১
হাদীস সংকলনের ইতিহাস
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১২৩
ইমাম তিরমিযী (র)
ইমা তিরমিযীর পূর্ণ নাম আল-ইমামুল হাফেজ আবূ ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সওরাতা ইবনে মুসা ইবনে জাহকুস সুলামী আত-তিরমিযী। তিতি জীহুল নদীর বেলাভুমে অবস্থিত তিরমিযী নামক প্রাচীন শহরে ২০৯ হিজরী সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হাদীসে অপরিসীম জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। তাঁহা বর্ণিত হাদীসসমূহ সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য, বিশ্বাস্য ও অকাট্য দলিল হিসাবে গণ্য। তিনি তাঁহার সময়কার বড় বড় হাদীসবিদদের নিকট হইতে হাদীস শ্রবণ ও গ্রহণ করিয়াছেন। কুতাইবা ইবনে সায়ীদ, ইসহাক ইবনে মূসা, মাহমুদ ইবনে গালীন, সায়ীদ ইবনে আবদুর রহমান, মুহাম্মদ ইবন বিশ্বার, আলী ইবনে হাজার, আহমদ ইবনে মুনী, মুহাম্মদ ইবনুল মাসান্না, সুফিয়ান ইবন অকী এবং মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলুল বুখারী প্রমুখ মুহাদ্দিস ইমাম তিরমিযীর উস্তাদ।
ইমাম বুখারী তাঁহার সম্পর্কে অনেক প্রশংসাসূচক কথা বলিয়াছেন। মুহাদ্দিসগণ তাঁহাকে ইমাম বুখারীর খলীফা বলিয়া উল্লেক করিয়াছেন। ইমাম বুখারী নিজেও তাঁহার নিকট হইতে হাদীস গ্রহণ ও বর্ণনা করিয়াছেন।
ইমাম তিরমিযী মুসলিম জাহানের প্রখ্যাত হাদীস-কেন্দ্রসমূহ সফর করিয়া হাদীস শ্রবণ ও সংগ্রহ করিয়াছেন। কূফা, বসরা, রাই, খুরাসান, ইরাকও হিজাযে হাদীস সংগ্রহের জন্য তিনি বছরের পর বছর পরিভ্রমন করিত থাকেন।
ইমম তিরমিযী তীক্ষ্ণ স্মরণশক্তির অধিকারী ছিলেন। একারব শুনিয়াই তিনি বহু সংখ্যক হাদীস মুখস্থ করিয়া লইতে সমর্থ হইতেন। জনৈক মুহাদ্দিসের বর্ণিত কয়েকটি হাদীসাংশ তিনি শ্রবণ করিয়াছিলেন; কিন্তু সেই মুহাদ্দিসের সহিত তাঁহার কোন দিন সাক্ষাৎ ছিল না, তাঁহার মুখেও তাহা শ্রবণ করা তাঁহার পক্ষে সম্ভব হয় নাই। ফলৈ তিনি মনে মনে সেই মুহাদ্দিসের সন্ধানে উদগ্রীব হইয়াছিলেন। একদিন পথিমধ্যে তাঁহার সাক্ষাৎ পাইয়া তাঁহার নিকট হইতে সম্পূর্ণ হাদীস শ্রবণের বাসনা প্রকাশ করিলেন। তিনি তাঁহার অনুরোধক্রমে সমস্ত হাদীস পথের মধ্যে দাঁড়াইয়া থাকা অবস্থায়ই মুখস্থ পাঠ করিলেন, ইহা শ্রবণের সঙ্গে সঙ্গে হাদীসসূহ ইমাম তিরমিযী এই হাদীসসমূহ ইতিপূর্ব কখনো শুনি তে পান নাই। কিন্তু তাহা সত্ত্বেও এই একবার মাত্র শ্রবণ করিয়া তাহা সম্পূর্ণ মুখস্থ করিয়া লইলেন এবং তখনি একবার পাঠ করিয়া সম্মুখে দণ্ডায়মান উস্তাদকে শুনাইয়া দিলেন। ইহাতে তাঁহার একটি শব্দেরও ভূল ছিল না।
ইমাম তিরমিযী বহু মূল্যবান গ্রন্হ প্রণয়ন করিয়াছেন। আল জামেউত তিরমিযী, কিতাবুল আসাম, আলকুনী, শামায়েলুত তিরমিযী, তাওয়ারীখ ও কিতাবুয যুহদ প্রভৃতি তাঁহার যুগান্তকারী গ্রন্হ।
শেষ জীবনে ইমাম তিরমিযীর দৃষ্টিশক্তি বিলুপ্ত হয়। তিরমিয শহরেই তিনি ২৭৯ হিজরী সনে সত্তর বৎসর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
ইমাম বুখারী তাঁহার সম্পর্কে অনেক প্রশংসাসূচক কথা বলিয়াছেন। মুহাদ্দিসগণ তাঁহাকে ইমাম বুখারীর খলীফা বলিয়া উল্লেক করিয়াছেন। ইমাম বুখারী নিজেও তাঁহার নিকট হইতে হাদীস গ্রহণ ও বর্ণনা করিয়াছেন।
ইমাম তিরমিযী মুসলিম জাহানের প্রখ্যাত হাদীস-কেন্দ্রসমূহ সফর করিয়া হাদীস শ্রবণ ও সংগ্রহ করিয়াছেন। কূফা, বসরা, রাই, খুরাসান, ইরাকও হিজাযে হাদীস সংগ্রহের জন্য তিনি বছরের পর বছর পরিভ্রমন করিত থাকেন।
ইমম তিরমিযী তীক্ষ্ণ স্মরণশক্তির অধিকারী ছিলেন। একারব শুনিয়াই তিনি বহু সংখ্যক হাদীস মুখস্থ করিয়া লইতে সমর্থ হইতেন। জনৈক মুহাদ্দিসের বর্ণিত কয়েকটি হাদীসাংশ তিনি শ্রবণ করিয়াছিলেন; কিন্তু সেই মুহাদ্দিসের সহিত তাঁহার কোন দিন সাক্ষাৎ ছিল না, তাঁহার মুখেও তাহা শ্রবণ করা তাঁহার পক্ষে সম্ভব হয় নাই। ফলৈ তিনি মনে মনে সেই মুহাদ্দিসের সন্ধানে উদগ্রীব হইয়াছিলেন। একদিন পথিমধ্যে তাঁহার সাক্ষাৎ পাইয়া তাঁহার নিকট হইতে সম্পূর্ণ হাদীস শ্রবণের বাসনা প্রকাশ করিলেন। তিনি তাঁহার অনুরোধক্রমে সমস্ত হাদীস পথের মধ্যে দাঁড়াইয়া থাকা অবস্থায়ই মুখস্থ পাঠ করিলেন, ইহা শ্রবণের সঙ্গে সঙ্গে হাদীসসূহ ইমাম তিরমিযী এই হাদীসসমূহ ইতিপূর্ব কখনো শুনি তে পান নাই। কিন্তু তাহা সত্ত্বেও এই একবার মাত্র শ্রবণ করিয়া তাহা সম্পূর্ণ মুখস্থ করিয়া লইলেন এবং তখনি একবার পাঠ করিয়া সম্মুখে দণ্ডায়মান উস্তাদকে শুনাইয়া দিলেন। ইহাতে তাঁহার একটি শব্দেরও ভূল ছিল না।
ইমাম তিরমিযী বহু মূল্যবান গ্রন্হ প্রণয়ন করিয়াছেন। আল জামেউত তিরমিযী, কিতাবুল আসাম, আলকুনী, শামায়েলুত তিরমিযী, তাওয়ারীখ ও কিতাবুয যুহদ প্রভৃতি তাঁহার যুগান্তকারী গ্রন্হ।
শেষ জীবনে ইমাম তিরমিযীর দৃষ্টিশক্তি বিলুপ্ত হয়। তিরমিয শহরেই তিনি ২৭৯ হিজরী সনে সত্তর বৎসর বয়সে ইন্তেকাল করেন।