hadith book logo

হাদীস সংকলনের ইতিহাস

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৯০

সোনারগাঁও

পূর্বেই উল্লেকিত হইয়াছে যে, মুহাদ্দিস শরফূদ্দীন আবূ তাওয়ামা বুখারী হাম্বলী (মৃঃ ৭০০ হিঃ) সপ্তম শতকে ঢাকা জিলাধীন সোনার গাঁও আগমন করেন এবং এখানে হাদীস শিক্ষার ব্যাপক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ফলে ইহা ইলমে হাদীসের একটি কেন্দ্রে পরিণত হয়। তাঁহার ইন্তেকালের পরও কিছুদিন পর্যন্ত এই অবস্থা অব্যাহত থাকে। এই সময় এতদঞ্চলে সায়াদাতের (৯০০-৯৪৫ হিঃ) রাজত্ব ছিল। পূর্ব বাংলার রাজধানী হিসাবে সোনার গাঁয়ে বহু সংখ্যক হাদীস বিশারদ সমবেত হন এবং এই স্থানেও বহু লোক ইলমে হাদীস শিক্ষা করিয়া পারদর্শিতা লাভ করেন। এই যুগে এতদঞ্চলে হাদীস চর্চার এতই ব্যাপকতা ছিল যে, বহু মসজিদ ও বহু খানাকা এই উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট করা হয়। প্রসিদ্ধ হাদীসবিজ্ঞ তকীউদ্দীন আইনুদ্দীন (৯২৯ হিঃ)- এর চেষ্টায় এখানে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন নুসরত ইবনে হুসাইন শাহ-এর রাজত্ব। কাজেই একথা বলিষ্ঠভাবেই বলা যাইতে পারে যে, সায়াদাতের শাসন আমলেই সোনার গাঁও হাদীস শিক্ষার কেন্দ্রে পরিণত হইয়াছিল। সম্ভবত পূর্ব বাংলার মুসলিম শাসনের শেষ পর্যায় পর্যন্তই উহার এই গৌরব অব্যাহত ও অক্ষুণ্ন ছিল। কিন্তু পরবর্তী বৃটিশ শাসন আমলে সোনার গাঁওয়েল স্বর্ণকিরণ নিঃশেষে বিলীন হইয়া যায়।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর হইতে তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) এলাকায় বেশ কিছু সংখ্যক বড় বড় মাদ্রাসায় ইলমে হাদীসের উচ্চশিক্ষা দানের কাজ চালু হয়। ফলে প্রতি বৎসর যথেষ্ট সংখ্যক লোক হাদীসের শিক্ষা লাভ করিয়া দ্বীন ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তির সহিত পরিচিত হন। যদিও শিক্ষা ব্যবস্থার ক্রটির দরুন তাহারা পূর্বকালের হাদীস শিক্ষার্থীদের ন্যায় উপকৃত হইতে ও অনুরূপ পারদর্শিতা লাভ করিতে সমর্থ হন নাই।