১
হাদীস সংকলনের ইতিহাস
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৯৩
হাদীসের সমর্থনে ইউরোপীয় মনীষী
১. প্রখ্যাত ইউরোপীয় ঐতিহাসক এডওয়ার্ড গীবন লিখিয়াছেনঃ ‘প্রত্যেক জাতির প্রতিষ্ঠাতার জীবন-চরিত দ্বারা তাঁহার লিখিত জ্ঞানসম্পদ পরিপূর্ণতা লাভ করে। হযতর মুহাম্মদের হাদীসসমূহ প্রকৃত সর্ত কথার পূর্ণাঙ্গ উপদেশ, তাঁহার কাজকর্ম, সততা ও নেক কাজের বাস্তব প্রতীক’।()
২. মিসরের ‘ওয়াতন’ পত্রিকায় জনৈক খৃষ্টান মনীষী লিখিয়াছেনঃ ‘মুসলিমগণ কুরআন ও হাদীস সম্পর্কে গবেষণা করিলে তাহাদের ধর্মীয় ও বৈষয়িক প্রয়োজন পূরণের সুব্যবস্থা তাহাতে পাইতে পরিবে।
৩. প্রসিদ্ধ রুশ দার্শনিক টলষ্টয় স্বীয় দেশ ও জাতির নৈতিক সংশোধনের জন্য হাদীসসমূহের এক সংকলন নিজ ভাষায় প্রকাশ করিয়াছিলেন।
()
৪. মুসলিমদের মধ্যে হাদীসের সূত্রে যেসব নৈতিক নিয়ম-কানুন প্রচলিত রহিয়াছে, হাইটিংগার উহার এক লা’চওড়া তালিকা প্রকাশ করিয়াছেন। তাঁহার দৃষ্টিতে মানুষকে কার্যত নেক কাজের দিকে আকৃষ্ট করার এবং পাপ হইতে বিরত রাখার এতদপেক্ষা উত্তম কর্মপ্রণালী আর কিছুই হইতে পারে না।()
৫. স্যার উহিলয়াম ম্যূর লিখিয়াছেনঃ
‘প্রাথমিক যুগে মুসলিমদের জন্য সর্বাপেক্ষা অধিক উত্তেজনাপূর্ণ কথাবার্তার বিষয়বস্তু সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তির কথা ও কাজ ছাড়া আর কি হইতে পারে। …………. এই শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিই এই বিশ্বজয়ী জাতির অস্তিত্ব ও উত্থান লাভের একমাত্র কারণ। তিনিই মুসলিমদের হস্তে ইহকাল ও পরকাল উভয়েরই কুঞ্জিকা সমর্পণ করিয়া দিয়াছিলেন। এই কারণে হযতর মুহাম্মদের অনুসারীদের মধ্যে বেশীর ভাগ কথাবার্তা তাঁহার সম্পর্কেই হইত। এইসব উপায় উপাদানের কারণে হাদীস বিজ্ঞান যথেষ্ট উন্নতি লাভ করিয়াছে। (Life of Muhammad)
রাসূলে করীমের কণ্ঠ নিঃসৃত বাণী, তাঁহার কার্যকলাপের বিবরণ এবং তাঁহার নিকট অনুমোদন প্রাপ্ত কোন কতা, কাজ বা আচরণকেই বলা হয় হাদীস। এই হাদীসের বিশ্বস্ততা ও অকাট্যতা স্বভাবতঃই নির্ভর করে সঠিক সময়ে ও নির্ভূল পদ্ধতিতে হাদীস সংকলিত হওয়ার উপর। আর অকাট্য যুক্তি ও প্রমাণের সাহায্যে একথা সুস্পষ্ট ও অনস্বীকার্য হইয়া উঠিয়াছে যে, পৃকৃত পক্ষে হাদীস রাসূলের জীবদ্দশায়ই রাসূলের হিদায়ত অনুযায়ীই লিপিবদ্ধ হইতে শুরু হইয়াছিল। ইলমে হাদীসের ইতিহাস অভিজ্ঞ কোন ব্যক্তিই ইহা অস্বীকার করিতে পারেন না। কিন্তু কোন কোন পাশ্চাত্য মনীষীর আচরণ এই ব্যাপারে নৈরাশ্যজনক। তারা হাদীসের প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে সঠিকরূপে অবহিত না হইয়ই এমন সব উক্তি করিয়াছেন, যাহার ফলে হাদীসের সঠিক সময়ে ও নির্ভরযোগ্য পদ্ধতিতে লিপিবদ্ধ ও সুরক্ষিত হওয়া সম্পর্কে অনভিজ্ঞ পাঠকদের মনে চরম বিভ্রান্তির সৃষ্টি হইতে পারে।
২. মিসরের ‘ওয়াতন’ পত্রিকায় জনৈক খৃষ্টান মনীষী লিখিয়াছেনঃ ‘মুসলিমগণ কুরআন ও হাদীস সম্পর্কে গবেষণা করিলে তাহাদের ধর্মীয় ও বৈষয়িক প্রয়োজন পূরণের সুব্যবস্থা তাহাতে পাইতে পরিবে।
৩. প্রসিদ্ধ রুশ দার্শনিক টলষ্টয় স্বীয় দেশ ও জাতির নৈতিক সংশোধনের জন্য হাদীসসমূহের এক সংকলন নিজ ভাষায় প্রকাশ করিয়াছিলেন।
()
৪. মুসলিমদের মধ্যে হাদীসের সূত্রে যেসব নৈতিক নিয়ম-কানুন প্রচলিত রহিয়াছে, হাইটিংগার উহার এক লা’চওড়া তালিকা প্রকাশ করিয়াছেন। তাঁহার দৃষ্টিতে মানুষকে কার্যত নেক কাজের দিকে আকৃষ্ট করার এবং পাপ হইতে বিরত রাখার এতদপেক্ষা উত্তম কর্মপ্রণালী আর কিছুই হইতে পারে না।()
৫. স্যার উহিলয়াম ম্যূর লিখিয়াছেনঃ
‘প্রাথমিক যুগে মুসলিমদের জন্য সর্বাপেক্ষা অধিক উত্তেজনাপূর্ণ কথাবার্তার বিষয়বস্তু সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তির কথা ও কাজ ছাড়া আর কি হইতে পারে। …………. এই শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিই এই বিশ্বজয়ী জাতির অস্তিত্ব ও উত্থান লাভের একমাত্র কারণ। তিনিই মুসলিমদের হস্তে ইহকাল ও পরকাল উভয়েরই কুঞ্জিকা সমর্পণ করিয়া দিয়াছিলেন। এই কারণে হযতর মুহাম্মদের অনুসারীদের মধ্যে বেশীর ভাগ কথাবার্তা তাঁহার সম্পর্কেই হইত। এইসব উপায় উপাদানের কারণে হাদীস বিজ্ঞান যথেষ্ট উন্নতি লাভ করিয়াছে। (Life of Muhammad)
রাসূলে করীমের কণ্ঠ নিঃসৃত বাণী, তাঁহার কার্যকলাপের বিবরণ এবং তাঁহার নিকট অনুমোদন প্রাপ্ত কোন কতা, কাজ বা আচরণকেই বলা হয় হাদীস। এই হাদীসের বিশ্বস্ততা ও অকাট্যতা স্বভাবতঃই নির্ভর করে সঠিক সময়ে ও নির্ভূল পদ্ধতিতে হাদীস সংকলিত হওয়ার উপর। আর অকাট্য যুক্তি ও প্রমাণের সাহায্যে একথা সুস্পষ্ট ও অনস্বীকার্য হইয়া উঠিয়াছে যে, পৃকৃত পক্ষে হাদীস রাসূলের জীবদ্দশায়ই রাসূলের হিদায়ত অনুযায়ীই লিপিবদ্ধ হইতে শুরু হইয়াছিল। ইলমে হাদীসের ইতিহাস অভিজ্ঞ কোন ব্যক্তিই ইহা অস্বীকার করিতে পারেন না। কিন্তু কোন কোন পাশ্চাত্য মনীষীর আচরণ এই ব্যাপারে নৈরাশ্যজনক। তারা হাদীসের প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে সঠিকরূপে অবহিত না হইয়ই এমন সব উক্তি করিয়াছেন, যাহার ফলে হাদীসের সঠিক সময়ে ও নির্ভরযোগ্য পদ্ধতিতে লিপিবদ্ধ ও সুরক্ষিত হওয়া সম্পর্কে অনভিজ্ঞ পাঠকদের মনে চরম বিভ্রান্তির সৃষ্টি হইতে পারে।