছে। ফলে প্রত্যেকটি হাদীস সম্পর্কে সাহাবী ও তাবেয়ীদের কি মত ছিল, তাহা সহজেই জানা যাইতে পারে। ‘কাশফুজ্জুনুন’ প্রণেতা এই গ্রন্হ সম্পর্কে লিখিয়াছেনঃ

ইহা এক বিরাট গ্রন্হ। ইহাতে তাবেয়ীদের ফতোয়া, সাহাবীদের বানী ও রাসূল (ﷺ)- এর হাদীসসমূহ মুহাদ্দিসদের রীতি অনুযায়ী সনদ সহকারে সন্নিবেশিত করা হইয়াছে এবং ফিকাহর কিতাব সংকলনের ধারা অনুযায়ী ইহার অধ্যায় ও পরিচ্ছেদসমূহ সজ্জিত করা হইয়াছে।

ইবনে আবূ শায়বার বিশিষ্টি ছাত্র শায়খুল ইসলাম বাকী ইবনে মাখলাদ যখন এই গ্রন্হখানা লইয়া আন্দালুসিয়া গমন করেন, তখন কোন মহলে ইহার বিরোধিতা করিলেও তথাকার শাসনকর্তা মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইহার আদ্যোপান্ত শ্রবণ করেন এবং রাজকীয় গ্রন্হালয়ের ভারপ্রাপ্তকে এই বলিয়া নির্দেশ দিলেনঃ

ইহা, এমনই এক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্হ যে, আমাদের গ্রন্হালয়ে ইহার বিশেষ প্রয়োজন রহিয়াছে। অতএব উহার অনুলিপি গ্রহণের ব্যবস্থা কর।