hadith book logo

হাদীস সংকলনের ইতিহাস

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২৮

সুনানে নাসায়ী

ইমাম নাসায়ী প্রথমে ‘সুনানুল কুবরা’ নামে একখানি হাদীস গ্রন্হ প্রণয়ন করেন। তাহাতে সহীহ ও দোষমুক্ত উভয় প্রকারের হাদীস সন্নিবেশিত হইয়াছিল। অতঃপর উহারই এক সংক্ষিপ্ত সংস্করণ তৈরী করেন। উহার নাম ‘আসসুনানুস সুগরা’। ইহার অপর এক নাম হইতেছে ‘আল-মুজতবা’- সঞ্চয়িতা’।

এই শেষোক্ত সঞ্চয়নে ইমাম নাসায়ী ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের গ্রন্হ প্রণয়ন রীতির অনুসরণ করিয়াছেন। এই উভয়েল প্রবর্তিত রীতির সমন্বয় ঘটিয়াছে ইমাম নাসায়ীর এই গ্রন্হে। হাফেজ আবূ আবদুল্লাহ ইবনে রুশাইদ (মৃঃ ৭২১ হিঃ) বলিয়াছেনঃ

সুনানে পর্যায়ে হাদীসের যত গ্রন্হই প্রণয়ন করা হইয়াছে, তন্মধ্যে এই গ্রন্হখানি অতি আনকোরা রীতিতে প্রণয়ন করা হইয়াছে। আর সংযোজন ও সজ্জায়নের দৃষ্টিতেও উহা এক উত্তম গ্রন্হ। উহাতে বুখারী ও মুসলিম উভয়েরই রচনারীতির সমন্বয় হইয়াছে। হাদীসের ‘ইল্লাহ’ ও ইহাতে এক বিশেষ অংশে উদ্ধৃত হইয়াছে।

এই গ্রন্হখানির বিশুদ্ধতা সম্পর্কে ইমাম নাসায়ী নিজেই বলিয়াছেনঃ

‘হাদীসের সঞ্চয়ন’–মুজতাবা নামের গ্রন্হখানিতে উদ্ধৃত সমস্ত হাদীসই বিশুদ্ধ।

[ অবশ্য হাফেজ যাহবী এই সম্পর্কে ভিন্ন মত পোষন করেন। তিনি বলিয়াছেনঃ এই ‘আল-মুজতবা’ ইমাম নাসায়ীর কৃত নহে বরং তাঁহার ছাত্র ইবনে সামালী কৃত ]

বস্তুত ইমাম নাসায়ীর বর্ণিত হাদীসসমূহ সম্পর্কে প্রায় সকল শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিসেরই মত এই যে, অন্যান্যের বর্ণিত হাদীসের তুলনায় শুদ্ধতার দিক দিয়া উহা অধিকতর নির্ভরযোগ্য হইবে।

হাফেজ ইমাম আবুল হাসান মুযাফেরী (মৃঃ ৪০৩ হিঃ) বলিয়াছেনঃ

মুহাদ্দিসগণের বর্ণিত হাদীসসমূহ সম্পর্কে তুমি যখনি বিচার-বিবেচনা করিবে তখন একথা বুঝিতে পারিবে যে, ইমাম নাসায়ীর বর্ণিত হাদীস অপরে বর্ণিত হাদীসের তুলনায় শুদ্ধতার অধিক নিকটবর্তী হইবে।

ইমাম নাসায়ীর নিকট হইতে তাঁহার এই গ্রন্হ যদিও বহু ছাত্রই শ্রবণ করিয়াছেন, কিন্তু দশজন বড় মুহাদ্দিস এই গ্রন্হের ধারাবাহিক বর্ণনা করিয়াছেন।

ইমাম নাসায়ীর নিকট হইতে তাঁহার এই গ্রন্হ যদিও বহু ছাত্রই শ্রবণ করিয়াছেন, কিন্তু দশজন বড় বড় মুহাদ্দিস এই গ্রন্হের ধারাবাহিক বর্ণনা করিয়াছেন।

ইমাম নাসায়ীর এই গ্রন্হখানির শরাহ লিখিয়াছেন জালালুদ্দীন সুয়ূতী (মৃঃ ৯১১ হিঃ) ও মুহাম্মদ ইবনে আবদুল হাদীস আসসমদী (মৃঃ ১১৩৮ হিঃ)। সুয়ূতী লিখিত শরাহ গ্রন্হের নাম-