১
হাদীস সংকলনের ইতিহাস
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৯৫
মিঃ ম্যূরের উক্তি
স্যার ইউলিয়াম ম্যূর তাঁহার গ্রন্হ Life of Muhammad- এ মুহাদ্দিসগণের হাদীস যাচাই পদ্ধতি সম্পর্কে একর্টি অমূলক উক্তি করিয়াছেন। তিনি বলিয়াছেনঃ
মুহাদ্দিসগণ কি ধরনের হাদীস সমালোচনা ও যাচাই পরখ করিতেন তাহা সুস্পষ্ট। তাহা এতদুর কঠোর যে, গড়ে শতকরা নিরানব্বইটি হাদীসকেই গ্রহণ-অযোগ্য গণ্য করিয়াছেন।
বস্তুত মিঃ ম্যূরের এই কথাটিরও কোন মৌলিক ভিত্তি নাই। তিনি মুহাদ্দিসদের হাদীস-যাচাই-বাচাই পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিকরূপে অবহিত হইলে এইরূপ উক্তি কখনো করিতেন না। ইমাম বুখারী তাঁহার সংগৃহীত ছয় লক্ষ হাদীসের মধ্য হইতে অন্তত নয় হাজার হাদীস সম্বলিত হাদীস বুখারী প্রণয়ন করিয়াছেন, ঠিক ইহা হইতেই মিঃ ম্যূরের উপরোক্ত ধারণার সৃষ্টি হইয়াছে। কিন্তু ইমাম বুখারী তাঁহার গ্রন্হ সমাপ্ত করার পর বলিয়াছেন যে, বহু সহস্র সহীহ হাদীস এই গ্রন্হের অন্তর্ভূক্ত হইতে পারে নাই। ইহার সুস্পষ্ট অর্থ এই যে, তিনি যেসব হাদীস তাঁহার গ্রন্হে শামিল করেন নাই,তাহা অশুদ্ধ বা গ্রহণ অযোগ্য নহে এবং তাঁহার গ্রন্হে সন্নিবেশিত হাদীসসমূহ ছাড়াও আরো বহু সহস্র সহীহ হাদীস বর্তমান রহিয়াছে। মিঃ ম্যূর ইহা হইতে সন্দেহ করিয়া বসিয়াছেন যে, যেসব হাদীস বুখারী গ্রন্হে সন্নিবেশিত হয় নাই ইমাম বুখারী বুঝি সেই-সবকে ‘অশুদ্ধ’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য; বলিয়াই মনে করেন। ইমাম বুখারীর অগৃহীত হাদীসসমূহের সবই যদি বাস্তবিক গ্রহণের অযোগ্য হইত, তাহা হইলে তিনি উহাদের মধ্যে ‘সহীহ হাদীস রহিয়া গেল’ এমন কিছুতেই বলিতেন না। বস্তুত প্রত্যেক গ্রন্হ প্রণেতাই স্বীয় গ্রন্হের উপযোগী তথ্য বিপুল পরিমাণে সংগ্রহ করিয়া থাকেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত উহার সবকিছুকেই গ্রন্হে সন্নিবেশিত না করিলে যে তাহা সবই ‘অশুদ্ধ’ হইয়া যাইবে এমন কোন কথাই হইতে পারে না। এই তত্ত্ব বোধ হয় ম্যূর সাহেবের অজ্ঞাত রহিয়াছে। তিনি বোধ হয় ইহাও জানিতেন না যে, একজন মুহাদ্দিস কোন সব কারণে একটি হাদীসকে গ্রহণ- অযোগ্য ঘোষণা করিয়া থাকেন। এক একটি হাদীস বহুসংখ্যক সূত্রের মারফতে গ্রন্হকার পর্যন্ত পৌঁছিয়াছে, তিনি তাঁহার নিজস্ব মানদণ্ড অনুযায়ী উহাদের প্রত্যেকটি সূত্রেরই সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম যাচাই ও পরীক্ষা করিয়াছেন। যেসব সূত্রকে তিনি নির্ভরযোগ্য পাইয়াছেন, সেই সূত্র তিনি উক্ত হাদীস গ্রহণ করিয়াছেন, আর যেসব সূত্রের উপর তিনি নির্ভর করিতে পারেন নাই, অথবা যাহা প্রয়োজনাতিরিক্ত হইয়াছে তাহা তিনি পরিহান করিয়াছেন। কিন্তু ইহার দরুন বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত সেই মূল হাদীসটি কখনো অগ্রহণযোগ্য হইয়া যায় না। বস্তুত হাদীসের সংখ্যা গণনা করা হয় উহার মতন-এর দৃষ্টিতে নয়, বরং বর্ণনা পরম্পরাসূত্রের ত্মঃশুস্ফত্র হিসাবে। এই কারণে ইমাম বুখারীর নিকট সংগ্রহীত মূল হাদীস কত সংখ্যক ছিল এবং তাহা কত কত সূত্রের মারফতে তাঁহার নিকট পৌঁছিয়াছিল, তাহা নিশ্চয় করিয়া বলা যায় না।
মুহাদ্দিসগণ কি ধরনের হাদীস সমালোচনা ও যাচাই পরখ করিতেন তাহা সুস্পষ্ট। তাহা এতদুর কঠোর যে, গড়ে শতকরা নিরানব্বইটি হাদীসকেই গ্রহণ-অযোগ্য গণ্য করিয়াছেন।
বস্তুত মিঃ ম্যূরের এই কথাটিরও কোন মৌলিক ভিত্তি নাই। তিনি মুহাদ্দিসদের হাদীস-যাচাই-বাচাই পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিকরূপে অবহিত হইলে এইরূপ উক্তি কখনো করিতেন না। ইমাম বুখারী তাঁহার সংগৃহীত ছয় লক্ষ হাদীসের মধ্য হইতে অন্তত নয় হাজার হাদীস সম্বলিত হাদীস বুখারী প্রণয়ন করিয়াছেন, ঠিক ইহা হইতেই মিঃ ম্যূরের উপরোক্ত ধারণার সৃষ্টি হইয়াছে। কিন্তু ইমাম বুখারী তাঁহার গ্রন্হ সমাপ্ত করার পর বলিয়াছেন যে, বহু সহস্র সহীহ হাদীস এই গ্রন্হের অন্তর্ভূক্ত হইতে পারে নাই। ইহার সুস্পষ্ট অর্থ এই যে, তিনি যেসব হাদীস তাঁহার গ্রন্হে শামিল করেন নাই,তাহা অশুদ্ধ বা গ্রহণ অযোগ্য নহে এবং তাঁহার গ্রন্হে সন্নিবেশিত হাদীসসমূহ ছাড়াও আরো বহু সহস্র সহীহ হাদীস বর্তমান রহিয়াছে। মিঃ ম্যূর ইহা হইতে সন্দেহ করিয়া বসিয়াছেন যে, যেসব হাদীস বুখারী গ্রন্হে সন্নিবেশিত হয় নাই ইমাম বুখারী বুঝি সেই-সবকে ‘অশুদ্ধ’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য; বলিয়াই মনে করেন। ইমাম বুখারীর অগৃহীত হাদীসসমূহের সবই যদি বাস্তবিক গ্রহণের অযোগ্য হইত, তাহা হইলে তিনি উহাদের মধ্যে ‘সহীহ হাদীস রহিয়া গেল’ এমন কিছুতেই বলিতেন না। বস্তুত প্রত্যেক গ্রন্হ প্রণেতাই স্বীয় গ্রন্হের উপযোগী তথ্য বিপুল পরিমাণে সংগ্রহ করিয়া থাকেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত উহার সবকিছুকেই গ্রন্হে সন্নিবেশিত না করিলে যে তাহা সবই ‘অশুদ্ধ’ হইয়া যাইবে এমন কোন কথাই হইতে পারে না। এই তত্ত্ব বোধ হয় ম্যূর সাহেবের অজ্ঞাত রহিয়াছে। তিনি বোধ হয় ইহাও জানিতেন না যে, একজন মুহাদ্দিস কোন সব কারণে একটি হাদীসকে গ্রহণ- অযোগ্য ঘোষণা করিয়া থাকেন। এক একটি হাদীস বহুসংখ্যক সূত্রের মারফতে গ্রন্হকার পর্যন্ত পৌঁছিয়াছে, তিনি তাঁহার নিজস্ব মানদণ্ড অনুযায়ী উহাদের প্রত্যেকটি সূত্রেরই সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম যাচাই ও পরীক্ষা করিয়াছেন। যেসব সূত্রকে তিনি নির্ভরযোগ্য পাইয়াছেন, সেই সূত্র তিনি উক্ত হাদীস গ্রহণ করিয়াছেন, আর যেসব সূত্রের উপর তিনি নির্ভর করিতে পারেন নাই, অথবা যাহা প্রয়োজনাতিরিক্ত হইয়াছে তাহা তিনি পরিহান করিয়াছেন। কিন্তু ইহার দরুন বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত সেই মূল হাদীসটি কখনো অগ্রহণযোগ্য হইয়া যায় না। বস্তুত হাদীসের সংখ্যা গণনা করা হয় উহার মতন-এর দৃষ্টিতে নয়, বরং বর্ণনা পরম্পরাসূত্রের ত্মঃশুস্ফত্র হিসাবে। এই কারণে ইমাম বুখারীর নিকট সংগ্রহীত মূল হাদীস কত সংখ্যক ছিল এবং তাহা কত কত সূত্রের মারফতে তাঁহার নিকট পৌঁছিয়াছিল, তাহা নিশ্চয় করিয়া বলা যায় না।