১
হাদীস সংকলনের ইতিহাস
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৭৮
ইমাম মুহাম্মদ শায়বানী (র)
ইমাম মুহাম্মদ শায়বানী ইমাম আবূ হানীফার দ্বিতীয় প্রধান ছাত্র। ইমাম আবূ হানীফা ও ইমাম আবূ ইউসূফের সংস্পর্শে আছার ফলে তাঁহার মনে হাদীস শিক্ষার আগ্রহ সৃষ্টি হয়। এই উদ্দেশ্যে তিনি ইরাক অন্তর্গত ‘ওয়াসিত’ (জন্মস্থান) হইতে কয়েকশত মাইল দূরে অবস্থিত মদীনায় উপস্থিত হইলেন এবং তদানীন্তন শ্রেষ্ঠ হাদীসবিদ ইমাম মালিকের নিকট হাযির হইলেন। তিনি একাদিক্রমে তিন বৎসরকাল পর্যন্ত মদীনায় অবস্থান করেন ও নিয়মিতভাবে ইমাম মালিকের হাদীস শিক্ষারদানের মজলিসে উপস্থিত হইত থাকেন। তিনি এই মজলিসৈ অন্ততঃ সাতশত হাদীস শ্রবণ করেন। তিনি নিজেই বলিয়াছেনঃ
আমি ইমাম মালিকের দরবারে তিন বৎসর কি ততোধিক সময় অবস্থান করিয়াছি এবং তাঁহার নিকট হইতে সাতশত হাদীস শিক্ষালাভ করিয়াছি।
ইমাম আবূ হানীফা, ইমাম আবূ ইউসূফ ও ইমাম মালিকের ন্যায় জগদ্বিখ্যাত ও শ্রেষ্ঠ হাদীসবিদের নিকট হাদীস শিক্ষা করার পর অপর কোন হাদীসবিদের নিকট হইতে হাদীস শিক্ষা করার কোন প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু ইমাম মুহাম্মদের মনে হাদীস শিক্ষার জন্য যে উদগ্র পিপাসা জাগ্রহ হইয়াছিল, তাহা নিবৃত্ত করার জন্য তিনি সেকালের অন্যান্য বড় বড় হাদীসবিদের মজলিসে উপস্থিত না হইয়া ও তাঁহাদের নিকট হইতে হাদীস শিক্ষা না করিয়া কিছুতেই ক্ষান্ত ও শান্ত হইতে পারিলেন না।
আল্লামা জাহেদুল কাওসারী ইমাম মুহাম্মদের হাদীস শিক্ষার উস্তাদ সত্তর জন বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন।
এই উস্তাদগণ কূফা, মদীনা, মক্কা, বসরা, ওয়াসিত, সিরিয়া, খোরাসান ও ইয়ামামা প্রভৃতি দেশে ছড়াইয়াছিলেন।
তাঁহার স্মরণশক্তি এত তীক্ষ্ম ছিল যে, ইমাম আবূ হানীফার আদেশে তিনি কুরআন মজীদ হেফজ করিতে শুরু করেন এবং মাত্র এক সপ্তাহ কালের মধ্যেই সম্পূর্ণ কুরআন হেফয করিয়া ফেলেন।
[ঐ] তিনি ইলমে হাদীসের কত বড় মনীষী ছিলেন, তাহা হইতে সহজেই অনুমান করা যায়। কেননা এইরূপ তীক্ষ্ম স্মরণশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তি যখন হাদীস শিখিতে যান, তখন তিনি উস্তাদের নিকট হইতে যে হাদীসই শ্রবণ করিবেন, তাহা তাঁহার মানসপটে চিরতরে মুদ্রিত হইয়া যাইবে, ইহাই স্বাভাবিক।
আমি ইমাম মালিকের দরবারে তিন বৎসর কি ততোধিক সময় অবস্থান করিয়াছি এবং তাঁহার নিকট হইতে সাতশত হাদীস শিক্ষালাভ করিয়াছি।
ইমাম আবূ হানীফা, ইমাম আবূ ইউসূফ ও ইমাম মালিকের ন্যায় জগদ্বিখ্যাত ও শ্রেষ্ঠ হাদীসবিদের নিকট হাদীস শিক্ষা করার পর অপর কোন হাদীসবিদের নিকট হইতে হাদীস শিক্ষা করার কোন প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু ইমাম মুহাম্মদের মনে হাদীস শিক্ষার জন্য যে উদগ্র পিপাসা জাগ্রহ হইয়াছিল, তাহা নিবৃত্ত করার জন্য তিনি সেকালের অন্যান্য বড় বড় হাদীসবিদের মজলিসে উপস্থিত না হইয়া ও তাঁহাদের নিকট হইতে হাদীস শিক্ষা না করিয়া কিছুতেই ক্ষান্ত ও শান্ত হইতে পারিলেন না।
আল্লামা জাহেদুল কাওসারী ইমাম মুহাম্মদের হাদীস শিক্ষার উস্তাদ সত্তর জন বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন।
এই উস্তাদগণ কূফা, মদীনা, মক্কা, বসরা, ওয়াসিত, সিরিয়া, খোরাসান ও ইয়ামামা প্রভৃতি দেশে ছড়াইয়াছিলেন।
তাঁহার স্মরণশক্তি এত তীক্ষ্ম ছিল যে, ইমাম আবূ হানীফার আদেশে তিনি কুরআন মজীদ হেফজ করিতে শুরু করেন এবং মাত্র এক সপ্তাহ কালের মধ্যেই সম্পূর্ণ কুরআন হেফয করিয়া ফেলেন।
[ঐ] তিনি ইলমে হাদীসের কত বড় মনীষী ছিলেন, তাহা হইতে সহজেই অনুমান করা যায়। কেননা এইরূপ তীক্ষ্ম স্মরণশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তি যখন হাদীস শিখিতে যান, তখন তিনি উস্তাদের নিকট হইতে যে হাদীসই শ্রবণ করিবেন, তাহা তাঁহার মানসপটে চিরতরে মুদ্রিত হইয়া যাইবে, ইহাই স্বাভাবিক।