১
হাদীস সংকলনের ইতিহাস
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৪৭
পরিশিষ্ট-১
উপরের পৃষ্ঠাসমূহে হাদীসের সংখ্যা ও হাদীস সংকলনের দীর্ঘ ইতিহাস সবিস্তারে আলোচিত হইয়াছে। ইতিহাসের বিভিন্ন স্তারে হাদীস সংরক্ষণ, হাদীস সংকলন ও হাদীস গ্রন্হ প্রণয়নের বিরাট-মহান কর্মতৎপরতার সহিত পাঠকদের পরিচিত সংস্থাপিত হইয়াছে। পূর্ববর্তী আলোচনায় আমরা বিভিন্ন স্তরে রকম-বেরকমের হাদীসগ্রন্হ প্রণয়নের সহিতও পরিচিত হইয়াছি। এখানে বিভিন্ন পদ্ধতি ও ধরনের হাদীস গ্রন্হ প্রণয়ন সম্পর্কে স্বতন্ত্রভাবে এক আলোচনা পেশ করা হইয়াছে।
হাদীসগ্রন্হ প্রণয়নের বিভিন্ন ধরণ ও পদ্ধতি (Technique) রহিয়াছে। এই বিভিন্ন ধরনের প্রণীত গ্রন্হের নামও বিভিন্ন। যথাঃ
১. ‘আলজামে’– যেসব হাদীসগ্রন্হ আকায়েদ (বিশ্বাস) আহকাম (আদেশ-নিষেধ ও শরীয়াতের ব্যবহারিক নিয়ম), দয়া-সহানুভূতি, পানাহারের আচার, বিদেশ-সফর ও একস্থানে অবস্থান, কুরআনের তাফসীর, ইতিহাস, যুদ্ধ-সন্ধি , শক্রদের মুকাবিলায় বাহিনী প্রেরণ, ফিতনা-বিপর্যয়, প্রশংসা ও মর্যাদা বর্ণনা প্রভৃতি সকল প্রকারের হাদীস বিভিন্ন অধ্যায়ে সন্নিবেশিত হয়, এই সব গ্রন্হকে আল-জামে বলা হয়।
সিহাহ-সিত্তার মধ্যে নিম্নোক্ত গ্রন্হদ্বয় এই পর্যায়ে গণ্যঃ
(ক) আল-জামেউস সহীহুল বুখারী এবং (খ) আল-জামেউত তিরমিযী। সহীহ মুসলিম এই পর্যায়ে গণ নয়। কেননা উহাতে তাফসীল ও কিরাত সংক্রান্ত হাদীস সন্নিবেশিত হয় নাই।২
২. ‘আল-মুসনাদ’ ()- যে সব গ্রন্হে সাহাবীদের হইতে বর্ণিত হাদীসসমূহ তাঁহাদের নামের আক্ষরিক ক্রমিকতার ভিত্তিতে পর পর সংকলিত হয়; কিন্তু ফিকাহর প্রণয়ন পদ্ধতিতে সজ্জিত করা হয় না, সেই সব গ্রন্হ ‘আল-মুসনাদ’ বা ‘আল-মাসানীদ’ নামে পরিচিত। যেমন হযরত আবূ বকর সিদ্দীকের বর্ণিত সমস্ত হাদীস উহার বিষয়বস্তু নির্বিশেষে একত্রে লিপিবদ্ধ করা, তাঁহার পর অপর এক সাহাবীর বর্ণিত হাদীস একস্থানে একত্রিত করা।
ইহার সংকলন দুইভাবে হইতে পারেঃ আক্ষরিক ক্রমিকতা সহাকারে, যেমন প্রথমে হযরত আবূ বকরের বর্ণিত হাদীস, তাঁহার পর হযরত উসামা ইবনে যায়দ বর্ণিত হাদীস।
অথবা বর্ণনাকারী সাহাবীর পদমর্যাদার বা বংশ ম র্যঅদার ভিত্তিতেও হাদীসসমূহ সজ্জিত হইতে পারে। যেমন প্রথমে ক্রমিক ধারায় খুলাফায়ে রাশেদুন বর্ণিত হাদীসসমূহ, তাঁহাদের পরে অন্যান্য সাহাবীদের হাদীসসমূহ উল্লেখ করা।
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল সংকলিত হাদীস গ্রন্হ এই পদ্ধতিতেই সজ্জিত বলিয়া উহাকে ‘আল-মুসনাদ’ বলা হয়।
৩. আস সুনান ()-যেসব হাদীস গ্রন্হে কেবলমাত্র শরীয়াতের হুকুম আহকাম এবং ব্যবহারিক জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় নিয়মনীতি ও আদেশ-নিষেধমূলক হাদীস একত্র করা হ য়, আর ফিকাহর কিতাবের অনুরূফ বিভিন্ন অধ্যায় ও পরিচ্ছেদে সজ্জিত হয়, তাহাই ‘সুনান’ নামে পরিচিত। যেমন সুনানে আবূ দাঊদ, সুনানে নাসায়ী ও সুনানে ইবনে মাজাহ। তরমিযী শরীফও এক হিসাবে ‘সুনান’ পর্যায়ভুক্ত।
৪. ‘আল-মু’জিম’ ()-যেসব হাদীস গ্রন্হে মুসনাদ পদ্ধতিতে এক একজন হাদীসের উস্তাদের নিকট হইতে প্রাপ্ত হাদীস পর্যায়ক্রমে সাজানো হয়, তাহা আল-মু’জিম গ্রন্হ। যেমন তাবারানী সংকলিত তিনখানি গ্রন্হ।
৫. ‘আল-জুয’ ()-যেসব হাদীসগ্রন্হে একজন বর্ণনাকারীর বর্ণিত হাদীসসমূহ সন্নিবেশিত হইবে, সেই ব্যক্তি সাহাবীই হউক, কি তাঁহার পরবর্তী কোন উস্তাদের হাদীস। যেমনঃ ।
কিন্তু অপর কতিপয় হাদীস-বিজ্ঞানীর মতে ইহাকে ভ্রৎপ্ট বরা বলা হয় না, বলা হয় ‘আল-মুফরাদ’। তাঁহারেদ মতে বলা হয় এমন সব গ্রন্হকে যাহাতে একই বিষয় সংক্রান্ত হাদীসসমূহ একত্রিত করা হয়। যেমনঃ ইমাম বুখারীকৃত ও ।
৬. ‘আল-গরীবা’ ()-হাদীসের কোন উস্তাদ যদি তাঁহার বহু সংখ্যক ছাত্রের মধ্য হইতে মাত্র একজনকে বিশেষ কিছু হাদীস লখাইয়া দেন এবং অপর কাহাকেও তাহা না দেন, তবে এইসব হাদীসের সংকলনকে ‘আল-গরীবা’ বলা হইবে।
৭. আল মুস্তাখরাজাত ()- যে কিতাবে উল্লিখিত হাদীসসমূহ (কিংবা উহার অংশ বিশেষ) সংকলিত হয় এবং উহার ‘মতন’ মূল হাদীস ও নিজস্ব সনদ উল্লিখিত হয়, তাহাকে আল-মুস্তাখরাজ বলা হয়। এইরূপ বহু গ্রন্হ বিরচিত হইয়াছে। সহীহ বুখারীর হাদীসসমূ এইভাবে ও এই পদ্ধতিতে অনেকেই আলাদা আলাদা গ্রন্হে সংকলিত করিয়াছেন। তন্মধ্যে ইসমাঈলী, বরকানী, ইবনে আহমদ আল-গাতরিফী, আবূ আবদুল্লাহ ইবনে আবূ যাহল ও আবূ বকর ইবনে মুরদুইয়া প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।
অনুরূপভাবে সহীহ মুসলিমের হাদীসসমূহকেও সংকলন করা হইয়াছে। যাঁহারা করিয়াছেন তাঁহাদের মধ্যে হাফেজ ইয়াকুব ইবনে ইসহাক আল-ইসফারায়েনী, আবূ জা’ফর ইবনে হামদান, আবূ বকর মুহাম্মদ ইবনে রাজা নিশাপুরী, আবূ বকর আল-জাওকী, আবূ হামেদ শায়েকী, আবুল অলীদ হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল কারাশী প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ প্রধাণ।
আর আবূ নয়ীম ইসফাহানী, আবূ আবদুল্লাহ ইবনুল আহজাম, আবূ যার আল-হারভী, আবূ মুহাম্মদ আল-খালাল প্রমুক মুহাদ্দিসগণ বুখারী ও মুসলিম উভয় গ্রন্হের হাদীসসমূহকে একত্রে সংকলন করিয়াছেন।
তবে উপরে যে হাফেজ ইয়াকুবের ‘আল-মুস্তাখরাজ’ গ্রন্হের উল্লেখ করা হইয়াছে, তাহা যেমন সম্পূর্ণ, তেমনি বিশুদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য। ইহা জার্মানীর গ্রন্হাগারে এই সেদিন পর্যন্তও মজুদ ছিল।
৮. ‘আল-মুস্তাদরাক’ ()।যেসব হাদীস বিশেষ কোন হাদীস গ্রন্হে শামিল করা হয় নাই অথচ তাহা সেই গ্রন্হাকারের অনুসৃত শর্তে পূর্ণমাত্রায় উত্তীর্ণ হয়, তাহা যে গ্রন্হে একত্র করা হয়, তাহাকে ‘আল-মুস্তাদরাক’ বলা হয়। যেমন ইমাম হাফেজ সংকলিত ‘আল-মুস্তাদরাক’
ইমাম হাকেম বিপুল সংখ্যক হাদীস সংগ্রহ করিয়া স্বতন্ত্র দুই খণ্ডবিশিষ্ট গ্রন্হ প্রণয়ন করিয়াছেন। তাঁহার বিশ্বাস বা ধারণা এই যে, এই সমস্ত হাদীসই ইমাম বুখারীর হাদীস গ্রহণের শর্তে পূর্ণামাত্রায় উত্তীর্ণ এবং সহীহ কিন্তু বুখারী শরীফে তাহা করা হয় নাই। যদিও হাদীস-বিজ্ঞানীদের মতে ইহাতে বহু যয়ীফ ও মনগড়া () হাদীসও রহিয়াছে।
এতদ্ব্যতীত বুখারী ও মুসলিম উভয় গ্রন্হকারের শর্তের ভিত্তিতে হাদীস সংগ্রহ করিয়া আর একখানি গ্রন্হ প্রণয়ন করিয়াছেন হাফেজ আবূ যায় আবদ ইবনে হুমাইদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আনসারী (মৃঃ ৪৩৩ হিঃ)।
৯. ‘কিতাবুল-ইলাল’ ()।দোষমুক্ত হাদীসসমূহ এক গ্রন্হে সংকলিত করা হইল ও সেই সঙ্গে হাদীসসমূহের দোষ বা ক্রটিও বর্ণনা করা হইলে উহাকে ‘কিতাবুল-ইলাল’ বলা হয়। ইমাম মুসলিম (র) ও ইমাম হাফেজ আবূ ইয়াহইয়া(র) এই ধরণের গ্রন্হ প্রণয়ন করিয়াছেন। ইমাম যাহবী উল্লেখ করিয়াছেন যে, মুহাদ্দিস শাজীও এই পর্যায়ে এক গুরুত্বপূর্ণূ কিতাব রচনা করিয়াছেন।
১০. ‘কিতাবুল আতরাফ’ ()-হাদীসসমূহের এমন কোন অংশের উল্লেখ করা, যাহা হইতে অবশিষ্ট অংশও বুঝা যায়। এইরূপ গ্রন্হকে ‘কিতাবুল আতরাফ’ বলা হয়। ইহাতে হাদীসের সনদ সম্পূর্ণ উল্লেখ করা হয়। এই পর্যায়েও বহু সংখ্যক গ্রন্হ প্রণয়ন করা হইয়াছে। তন্মধ্যে পরবর্তী পৃষ্ঠায় উদ্ধৃত গ্রন্হদ্বয় উল্লেখযোগ্যঃ
১. ‘আল-আশরাফ আলিা তুহফাতিল আতরাফ’।
২. তুহফাতুল আশরাফ বি-মা’রিফাতিল আতরাফ।
হাদীসগ্রন্হ প্রণয়নের বিভিন্ন ধরণ ও পদ্ধতি (Technique) রহিয়াছে। এই বিভিন্ন ধরনের প্রণীত গ্রন্হের নামও বিভিন্ন। যথাঃ
১. ‘আলজামে’– যেসব হাদীসগ্রন্হ আকায়েদ (বিশ্বাস) আহকাম (আদেশ-নিষেধ ও শরীয়াতের ব্যবহারিক নিয়ম), দয়া-সহানুভূতি, পানাহারের আচার, বিদেশ-সফর ও একস্থানে অবস্থান, কুরআনের তাফসীর, ইতিহাস, যুদ্ধ-সন্ধি , শক্রদের মুকাবিলায় বাহিনী প্রেরণ, ফিতনা-বিপর্যয়, প্রশংসা ও মর্যাদা বর্ণনা প্রভৃতি সকল প্রকারের হাদীস বিভিন্ন অধ্যায়ে সন্নিবেশিত হয়, এই সব গ্রন্হকে আল-জামে বলা হয়।
সিহাহ-সিত্তার মধ্যে নিম্নোক্ত গ্রন্হদ্বয় এই পর্যায়ে গণ্যঃ
(ক) আল-জামেউস সহীহুল বুখারী এবং (খ) আল-জামেউত তিরমিযী। সহীহ মুসলিম এই পর্যায়ে গণ নয়। কেননা উহাতে তাফসীল ও কিরাত সংক্রান্ত হাদীস সন্নিবেশিত হয় নাই।২
২. ‘আল-মুসনাদ’ ()- যে সব গ্রন্হে সাহাবীদের হইতে বর্ণিত হাদীসসমূহ তাঁহাদের নামের আক্ষরিক ক্রমিকতার ভিত্তিতে পর পর সংকলিত হয়; কিন্তু ফিকাহর প্রণয়ন পদ্ধতিতে সজ্জিত করা হয় না, সেই সব গ্রন্হ ‘আল-মুসনাদ’ বা ‘আল-মাসানীদ’ নামে পরিচিত। যেমন হযরত আবূ বকর সিদ্দীকের বর্ণিত সমস্ত হাদীস উহার বিষয়বস্তু নির্বিশেষে একত্রে লিপিবদ্ধ করা, তাঁহার পর অপর এক সাহাবীর বর্ণিত হাদীস একস্থানে একত্রিত করা।
ইহার সংকলন দুইভাবে হইতে পারেঃ আক্ষরিক ক্রমিকতা সহাকারে, যেমন প্রথমে হযরত আবূ বকরের বর্ণিত হাদীস, তাঁহার পর হযরত উসামা ইবনে যায়দ বর্ণিত হাদীস।
অথবা বর্ণনাকারী সাহাবীর পদমর্যাদার বা বংশ ম র্যঅদার ভিত্তিতেও হাদীসসমূহ সজ্জিত হইতে পারে। যেমন প্রথমে ক্রমিক ধারায় খুলাফায়ে রাশেদুন বর্ণিত হাদীসসমূহ, তাঁহাদের পরে অন্যান্য সাহাবীদের হাদীসসমূহ উল্লেখ করা।
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল সংকলিত হাদীস গ্রন্হ এই পদ্ধতিতেই সজ্জিত বলিয়া উহাকে ‘আল-মুসনাদ’ বলা হয়।
৩. আস সুনান ()-যেসব হাদীস গ্রন্হে কেবলমাত্র শরীয়াতের হুকুম আহকাম এবং ব্যবহারিক জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় নিয়মনীতি ও আদেশ-নিষেধমূলক হাদীস একত্র করা হ য়, আর ফিকাহর কিতাবের অনুরূফ বিভিন্ন অধ্যায় ও পরিচ্ছেদে সজ্জিত হয়, তাহাই ‘সুনান’ নামে পরিচিত। যেমন সুনানে আবূ দাঊদ, সুনানে নাসায়ী ও সুনানে ইবনে মাজাহ। তরমিযী শরীফও এক হিসাবে ‘সুনান’ পর্যায়ভুক্ত।
৪. ‘আল-মু’জিম’ ()-যেসব হাদীস গ্রন্হে মুসনাদ পদ্ধতিতে এক একজন হাদীসের উস্তাদের নিকট হইতে প্রাপ্ত হাদীস পর্যায়ক্রমে সাজানো হয়, তাহা আল-মু’জিম গ্রন্হ। যেমন তাবারানী সংকলিত তিনখানি গ্রন্হ।
৫. ‘আল-জুয’ ()-যেসব হাদীসগ্রন্হে একজন বর্ণনাকারীর বর্ণিত হাদীসসমূহ সন্নিবেশিত হইবে, সেই ব্যক্তি সাহাবীই হউক, কি তাঁহার পরবর্তী কোন উস্তাদের হাদীস। যেমনঃ ।
কিন্তু অপর কতিপয় হাদীস-বিজ্ঞানীর মতে ইহাকে ভ্রৎপ্ট বরা বলা হয় না, বলা হয় ‘আল-মুফরাদ’। তাঁহারেদ মতে বলা হয় এমন সব গ্রন্হকে যাহাতে একই বিষয় সংক্রান্ত হাদীসসমূহ একত্রিত করা হয়। যেমনঃ ইমাম বুখারীকৃত ও ।
৬. ‘আল-গরীবা’ ()-হাদীসের কোন উস্তাদ যদি তাঁহার বহু সংখ্যক ছাত্রের মধ্য হইতে মাত্র একজনকে বিশেষ কিছু হাদীস লখাইয়া দেন এবং অপর কাহাকেও তাহা না দেন, তবে এইসব হাদীসের সংকলনকে ‘আল-গরীবা’ বলা হইবে।
৭. আল মুস্তাখরাজাত ()- যে কিতাবে উল্লিখিত হাদীসসমূহ (কিংবা উহার অংশ বিশেষ) সংকলিত হয় এবং উহার ‘মতন’ মূল হাদীস ও নিজস্ব সনদ উল্লিখিত হয়, তাহাকে আল-মুস্তাখরাজ বলা হয়। এইরূপ বহু গ্রন্হ বিরচিত হইয়াছে। সহীহ বুখারীর হাদীসসমূ এইভাবে ও এই পদ্ধতিতে অনেকেই আলাদা আলাদা গ্রন্হে সংকলিত করিয়াছেন। তন্মধ্যে ইসমাঈলী, বরকানী, ইবনে আহমদ আল-গাতরিফী, আবূ আবদুল্লাহ ইবনে আবূ যাহল ও আবূ বকর ইবনে মুরদুইয়া প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।
অনুরূপভাবে সহীহ মুসলিমের হাদীসসমূহকেও সংকলন করা হইয়াছে। যাঁহারা করিয়াছেন তাঁহাদের মধ্যে হাফেজ ইয়াকুব ইবনে ইসহাক আল-ইসফারায়েনী, আবূ জা’ফর ইবনে হামদান, আবূ বকর মুহাম্মদ ইবনে রাজা নিশাপুরী, আবূ বকর আল-জাওকী, আবূ হামেদ শায়েকী, আবুল অলীদ হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল কারাশী প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ প্রধাণ।
আর আবূ নয়ীম ইসফাহানী, আবূ আবদুল্লাহ ইবনুল আহজাম, আবূ যার আল-হারভী, আবূ মুহাম্মদ আল-খালাল প্রমুক মুহাদ্দিসগণ বুখারী ও মুসলিম উভয় গ্রন্হের হাদীসসমূহকে একত্রে সংকলন করিয়াছেন।
তবে উপরে যে হাফেজ ইয়াকুবের ‘আল-মুস্তাখরাজ’ গ্রন্হের উল্লেখ করা হইয়াছে, তাহা যেমন সম্পূর্ণ, তেমনি বিশুদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য। ইহা জার্মানীর গ্রন্হাগারে এই সেদিন পর্যন্তও মজুদ ছিল।
৮. ‘আল-মুস্তাদরাক’ ()।যেসব হাদীস বিশেষ কোন হাদীস গ্রন্হে শামিল করা হয় নাই অথচ তাহা সেই গ্রন্হাকারের অনুসৃত শর্তে পূর্ণমাত্রায় উত্তীর্ণ হয়, তাহা যে গ্রন্হে একত্র করা হয়, তাহাকে ‘আল-মুস্তাদরাক’ বলা হয়। যেমন ইমাম হাফেজ সংকলিত ‘আল-মুস্তাদরাক’
ইমাম হাকেম বিপুল সংখ্যক হাদীস সংগ্রহ করিয়া স্বতন্ত্র দুই খণ্ডবিশিষ্ট গ্রন্হ প্রণয়ন করিয়াছেন। তাঁহার বিশ্বাস বা ধারণা এই যে, এই সমস্ত হাদীসই ইমাম বুখারীর হাদীস গ্রহণের শর্তে পূর্ণামাত্রায় উত্তীর্ণ এবং সহীহ কিন্তু বুখারী শরীফে তাহা করা হয় নাই। যদিও হাদীস-বিজ্ঞানীদের মতে ইহাতে বহু যয়ীফ ও মনগড়া () হাদীসও রহিয়াছে।
এতদ্ব্যতীত বুখারী ও মুসলিম উভয় গ্রন্হকারের শর্তের ভিত্তিতে হাদীস সংগ্রহ করিয়া আর একখানি গ্রন্হ প্রণয়ন করিয়াছেন হাফেজ আবূ যায় আবদ ইবনে হুমাইদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আনসারী (মৃঃ ৪৩৩ হিঃ)।
৯. ‘কিতাবুল-ইলাল’ ()।দোষমুক্ত হাদীসসমূহ এক গ্রন্হে সংকলিত করা হইল ও সেই সঙ্গে হাদীসসমূহের দোষ বা ক্রটিও বর্ণনা করা হইলে উহাকে ‘কিতাবুল-ইলাল’ বলা হয়। ইমাম মুসলিম (র) ও ইমাম হাফেজ আবূ ইয়াহইয়া(র) এই ধরণের গ্রন্হ প্রণয়ন করিয়াছেন। ইমাম যাহবী উল্লেখ করিয়াছেন যে, মুহাদ্দিস শাজীও এই পর্যায়ে এক গুরুত্বপূর্ণূ কিতাব রচনা করিয়াছেন।
১০. ‘কিতাবুল আতরাফ’ ()-হাদীসসমূহের এমন কোন অংশের উল্লেখ করা, যাহা হইতে অবশিষ্ট অংশও বুঝা যায়। এইরূপ গ্রন্হকে ‘কিতাবুল আতরাফ’ বলা হয়। ইহাতে হাদীসের সনদ সম্পূর্ণ উল্লেখ করা হয়। এই পর্যায়েও বহু সংখ্যক গ্রন্হ প্রণয়ন করা হইয়াছে। তন্মধ্যে পরবর্তী পৃষ্ঠায় উদ্ধৃত গ্রন্হদ্বয় উল্লেখযোগ্যঃ
১. ‘আল-আশরাফ আলিা তুহফাতিল আতরাফ’।
২. তুহফাতুল আশরাফ বি-মা’রিফাতিল আতরাফ।