১
হাদীস সংকলনের ইতিহাস
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৭৫
হাদীস গ্রহণে ইমাম আবূ হানীফার শর্ত
ইমাম আবূ হানীফা (র) হাদীস গ্রহণে যেসব শর্ত আরোপ করিয়াছেন, তাহার অধিকাংশই সাধারণ মুহাদ্দিস র্তৃক আরোপিত শর্ত। কিন্তু কতকগুলি শর্ত তিনি নিজে বিশেষভাবে ও বিশেষ বিশেষ কারণে অতিরিক্ত আরোপ করিয়াছেন। এখানে তন্মধ্যে কয়েকটি শর্তের উল্লেখ করা যাইতেছেঃ
১. কোন হাদীস বর্ণনা করার পর বর্ণনাকারী যদি তাহা ভুলিয়া যায়, তবে সাধারণ মুহাদ্দিসদের নিকট তাহা গ্রহণীয় হইলেও ইমাম আবূ হানীফা এবং তাঁহার শাগরিদগণ তাহা গ্রহণ করিতে রাযী নহেন।
২. কেবল সেই হাদীসই গ্রহণযোগ্য, যাহ বর্ণনাকারী স্বীয় স্মরণ ও স্মৃতিশক্তি অনুসারে বর্ণনা করিবেন।
[ঐ]
৩. যেসব প্রখ্যাত মুহাদ্দিসের মজলিসে বিপুল সংখ্যক শ্রবণকারীর সমাবেশ হওয়ার কারণে উচ্চ শব্দকারী লোক নিয়োগ করা হয় এবং তাহাদের নিকট শ্রুত হাদীসকে আসল মুহাদ্দিসের নিকট শ্রুত হাদীস বলিয়া বর্ণনা করা হয়, ইমাম আবূ হানীফার নিকট সেই হাদীস গ্রহণযোগ্য নহে। হাফেয আবূ নয়ীম, ফযল ইবনে আকীন, ইবনে কুদামাহ প্রমুখ প্রখ্যাত মুহাদ্দিসও এই মত পোষণ করেন। হাফেয ইবনে হাজার মক্কীর মতে ইহা বিবেকসম্মত কথা হইলেও সাধারণ মুহাদ্দিসের মতই সহজসাধ্য।
৪. যে বর্ণনাকারী নিজের খাতায় লিখিত পাইয়া কোন হাদীস বর্ণনা করেন, কিন্তু তাহা তাহার কোন উস্তাদ মুহাদ্দিসের নিকট হইতে শুনিয়াছেন বলিয়া স্মরণে পড়ে না, ইমাম আবূ হানীফা এই ধরনের হাদীস সমর্থন করেন না। অপরাপর মুহাদ্দিসের মতে ইহাতে কোন দোষ নাই।
কূফাবাসী মুহাদ্দিসগণ হাদীসের মূল বক্তব্যকে নিজ ভাষায় বর্ণনা () করা জায়েয মনে করিতেন। আর ইহাই ছিল তখন সাধারণভাবে প্রচলিত রীতি। হাদীসের মূল শব্দ বর্ণনাকারীদের সংখ্যা বেশী ছিল না। ফলে হাদীসের বর্ণনায় পার্থক্য ও রদ-বদল হইয়া যাওয়ার আশংকা পূর্ণমাত্রায় বর্তমান ছিল। ইমাম আবূ হানীফা ইহার ফলে হাদীস গ্রহণের ব্যাপারে কঠোর কড়াকড়ি নীতি অবলম্বন করিতে বাধ্য হন। এতসব সতর্কতার পর তিনি যে হাদীসের গ্রন্হ সংকলন করিয়াছিলেন, তাহা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হইয়াছে। মুহাম্মদ ইবনে মাহমুদ আল খাওয়ারিজমী ইমাম আবূ হানীফার পনেরখানা মুসনাদ (সংকলিত হাদীস গ্রন্হ ) সংগ্রহ করিয়াছিলেন।
১. কোন হাদীস বর্ণনা করার পর বর্ণনাকারী যদি তাহা ভুলিয়া যায়, তবে সাধারণ মুহাদ্দিসদের নিকট তাহা গ্রহণীয় হইলেও ইমাম আবূ হানীফা এবং তাঁহার শাগরিদগণ তাহা গ্রহণ করিতে রাযী নহেন।
২. কেবল সেই হাদীসই গ্রহণযোগ্য, যাহ বর্ণনাকারী স্বীয় স্মরণ ও স্মৃতিশক্তি অনুসারে বর্ণনা করিবেন।
[ঐ]
৩. যেসব প্রখ্যাত মুহাদ্দিসের মজলিসে বিপুল সংখ্যক শ্রবণকারীর সমাবেশ হওয়ার কারণে উচ্চ শব্দকারী লোক নিয়োগ করা হয় এবং তাহাদের নিকট শ্রুত হাদীসকে আসল মুহাদ্দিসের নিকট শ্রুত হাদীস বলিয়া বর্ণনা করা হয়, ইমাম আবূ হানীফার নিকট সেই হাদীস গ্রহণযোগ্য নহে। হাফেয আবূ নয়ীম, ফযল ইবনে আকীন, ইবনে কুদামাহ প্রমুখ প্রখ্যাত মুহাদ্দিসও এই মত পোষণ করেন। হাফেয ইবনে হাজার মক্কীর মতে ইহা বিবেকসম্মত কথা হইলেও সাধারণ মুহাদ্দিসের মতই সহজসাধ্য।
৪. যে বর্ণনাকারী নিজের খাতায় লিখিত পাইয়া কোন হাদীস বর্ণনা করেন, কিন্তু তাহা তাহার কোন উস্তাদ মুহাদ্দিসের নিকট হইতে শুনিয়াছেন বলিয়া স্মরণে পড়ে না, ইমাম আবূ হানীফা এই ধরনের হাদীস সমর্থন করেন না। অপরাপর মুহাদ্দিসের মতে ইহাতে কোন দোষ নাই।
কূফাবাসী মুহাদ্দিসগণ হাদীসের মূল বক্তব্যকে নিজ ভাষায় বর্ণনা () করা জায়েয মনে করিতেন। আর ইহাই ছিল তখন সাধারণভাবে প্রচলিত রীতি। হাদীসের মূল শব্দ বর্ণনাকারীদের সংখ্যা বেশী ছিল না। ফলে হাদীসের বর্ণনায় পার্থক্য ও রদ-বদল হইয়া যাওয়ার আশংকা পূর্ণমাত্রায় বর্তমান ছিল। ইমাম আবূ হানীফা ইহার ফলে হাদীস গ্রহণের ব্যাপারে কঠোর কড়াকড়ি নীতি অবলম্বন করিতে বাধ্য হন। এতসব সতর্কতার পর তিনি যে হাদীসের গ্রন্হ সংকলন করিয়াছিলেন, তাহা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হইয়াছে। মুহাম্মদ ইবনে মাহমুদ আল খাওয়ারিজমী ইমাম আবূ হানীফার পনেরখানা মুসনাদ (সংকলিত হাদীস গ্রন্হ ) সংগ্রহ করিয়াছিলেন।