১
হাদীস সংকলনের ইতিহাস
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৭০
হাদীস সংগ্রহের অভিযান
হাদীস শিক্ষালাভ এবং হাদীস সংগ্রহ-সংকলনের জন্য নিজেদের ঘরবাড়ি ও সাংসারিক উন্নতি-অগ্রগতির সমস্ত চিন্তা-ভাবনা পরিহার করিয়া দেশে বিদেশে দূর-দূরান্তরের দুর্গম ও পর্বতসংকুল পথ অতিক্রম করা মুসলিম মনীষীদের অনেকেরই এক পবিত্র ব্রত ছিল। কুরআন ও হাদীসে এই কাজের জন্য বিশেষ উৎসাহ দান করা হইয়াছে। এই কাজের অপরিসীম সওয়াবের কথাও সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষিত হইয়াছে। দ্বীন সম্পর্কীয় জ্ঞান আহরণের জন্য বিদেশ যাত্রা এবং তথা হইতে জ্ঞান সম্পদ অর্জন করিয়া নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করা ও নিজ দেশের জনগণকে ইসলামী জীবনাদর্শ গ্রহণের দাওয়াত দেওয়া বস্তুতই মুসলিম জাতির এক মহান পবিত্র দায়িত্ব। এই পর্যায়ে সাহাবায়ে কিরাম, তাবেয়ীন ওতৎপরবর্তীকালের জ্ঞান আহরণকারীদের অবিশ্রানত্ সাধনার বিস্ময়কর কাহিনী পাঠ করিলে মনে হয়, এক পবিত্র অপরিহার্য ব্রত ও দায়িত্ব মনে করিয়াই তারা এই কাজে ঝাঁপাইয়া পড়িয়াছিলেন। কুরআন মজীদ একদিকে হযরত মূসা নবীর জ্ঞান আহরণ উদ্দেশ্যে ‘মাজমাউল বাহরাইন’ (দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থল) পর্যন্ত সফর করার ইতিবৃত্ত প্রচার করিয়াছে, অপরদিকে দ্বীনী জ্ঞান ও ব্যুৎপত্তি লাভের উদ্দেশ্যে বিদেশ সফরের জন্য নিম্নলিখিত রূপ তাকীদ পেশ করিয়াছেনঃ
সকল মু’মিনকেই একসঙ্গে ঘর হইতে বহির হইয়া পড়িতে হইবে না বটে; কিন্তু তাহা হইলেও তাহাদের প্রত্যেক দল ও সমাজ হইতে কিছু কিছু লোক দ্বীন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান ও প্রজ্ঞা লাভের জন্য কেন ঘর হইতে বহির্গত হইবে না- এই উদ্দেশ্যে যে, তাহারা নিজেদের জাতির লোকদের নিকট ফিরিয়া আসিয়া তাহাদিগকে আল্লাহ সম্পর্কে ভয় প্রদর্শন করিবে? তাহা হইলেই এই আশা করা যায় যে, তাহারা সতর্ক হইবে ও ভয় করিয়া চলিতে শুরু করিবে।
[সূরা তওবা, ১৫ রুকু, ১২২ আয়াত।]
কুরআনের এই সুস্পষ্ট নির্দেশের সমর্থন বেশ কিছু সংখ্যক হাদীসের উল্লেখ পাওয়া যায়। এই পর্যায়ে সর্বপ্রথম হযরত আবূ হুরায়রা (রা) বর্ণিত নিম্নোদ্ধৃত হাদীস উল্লেখযোগ্য।
রাসূলে করীম (ﷺ) ইরশাদ করিয়াছেনঃ
যে ব্যক্তি জ্ঞান-অন্বেষণের উদ্দেশ্যে কিছু পথও অতিক্রম করিবে আল্লাহ ইহার বিনিময়ে জান্নাতে যাওয়ার পথ তাহার জন্য সুগম করিয়া দিবেন।
[বুখারী, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৬।]
হযরত আনাস (রা) হইতে বর্ণিত হইয়াছে, নবী করীম (ﷺ) বলিয়াছেনঃ
যে ব্যক্তি ইলম হাসিল করার উদ্দেশ্যে ঘর হইতে বাহির হইবে, তাহার ঘরে ফিরিয়া আসা পর্যন্ত তাহার এই সফর আল্লাহর পথের সফর হইবে।
[তিরমিযী, সুনানে দারেমী।]
বলা বাহুল্য, এই পর্যায়ের যাবতীয় হাদীসে যে ইসলাম শিক্ষার উদ্দেশ্যে বাহির হইবার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হইয়াছে, তাহা কুরআন- হাদীস সম্পর্কিত ইলম। বিশেষভাবে হাদীসের ইলমও হইতে পারে।
সকল মু’মিনকেই একসঙ্গে ঘর হইতে বহির হইয়া পড়িতে হইবে না বটে; কিন্তু তাহা হইলেও তাহাদের প্রত্যেক দল ও সমাজ হইতে কিছু কিছু লোক দ্বীন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান ও প্রজ্ঞা লাভের জন্য কেন ঘর হইতে বহির্গত হইবে না- এই উদ্দেশ্যে যে, তাহারা নিজেদের জাতির লোকদের নিকট ফিরিয়া আসিয়া তাহাদিগকে আল্লাহ সম্পর্কে ভয় প্রদর্শন করিবে? তাহা হইলেই এই আশা করা যায় যে, তাহারা সতর্ক হইবে ও ভয় করিয়া চলিতে শুরু করিবে।
[সূরা তওবা, ১৫ রুকু, ১২২ আয়াত।]
কুরআনের এই সুস্পষ্ট নির্দেশের সমর্থন বেশ কিছু সংখ্যক হাদীসের উল্লেখ পাওয়া যায়। এই পর্যায়ে সর্বপ্রথম হযরত আবূ হুরায়রা (রা) বর্ণিত নিম্নোদ্ধৃত হাদীস উল্লেখযোগ্য।
রাসূলে করীম (ﷺ) ইরশাদ করিয়াছেনঃ
যে ব্যক্তি জ্ঞান-অন্বেষণের উদ্দেশ্যে কিছু পথও অতিক্রম করিবে আল্লাহ ইহার বিনিময়ে জান্নাতে যাওয়ার পথ তাহার জন্য সুগম করিয়া দিবেন।
[বুখারী, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৬।]
হযরত আনাস (রা) হইতে বর্ণিত হইয়াছে, নবী করীম (ﷺ) বলিয়াছেনঃ
যে ব্যক্তি ইলম হাসিল করার উদ্দেশ্যে ঘর হইতে বাহির হইবে, তাহার ঘরে ফিরিয়া আসা পর্যন্ত তাহার এই সফর আল্লাহর পথের সফর হইবে।
[তিরমিযী, সুনানে দারেমী।]
বলা বাহুল্য, এই পর্যায়ের যাবতীয় হাদীসে যে ইসলাম শিক্ষার উদ্দেশ্যে বাহির হইবার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হইয়াছে, তাহা কুরআন- হাদীস সম্পর্কিত ইলম। বিশেষভাবে হাদীসের ইলমও হইতে পারে।