hadith book logo

হাদীস সংকলনের ইতিহাস

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৭

হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীদের শ্রেণীবিভাগ

[সংখ্যাভিত্তিক]

নবী করীম (ﷺ)- এর নিকট হইতে যাঁহারা সরাসরিভাবে হাদীস শ্রবণ করিয়াছেন এবং তাঁহার তরফ হইতে কিছু না কিছু হাদীসও বর্ণনা করিয়াছেন, তাঁহাদের সংখ্যা কিছুমাত্র কম নহে। এ সম্পর্কে হাদীস বর্ণনাকারীদের জীবন চরিত-বিশেষজ্ঞ মুহাদ্দিস ইমাম আলী ইবনে আবু জুরয়া এক প্রশ্নের জওয়াবে বলিয়াছেনঃ

নবী করীম (ﷺ)-এর ইন্তেকালের পূর্বে যাঁহারা তাঁহাকে নিজেদের চক্ষে দেখিতে পাইয়াছেন এবং তাঁহার বানী নিজেদের কর্ণে শ্রবণ করিয়াছেন, তাঁহাদের সংখ্যা স্ত্রী-পুরুষ মিলাইয়া লক্ষাধিক হইবে। তারা প্রত্যেকেই সরাসরি হযরতের নিকট হাদীস শুনিয়া কিংবা অপরের নিকট বর্ণনা পাইয়া হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।

বর্তমান যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ হাদীস বিজ্ঞানবিদ মিসরস্থ জামে আযহারের শিক্ষক মুহাম্মদ আবূ জাহু লিখিয়াছেনঃ

নবী করীম (ﷺ) প্রায় এক লক্ষ্য চৌদ্দ হাজার সাহাবী রাখিয়া দুনিয়া ত্যাগ করে। তারা নবী করীম (ﷺ)-এর নিকট হাদীস শুনিয়া পাইয়া তাহা বর্ণনা করিয়াছেন। বলা হয়, তারা কোথায় থাকিতেন এবং কোথায় কেমন করিয়া তারা হাদীস শুনিতে পাইলেন? উহার জওয়াব এই যে তারা ছিলেন মক্কা ও মদীনার অধিবাসী, এই শহরদ্বয়ের মধ্যবর্তী এলকার লোক, সাধারণ আরব জনগণ আর যাঁহারা তাঁহার সহিত বিদায় হজ্জে উপস্থিত হইয়াছিলেন তারা। তারা সকলেই রাসূলে করীম (ﷺ)-কে নিজেদের চক্ষে দেখিতে পাইয়াছেন এবং তাঁহার জীবদ্দশায়ই তাঁহার নিকট হইতে হাদীস শুনিতে পাইয়াছেন।

মুহাদ্দিস আবূ জুরয়া প্রদত্ত এক বিবরণ অনুযায়ী সাহাবীদের

[এবং নবী করীম (ﷺ)- হইতে কিছু না কিছু বর্ণনা করিয়াছেন, এমন লোকদের] সংখ্যা যদিও লক্ষাধিক ছিল কিন্তু যেসব সাহাব রীতিমত ও গণনাযোগ্য সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন, আল্লামা যাহবীর মতে তাঁহাদের সংখ্যা ছিল মাত্র এক শত পাঁচজন।

অবশ্য অনুসন্ধান করিলে এই সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাইতে পারে। মুসনাদে আবূ দাউদ তায়ালিসী দ্বিতীয় হিজরী শতকের শেষ ভাগে সংকলিত একখানি হাদিস গ্রন্হ, ইহাতেই প্রায় আড়াই শত সাহাবী হইতে বর্ণিত হইয়াছে।

‘উসুদল গাবাহ’ গ্রন্হে হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীদের সংখ্যা ৭৫৫৪ উল্লেখ করা হইয়াছে। তারা সকলেই রাসূলের নিকট হইতে সরাসরি হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন বলিয়া এই গ্রন্হে দাবি করা হইয়াছে। কিন্তু আল্লামা ইবনে হাজার ইহাতে আপত্তি জানাইয়াছেন। তিনি বলিয়াছেন যে, সাহাবী নয়-এমন লোকেই ইহাকে গণ্য করা হইয়াছে।

আল্লামা যাহবীর মতে এই একশত পাঁচজন সাহাবীর মধ্যে আটাশজন সাহাবী হইতে বিপুল সংখ্যক হাদীস বর্ণিত হইয়াছে। অধিকাংশ মুহাদ্দিসের মতে এই আটাশজন সাহাবীই হইতেছেন সর্বাধিক সংখ্যক হাদীস বর্ণনাকারী। সত্য কথা বলিতে কি, বিরাট হাদীস সম্পদের প্রায় অর্ধেক পরিমাণ এই আটাশজন সাহাবী হইতে বর্ণিত হইয়াছে। মুহাদ্দিসদের সিদ্ধান্ত এই যে, যাঁহারা চল্লিশটির কম হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন, তারা হইতেছেন, ‘কম হাদীস বর্ণনাকারী’। এই ভিত্তিতে অধিক সংখ্যক হাদীস বর্ণনাকারী ও কম সংখ্যক হাদীস বর্ণনাকারী হিসাবে সাহাবাদের চারটি ভাগে বিভক্ত করা যায়ঃ

ক) প্রথম ভাগের সাহাবীঃ যাঁহারা এক হাজার কিংবা ততোধিক হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।

খ) দ্বিতীয় ভাগের সাহাবীঃ যাঁহাদের নিকট হইতে পাঁচশত কিংবা তদুর্ধ্ব সংখ্যক হাদীস বর্ণিত হইয়াছে।

গ) তৃতীয় ভাগের সাহাবীঃ যাঁহাদের হাদীসের সংখ্যা চল্লিশ কিংবা চল্লিশের অধিক।

ঘ) চতুর্থ ভাগের সাহাবীঃ যাঁহাদের বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা চল্লিশের ক।

কিন্তু ঊর্ধ্ব পাঁচশত হইতে নিম্ন সংখ্যা চল্লিশ পর্যন্ত হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীদের সংখ্যা সমধিক। সেই কারণে তাহাদিগকে আমরা আবার দুই পর্যায়ে বিভক্ত করিতে পারি। একশত হইতে পাঁচশত পর্যন্ত হাদীস বর্ণনাকারী প্রথম পর্যায়ের এবং চল্লিশ হইতে একশত হাদীস পর্যন্ত বর্ণনাকারীরা দ্বিতীয় পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।

এই ল্ডসীর অনুযায়ী হাদীস বর্ণনাকারী সমস্ত সাহাবীকে মোট পাঁচটি শ্রেণতে বিভক্ত করা চলেঃ

১। যাঁহাদের বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা হাজার কিংবা হাজারের অধিক।

২। যাঁহাদের বর্ণিত হাদীস পাঁচশত কিংবা পাঁচশতের অধিক, কিন্তু হাজার হইতে কম।

৩। যাঁহাদের বর্ণিত হাদীস একশত কিংবা একশতের অধিক, কিন্তু পাঁচশতের কম।

৪। যাঁহাদের বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা চল্লিশ কিংবা চল্লিশ কিংবা চল্লিশের বেশী কিন্তু একশতের কম।

৫। যাঁহাদের বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা চল্লিশ কিংবা চল্লিশের কম।