১
হাদীস সংকলনের ইতিহাস
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬৬
হাদীস লিখনে উৎসাহ দান
তাবেয়ী হাদীসবিদগণ তাঁহাদের নিকট হাদীস শিক্ষার্থীদিগকে হাদীস লিখিয়া লইতে বিশেষ উপদেশ দান করিতেন। সায়ীদ ইবনুল মুসাইয়্যিবের হাদীসের ছাত্র আবদুর রহমান ইবনে হারমালাতা তাঁহার নিকট তাঁহার স্মরণশক্তির দুর্বলতার অভিযোগ করিলে তিনি তাঁহাকে সব হাদীস লিখিয়া লইবার উপদেশ দিয়াছিলেন।
শা’বী তো তাঁহার ছাত্রদের নিকট রাসূলে করীমের কথিত এবং সাহাবা ও তাবেয়ী’দের দ্বারা বহু বর্ণিত হাদীসটি বারবার আবৃত্তি করিতেন। সেই হাদীসটি হইলঃ
লেখার কাজ হইল হাদীসের ইলমকে ধরিয়া রাখা।
হাদীস লিখিয়া রাখার যে ফায়দা রহিয়াছে তাহা তিনি বিশেষভাবে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করিয়া বুঝাইয়া দিতেন। তিনি বলিতেনঃ
তোমরা আমার নিকট হইতে যেসব হাদীস শুনিতে পাও তাহা শোনার সঙ্গে সঙ্গে লিখিয়া লইবে- তাহা প্রাচীরগাত্রে লিখিতে হইলেও বিরত হইবে না।
তাঁহার সম্পর্কে জানা গিয়াছে যে, তিনি নিজেও বিশেষ বিশেষ হাদীস লিপিবদ্ধ করিয়া রাখিতেন। সেই কারণেই তাঁহার ইন্তেকালের পর ফারায়েজ ইত্যাদি সম্পর্কিত হাদীসমূহ সংকলিত এক গ্রন্হ পাওয়া যায়।
মুজাহিদ ইবনে যুবায়র (মৃঃ ১০৩ হিঃ) লোকদের সঙ্গে লইয়া তাঁহার কক্ষে প্রবেশ করিতেন ও তাঁহাদের সামনে স্বীয় হাদীস সংকলনসমূহ পেশ করিতেন। তাহারা তাহা হইতে হাদীস নকল করিয়া লইত।
[সুনানে দারেমী, পৃষ্ঠা ১২৮। ]
আতা ইবনে আবূ রিবাহ (মৃঃ ১১৪ হিঃ) নিজেও হাদীস লিখিয়া রাখিতেন এবং অন্যদের তাহা করিতে উপদেশ দিতেন।
কাতাদাহ ইবেন দায়ামাতা হাদীস লিখন সম্পর্কে যে-কোন প্রশ্নকারীকে অসংকোচে ও জোরালো ভাষায় বলিতেনঃ
তোমাকে লিখিয়া রাখিতে কে নিষেধ করিতেছে? মহান আল্লাহ নিজেই সব কিছু লিখিয়া রাখার কথা ঘোষণা করিয়াছেন এই বলিয়াঃ কিয়ামত সম্পর্কিত ইলম আমার আল্লাহর নিকট লিখিত রহিয়াছে, অথচ তিনি না ভ্রষ্ট হন, না ভুলিয়া যান।
[ আয়াতটি সূরা তা-হা’র ৫২ নং আয়াত।]
শা’বী তো তাঁহার ছাত্রদের নিকট রাসূলে করীমের কথিত এবং সাহাবা ও তাবেয়ী’দের দ্বারা বহু বর্ণিত হাদীসটি বারবার আবৃত্তি করিতেন। সেই হাদীসটি হইলঃ
লেখার কাজ হইল হাদীসের ইলমকে ধরিয়া রাখা।
হাদীস লিখিয়া রাখার যে ফায়দা রহিয়াছে তাহা তিনি বিশেষভাবে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করিয়া বুঝাইয়া দিতেন। তিনি বলিতেনঃ
তোমরা আমার নিকট হইতে যেসব হাদীস শুনিতে পাও তাহা শোনার সঙ্গে সঙ্গে লিখিয়া লইবে- তাহা প্রাচীরগাত্রে লিখিতে হইলেও বিরত হইবে না।
তাঁহার সম্পর্কে জানা গিয়াছে যে, তিনি নিজেও বিশেষ বিশেষ হাদীস লিপিবদ্ধ করিয়া রাখিতেন। সেই কারণেই তাঁহার ইন্তেকালের পর ফারায়েজ ইত্যাদি সম্পর্কিত হাদীসমূহ সংকলিত এক গ্রন্হ পাওয়া যায়।
মুজাহিদ ইবনে যুবায়র (মৃঃ ১০৩ হিঃ) লোকদের সঙ্গে লইয়া তাঁহার কক্ষে প্রবেশ করিতেন ও তাঁহাদের সামনে স্বীয় হাদীস সংকলনসমূহ পেশ করিতেন। তাহারা তাহা হইতে হাদীস নকল করিয়া লইত।
[সুনানে দারেমী, পৃষ্ঠা ১২৮। ]
আতা ইবনে আবূ রিবাহ (মৃঃ ১১৪ হিঃ) নিজেও হাদীস লিখিয়া রাখিতেন এবং অন্যদের তাহা করিতে উপদেশ দিতেন।
কাতাদাহ ইবেন দায়ামাতা হাদীস লিখন সম্পর্কে যে-কোন প্রশ্নকারীকে অসংকোচে ও জোরালো ভাষায় বলিতেনঃ
তোমাকে লিখিয়া রাখিতে কে নিষেধ করিতেছে? মহান আল্লাহ নিজেই সব কিছু লিখিয়া রাখার কথা ঘোষণা করিয়াছেন এই বলিয়াঃ কিয়ামত সম্পর্কিত ইলম আমার আল্লাহর নিকট লিখিত রহিয়াছে, অথচ তিনি না ভ্রষ্ট হন, না ভুলিয়া যান।
[ আয়াতটি সূরা তা-হা’র ৫২ নং আয়াত।]