১
হাদীস সংকলনের ইতিহাস
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৩০
জামে তিরমিযী
ইমাম তিরমিযীর হাদীসগ্রন্হ ‘জামে তিরমিযী’ নামে খ্যাত। উহাকে ‘সুনান
ও বলা হয়। কিন্তু প্রথমোক্ত নামই অধিকাংশ হাদীসবিদ গ্রহণ করিয়াছেন।
ইমাম তিরমিযী তাঁহার গ্রন্হখানি ইমাম আবূ দাউদ ও ইমাম বুখারী অনুসৃত গ্রন্হ প্রণয়ন রীতি অনুযায়ী তৈয়ার করিয়াছেন। প্রথমত উহাতে ফিকাহর অনুরূপ অধ্যায় রচনা করা হইয়াছে। তাহাতে ব্যবহারিক প্রয়োজনসম্পন্ন হাদীসসমূহ সন্নিবেশিত করিয়াছেন। কিন্তু সমগ্র গ্রন্হখানি কেবল ব্যবহারিক প্রয়োজন সম্বলিত হাদীস দ্বারাই পূর্ণ করিয়া দেন নাই বরং সঙ্গে তিনি বুখারী শরীফের ন্যায় অন্যান্য অধ্যায়ের হাদীসও উহাতে সংযোজিত করিয়া দিয়াছেন। ফলে গ্রন্হখানি এক অপূর্ব সমন্বয়, এক ব্যাপকগ্রন্হে পরিণত হইয়াছে। এই কারণে উহার ‘জামে তিরমিযী নাম সার্থক হইয়াছে। বিভিন্ন বিষয়ে জরুরী হাদীস উহাতে সুন্দরভাবে সজ্জিত করিয়া দেওয়া হইয়াছে। এই কারণে হাফেজ আবূ জাফর ইবনে যুবাই ( মৃঃ ৭০৮ হিঃ) সিহাহ-সিত্তা সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে বলিয়াছেনঃ
ইমাম তিরমিযী বিভিন্ন বিষয়ের হাদীস একত্র করিয়া গ্রন্হখানি প্রণয়ন করায় যে বৈশিষ্ট্য লাভ করিয়াছেন, তাহাতে তিনি অবিসংবাদিত।
ইমাম তিরমিযী তাঁহার এই গ্রন্হ প্রণয়ন সমাপ্ত করিয়া তদানীন্তন মুসলিম জাহানের হাদীসবিদ লোকদের নিকট ইহা যাচাই করিবার জন্য পেশ করেন। এই সম্পর্কে তিনি নিজেই বলিয়াছেনঃ
আমি এই হাদীস সনদযুক্ত গ্রন্হখানি প্রণয়ন সম্পূর্ণ করিয়া উহাকে হিজাযের হাদীসবিদদের সমীপে পেশ করিলাম। তারা ইহা দেখিয়া খুবই পছন্দ করিলেন ও সন্তোষ প্রকাল করিলেনে। অতঃপর আমি উহাকে খুরাসানের হাদীসবিদদের খেদমতে পেশ করিলাম। তারাও ইহাকে অত্যন্ত পছন্দ করেন, সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ইমাম তিরমিযী তাঁহার এই গ্রন্হখানি সম্পর্কে নিজেই এক অতি বড় দাবি পেশ করিয়াছেন। তিনি বলিয়াছেনঃ
যাহার ঘরে এই কিতাবখানি থাকিবে, মনে করা যাইবে যে, তাঁহার ঘরে স্বয়ং নবী করীম (ﷺ) অবস্থান করিতেছেন ও নিজে কথা বলিতেছেন।
বস্তুত হাদীসগ্রন্হ-বিশেষত সহীহ হাদীসসমূহের কিতাবের ইহাই সঠিক মর্যাদা এবং ইহা কেবলমাত্র তিরমিযী শরীফ সম্পর্কেই সত্য নহে, সকল সহীহ হাদীসগ্রন্হ সম্পর্কেই একথা প্রযোজ্য ও অকাট্য সত্য।
তিরমিযী শরীফ সাধারণ পাঠকদের জন্য একখানি সুখপাঠ্য ও সহজ বোধ্য হাদীসগ্রন্হ। শায়খুল ইসলাম আল হাফেজ ইমাম আবূ ইসমাঈল আবদুল্লাহ আনসারী (মৃঃ ৪৮১ হিঃ) তিরমিযী শরীফ সম্পর্কে এক আলোচনা প্রসঙ্গে বলিয়াছেনঃ
আমার দৃষ্টিতে তিরমিযী শরীফ বুখারী ও মুসলিম গ্রন্হদ্বয় অপেক্ষা অধিক ব্যবহারোপযোগী। কেননা বুখারী ও মুসলিম এমন হাদীসগ্রন্হ যে, কেবলমাত্র বিশেষ পারদর্শী আলেম ভিন্ন অপর কেহই তাহা হইতে ফায়দা লাভ করিতে সমর্থ হয় না। কিন্তু ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযীর গ্রন্হ হইতে যে কেহ ফায়দা গ্রহণ করিতে পারে।
ইমাম তিরমিযী হইতে তাঁহার এই গ্রন্হখানি যদিও শ্রবণ করিয়াছেন বহু সংখ্যক লোক; কিন্তু উহার বর্ণনা পরম্পরা অব্যহত ও ধারাবাহিকভাবে চলিয়াছে মোট ছয়জন বড় বড় মুহাদ্দিস হইতে।
উপরে মোট পাঁচখানি প্রধান হাদীসগ্রন্হ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা পেশ করা হইয়াছে। বিশ্বের হাদীসবিদ বড় বড় আলেমগণ এই পাঁচখানি হাদীসগ্রন্হের শ্রেষ্ঠত্ব ও বিশিষ্টতা অকপটে ও উদাত্ত কণ্ঠে ঘোষণা করিয়াছেন এবং এই পর্যায়ে কাহারো কোন মতভেদ দেখা দেয় নাই। হাফেজ আবূ তাহের সলফী (মৃঃ ৫৭৬ হিঃ) বলিয়াছেনঃ
প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের সকল হাদীসবিদ আলিমগণ এই পাঁচখানি গ্রন্হের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ একমত।
ও বলা হয়। কিন্তু প্রথমোক্ত নামই অধিকাংশ হাদীসবিদ গ্রহণ করিয়াছেন।
ইমাম তিরমিযী তাঁহার গ্রন্হখানি ইমাম আবূ দাউদ ও ইমাম বুখারী অনুসৃত গ্রন্হ প্রণয়ন রীতি অনুযায়ী তৈয়ার করিয়াছেন। প্রথমত উহাতে ফিকাহর অনুরূপ অধ্যায় রচনা করা হইয়াছে। তাহাতে ব্যবহারিক প্রয়োজনসম্পন্ন হাদীসসমূহ সন্নিবেশিত করিয়াছেন। কিন্তু সমগ্র গ্রন্হখানি কেবল ব্যবহারিক প্রয়োজন সম্বলিত হাদীস দ্বারাই পূর্ণ করিয়া দেন নাই বরং সঙ্গে তিনি বুখারী শরীফের ন্যায় অন্যান্য অধ্যায়ের হাদীসও উহাতে সংযোজিত করিয়া দিয়াছেন। ফলে গ্রন্হখানি এক অপূর্ব সমন্বয়, এক ব্যাপকগ্রন্হে পরিণত হইয়াছে। এই কারণে উহার ‘জামে তিরমিযী নাম সার্থক হইয়াছে। বিভিন্ন বিষয়ে জরুরী হাদীস উহাতে সুন্দরভাবে সজ্জিত করিয়া দেওয়া হইয়াছে। এই কারণে হাফেজ আবূ জাফর ইবনে যুবাই ( মৃঃ ৭০৮ হিঃ) সিহাহ-সিত্তা সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে বলিয়াছেনঃ
ইমাম তিরমিযী বিভিন্ন বিষয়ের হাদীস একত্র করিয়া গ্রন্হখানি প্রণয়ন করায় যে বৈশিষ্ট্য লাভ করিয়াছেন, তাহাতে তিনি অবিসংবাদিত।
ইমাম তিরমিযী তাঁহার এই গ্রন্হ প্রণয়ন সমাপ্ত করিয়া তদানীন্তন মুসলিম জাহানের হাদীসবিদ লোকদের নিকট ইহা যাচাই করিবার জন্য পেশ করেন। এই সম্পর্কে তিনি নিজেই বলিয়াছেনঃ
আমি এই হাদীস সনদযুক্ত গ্রন্হখানি প্রণয়ন সম্পূর্ণ করিয়া উহাকে হিজাযের হাদীসবিদদের সমীপে পেশ করিলাম। তারা ইহা দেখিয়া খুবই পছন্দ করিলেন ও সন্তোষ প্রকাল করিলেনে। অতঃপর আমি উহাকে খুরাসানের হাদীসবিদদের খেদমতে পেশ করিলাম। তারাও ইহাকে অত্যন্ত পছন্দ করেন, সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ইমাম তিরমিযী তাঁহার এই গ্রন্হখানি সম্পর্কে নিজেই এক অতি বড় দাবি পেশ করিয়াছেন। তিনি বলিয়াছেনঃ
যাহার ঘরে এই কিতাবখানি থাকিবে, মনে করা যাইবে যে, তাঁহার ঘরে স্বয়ং নবী করীম (ﷺ) অবস্থান করিতেছেন ও নিজে কথা বলিতেছেন।
বস্তুত হাদীসগ্রন্হ-বিশেষত সহীহ হাদীসসমূহের কিতাবের ইহাই সঠিক মর্যাদা এবং ইহা কেবলমাত্র তিরমিযী শরীফ সম্পর্কেই সত্য নহে, সকল সহীহ হাদীসগ্রন্হ সম্পর্কেই একথা প্রযোজ্য ও অকাট্য সত্য।
তিরমিযী শরীফ সাধারণ পাঠকদের জন্য একখানি সুখপাঠ্য ও সহজ বোধ্য হাদীসগ্রন্হ। শায়খুল ইসলাম আল হাফেজ ইমাম আবূ ইসমাঈল আবদুল্লাহ আনসারী (মৃঃ ৪৮১ হিঃ) তিরমিযী শরীফ সম্পর্কে এক আলোচনা প্রসঙ্গে বলিয়াছেনঃ
আমার দৃষ্টিতে তিরমিযী শরীফ বুখারী ও মুসলিম গ্রন্হদ্বয় অপেক্ষা অধিক ব্যবহারোপযোগী। কেননা বুখারী ও মুসলিম এমন হাদীসগ্রন্হ যে, কেবলমাত্র বিশেষ পারদর্শী আলেম ভিন্ন অপর কেহই তাহা হইতে ফায়দা লাভ করিতে সমর্থ হয় না। কিন্তু ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযীর গ্রন্হ হইতে যে কেহ ফায়দা গ্রহণ করিতে পারে।
ইমাম তিরমিযী হইতে তাঁহার এই গ্রন্হখানি যদিও শ্রবণ করিয়াছেন বহু সংখ্যক লোক; কিন্তু উহার বর্ণনা পরম্পরা অব্যহত ও ধারাবাহিকভাবে চলিয়াছে মোট ছয়জন বড় বড় মুহাদ্দিস হইতে।
উপরে মোট পাঁচখানি প্রধান হাদীসগ্রন্হ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা পেশ করা হইয়াছে। বিশ্বের হাদীসবিদ বড় বড় আলেমগণ এই পাঁচখানি হাদীসগ্রন্হের শ্রেষ্ঠত্ব ও বিশিষ্টতা অকপটে ও উদাত্ত কণ্ঠে ঘোষণা করিয়াছেন এবং এই পর্যায়ে কাহারো কোন মতভেদ দেখা দেয় নাই। হাফেজ আবূ তাহের সলফী (মৃঃ ৫৭৬ হিঃ) বলিয়াছেনঃ
প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের সকল হাদীসবিদ আলিমগণ এই পাঁচখানি গ্রন্হের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ একমত।