hadith book logo

হাদীস সংকলনের ইতিহাস

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৬০

ইমাম আজম (র)

ইমাম আজম আবূ হানীফা (র) হাদীসের ‘সহীহ’ হওয়ার জন্য যে শর্ত আরোপ করিয়াছেন, তাহা অপরাপর মুহাদ্দিসের আরোপিত শর্তের তুলনায় অত্যন্ত কঠিন বলিয়া মনে হয়। আর প্রকৃতপক্ষে তিনি এই দিক দিয়া বড়ই কঠোর প্রকৃতির লোক ছিলেন। ইমাম বুখারীর উস্তাদ শেখ অকী বলেনঃ ইমাম আজমের ন্যায় কঠিন শর্ত সাধারণভাবে আরোপিত হইলে সহীহ হাদীসের সংখ্যা হ্রাস পাইয়া যাওয়ার আশংকা রহিয়াছে।

ইমাম আবূ হানীফার শর্তাবলী নিম্নরূপঃ

১. হাদীস বর্ণনাকারীকে অবশ্যই প্রথম শ্রেণীর বর্ণনাকারীদের অন্তভূক্ত হইতে হইবে।

২. হাদীসের বর্ণনা শাব্দিক- রাসূলের ব্যবহৃত শব্দসমূহ হুবহু উল্লেখ সহকারে () হইতে হইবে। মূল হাদীসের অর্থ বা নিজস্ব ভাষায় বর্ণনা করিলে () তাহা গ্রহণ করা যাইবে না।

৩. হাদীস-দরসের বৈঠকে নিয়োজিত উচ্চ ঘোষণাকারীর () মুখে হাদীস শ্রবণ করিয়া থাকিলে এই শ্রবণকারিগণ পরবর্তীদের নিকট (অমুকে আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন) বলিয়া হাদীস বর্ণনা করিতে পারিবেন না। (করিলে সে হাদীস গ্রাহ্য হইবে না।)

৪. যেসবমুহাদ্দিসদেরনিকটলিখিতভাবেহাদীস-সম্পদসুরক্ষিতরহিয়াছে, হাদীসেরপ্রতিটিশব্দযদিতাঁহাদেরস্মরণেথাকে, তবেতাঁহাদেরমৌখিকবর্ণনাকবুলকরাযাইবে। অন্যথায়উক্তলিখিতহাদীসসম্মুখেরাখিয়াইহাদীসবর্ণনাকরিতেহইবে। (এইরূপনাকরিয়াথাকিলেসেহাদীসগ্রহণযোগ্যহইতেপারেনা)।

৫. এইসময়পর্যন্তযেসবহাদীসের () অর্থ ও ভাব বর্ণিত হইয়াছে, শব্দগতভাবে বর্ণিত হয় নাই, তবে উহাদের বর্ণনাকারী যদি ফিকাহ-পারদর্শী হন অন্তত বিশ্বস্ত, নির্ভরযোগ্য, সত্যবাদী ও সুবিবেচক এবং ‘দিরায়তের’ দৃষ্টিতেও যদি তাঁহার বর্ণিত কথা নির্ভূল হয়, তবে তাহা ‘সহীহ হাদীস’ রূপে কবুল করা যাইবে।

৬. নিত্য-নৈমিত্তিক কাজ কারবার, লেন-দেন ও ইবাদত সম্পর্কে যদি কোন ‘খবরে-ওয়াহিদ’ বর্ণিত হয়, তবে উহার সমর্থনে ও অনুকুলে সাক্ষী হিসাবে অপর বর্ণনা সূত্র বা সনদ পেশ করিতে হইবে। গ্রহণযোগ্য ‘সাক্ষী’ না পাওয়া গেলে অন্তত দিরায়াতের বিচারে মূল হাদীসটিকে অবশ্যই বিশুদ্ধ ও সহীহ হইতে হইবে।