১
হাদীস সংকলনের ইতিহাস
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৯০
হযরত আলী (রা)
যে কয়জন সাহাবী নিজেদের হাতে রাসূলের নিকট শ্রুত হাদীস লিপিবদ্ধ করিয়া লইয়াছিলেন, হযরত আলী (রা) তাঁহাদের অন্যতম।তিনি কুরআনের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ সম্পর্কে কয়েকটি হাদীস রাসূলের নিকট হইতে শ্রবণ করিয়া লিখিয়াছিলেন। এই হাদীস সমষ্টির তিনি নাম দিয়াছিলেন ‘সহীফা’। ইহাকে ভাঁজ করিয়া তিনি তাঁহার তলোয়ারের খাপের মধ্যে সযত্নে রাখিয়া দিয়াছিলেন। ইহাতে ব্যবহারিক ও কাজকর্ম সংক্রান্ত হুকুম আহকামের কয়েকটি হাদীস লিখিত ছিল।
[সহীহ বুখারী শরীফ, কিতাবুল ইলম ও কিতাবূল ই’তেসাম, মুসনাদে আহমদ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭০৯।]
পরবর্তীকালে এই সহীফাখানিকে তিনি হযরত উসমানের নিকট পাঠাইয়া দেন হাদীসের একখানি লিখিত দস্তাবেজ হিসাবে। তাঁহার পুত্র মুহাম্মদ ইবনুল হানাফীয়া বলেনঃ
আমাকে আমার পিতা এই বলিয়া পাঠাইয়া দিলেন যে, এই কিতাবখানি লইয়া খলীফা উসমান (রা)- এর নিকট যাও। ইহাতে সদকা ও যাকাত সম্পর্কে রাসূলে করীমের ফরমান লিখিত রহিয়াছে।
উপরিউক্ত আলোচনা হইত প্রমাণিত হয় যে, খুলাফায়ে রাশেদীনের আমলে হাদীস প্রচারিত হইয়াছে, উহা শিক্ষাদানের কাজ পূর্ণ মাত্রায় চলিয়াছে এবং রাষ্ট্র পরিচালনা ও বিচার-আচারে উহা আইনের অন্যতম ভিত্তি হওয়ার মর্যাদা লাভ করিয়াছে। খণ্ডভাবে বিভিন্ন লোকদের দ্বারা উহা লিখিত এবং সংগৃহীতও হইয়াছে। কিন্তু হাদীস যথাযথভাবে গ্রন্হকারে সংকলিত হয় নাই। তখন পর্যন্ত তাহা বহু তাবেয়ী তাহাদের নিকট হইতে উহা শিক্ষা ও সংগ্রহ করিয়া বহু লোকের মাঝে ব্যাপকভাবে প্রচার করিয়া দিয়াছেন। কিন্তু হাদীস যথারীতি গ্রন্হকারে সংকলনের কাজ এই পর্যায়ে কেহ করিয়াছেন- ইতিহাসে ইহার কোন নজীর পাওয়া যায় না। এইভাবেই ইসলামী ইতিহাসের প্রায় একটি শতাব্দীকাল অতিক্রম হয়। হিজরী প্রথম শতকের শেষভাগে ইহার ব্যতিক্রম ঘটে এবং হাদীস সংকলনের ব্যাপারে এক বিপ্লবী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
[সহীহ বুখারী শরীফ, কিতাবুল ইলম ও কিতাবূল ই’তেসাম, মুসনাদে আহমদ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭০৯।]
পরবর্তীকালে এই সহীফাখানিকে তিনি হযরত উসমানের নিকট পাঠাইয়া দেন হাদীসের একখানি লিখিত দস্তাবেজ হিসাবে। তাঁহার পুত্র মুহাম্মদ ইবনুল হানাফীয়া বলেনঃ
আমাকে আমার পিতা এই বলিয়া পাঠাইয়া দিলেন যে, এই কিতাবখানি লইয়া খলীফা উসমান (রা)- এর নিকট যাও। ইহাতে সদকা ও যাকাত সম্পর্কে রাসূলে করীমের ফরমান লিখিত রহিয়াছে।
উপরিউক্ত আলোচনা হইত প্রমাণিত হয় যে, খুলাফায়ে রাশেদীনের আমলে হাদীস প্রচারিত হইয়াছে, উহা শিক্ষাদানের কাজ পূর্ণ মাত্রায় চলিয়াছে এবং রাষ্ট্র পরিচালনা ও বিচার-আচারে উহা আইনের অন্যতম ভিত্তি হওয়ার মর্যাদা লাভ করিয়াছে। খণ্ডভাবে বিভিন্ন লোকদের দ্বারা উহা লিখিত এবং সংগৃহীতও হইয়াছে। কিন্তু হাদীস যথাযথভাবে গ্রন্হকারে সংকলিত হয় নাই। তখন পর্যন্ত তাহা বহু তাবেয়ী তাহাদের নিকট হইতে উহা শিক্ষা ও সংগ্রহ করিয়া বহু লোকের মাঝে ব্যাপকভাবে প্রচার করিয়া দিয়াছেন। কিন্তু হাদীস যথারীতি গ্রন্হকারে সংকলনের কাজ এই পর্যায়ে কেহ করিয়াছেন- ইতিহাসে ইহার কোন নজীর পাওয়া যায় না। এইভাবেই ইসলামী ইতিহাসের প্রায় একটি শতাব্দীকাল অতিক্রম হয়। হিজরী প্রথম শতকের শেষভাগে ইহার ব্যতিক্রম ঘটে এবং হাদীস সংকলনের ব্যাপারে এক বিপ্লবী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।