১
হাদীস সংকলনের ইতিহাস
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৫৫
হাদীস সমালোচনা বিজ্ঞানের উৎপত্তি
উপরে যে হাদীস জালকরণ সম্পর্কে আলোচনা করা হইয়াছে, উহারই প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে এক স্বতন্ত্র হাদীস-বিজ্ঞান রচিত হয়। উহাকে (
) –‘হাদীস জালকারণ সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জন করা’ বলা হয়। এই জ্ঞানের সংজ্ঞা দান প্রসঙ্গে নওয়াব সিদ্দীক হাসান লিখিয়াছেনঃ
হাদীস জালকরণ সম্পর্কিত ইলম এমন এক প্রকারের বিজ্ঞান, যাহা দ্বারা কোন হাদীসটি জাল এবং কোনটি প্রমাণিত-প্রতিষ্ঠিত তাহা জানিতে ও চিনিতে পারা যায় এবং উহা দ্বারা জালকারীর অবস্থাও জানা যায় যে, সে উহা সত্য বলিয়াছে, না মিথ্যা। এই বিশেষ জ্ঞানের উদ্দেশ্য হইতেছে সত্য ও মিথ্যা হাদীস এবং সত্য বর্ণনাকারী ও মিথ্যা বর্ণনাকারীর মধ্যস্থিত পার্থক্য বুঝিবার প্রতিভা ও যোগ্যতা অর্জন। এই জ্ঞানের লক্ষ্য ও ফায়দা এই যে, ইহার সাহায্যে এই ধরনের মিথ্যা ও জাল হাদীস হইতে আত্মরক্ষা করা সম্ভব হয়। অথবা হাদীসটি বর্ণনা করার সঙ্গে সঙ্গে উহা যে জাল তাহাও বলিয়া দেওয়া সম্ভব হয়। হাদীসের ক্ষেত্রে ইহা অত্যন্ত জরুরী ও প্রয়োজনীয় জ্ঞান। কেননা নবী করীম (ﷺ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি আমার প্রতি কোন মিথ্যা কথা আরোপ করে, যেন জাহান্নামে তাহার আশ্রয় বানাইয়া লয়।
এইরূপ জ্ঞানের উৎপত্তি হওয়ার ফলে সকল প্রকার জাল হাদীস হএত মুসলিম সমাজকে রক্ষা করা সম্ভব হইয়াছে। এই পর্যায়ে হাদীসজ্ঞান সম্পর্কে পারদর্শী মনীষিগণ অভাবিতপূর্ব ও অতি প্রয়োজনীয় এবং বিস্ময়কর প্রতিভার পরিচয় দান করিয়াছেন। মনীষিগণ এমন অনেক নীতিগত (theoritical) নিয়ম-নীতি রচনা করিয়া দিয়াছেন, যাহার সাহায্যে মওজু বা জাল হাদীস অতি সহজেই চিনিতে পারা যায়। এইজন্যই তারা কতকগুলি লক্ষণ ও চিহ্নিত করিয়া দিয়াছেন। সেই সব লক্ষণ যে সব হাদসে পরিলক্ষিত হইবে, সে সবের জাল হওয়া সম্পকে আর কোন সন্দেহের অবকাশ থাকিবে না।
আর দ্বিতীয়পন্হা হইতেছে practical- ব্যবহারিক ও বাস্তবঃ এই পর্যায়ে তারা হাদীস জালকরণে অভ্যস্ত লোকদের বিস্তারিত পরিচয় জনসমক্ষে পেশ করিয়া দিয়াছেন। জনগণের সহিত তাহাদিগকে সবিস্তারে পরিচিত করিয়া দেওয়া হইয়াছে এবং তাহাদের মনগড়াভাবে রচিত ও মিথ্যা-মিথ্যি প্রচারিত ‘হাদীসসমূহ’ও সকলের সম্মুখে উপস্থাপিত করা হইয়াছে।
মনীষিগণ এই পর্যায়ে বহুসংখ্যক মূল্যবান গ্রন্হ প্রণয়ন করিয়াছিলেন। এই গ্রন্হাবলী ‘কিতাবুল মওজুয়াত’ নামেই পরিচিত। একদিকে যেমন রাসূলে করীম (ﷺ)-এর প্রকৃত হাদীসসমূহ সহীহ, জামে, সুনান ও মুসনাদ প্রভৃতি ধরনের হাদীস গ্রন্হাবলীতে সন্নিবদ্ধ ও সুসংকলিত হইয়াছে, অপরদিকে তেমনি মিথ্যা ও রচিত হাদীসসমূহ হাদীসবিদ আলিমের নিকট স্পষ্ট হইয়া গিয়াছে। ফলে প্রকৃত হাদীস ও উহার মর্যাদা জানিয়া লওয়া উহা ‘সহীহ’ কিংবা ‘হাসান’ বা যয়ীফ কিংবা মওজু তাহা চিনিতে পারা খুবই সহজ হইয়া পড়িয়াছে। হাদীস-বিজ্ঞানীদের এই অবদান ইসলামী জ্ঞান-চর্চার ইতিহাসে চির উজ্জ্বল হইয়া থাকিবে।
) –‘হাদীস জালকারণ সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জন করা’ বলা হয়। এই জ্ঞানের সংজ্ঞা দান প্রসঙ্গে নওয়াব সিদ্দীক হাসান লিখিয়াছেনঃ
হাদীস জালকরণ সম্পর্কিত ইলম এমন এক প্রকারের বিজ্ঞান, যাহা দ্বারা কোন হাদীসটি জাল এবং কোনটি প্রমাণিত-প্রতিষ্ঠিত তাহা জানিতে ও চিনিতে পারা যায় এবং উহা দ্বারা জালকারীর অবস্থাও জানা যায় যে, সে উহা সত্য বলিয়াছে, না মিথ্যা। এই বিশেষ জ্ঞানের উদ্দেশ্য হইতেছে সত্য ও মিথ্যা হাদীস এবং সত্য বর্ণনাকারী ও মিথ্যা বর্ণনাকারীর মধ্যস্থিত পার্থক্য বুঝিবার প্রতিভা ও যোগ্যতা অর্জন। এই জ্ঞানের লক্ষ্য ও ফায়দা এই যে, ইহার সাহায্যে এই ধরনের মিথ্যা ও জাল হাদীস হইতে আত্মরক্ষা করা সম্ভব হয়। অথবা হাদীসটি বর্ণনা করার সঙ্গে সঙ্গে উহা যে জাল তাহাও বলিয়া দেওয়া সম্ভব হয়। হাদীসের ক্ষেত্রে ইহা অত্যন্ত জরুরী ও প্রয়োজনীয় জ্ঞান। কেননা নবী করীম (ﷺ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি আমার প্রতি কোন মিথ্যা কথা আরোপ করে, যেন জাহান্নামে তাহার আশ্রয় বানাইয়া লয়।
এইরূপ জ্ঞানের উৎপত্তি হওয়ার ফলে সকল প্রকার জাল হাদীস হএত মুসলিম সমাজকে রক্ষা করা সম্ভব হইয়াছে। এই পর্যায়ে হাদীসজ্ঞান সম্পর্কে পারদর্শী মনীষিগণ অভাবিতপূর্ব ও অতি প্রয়োজনীয় এবং বিস্ময়কর প্রতিভার পরিচয় দান করিয়াছেন। মনীষিগণ এমন অনেক নীতিগত (theoritical) নিয়ম-নীতি রচনা করিয়া দিয়াছেন, যাহার সাহায্যে মওজু বা জাল হাদীস অতি সহজেই চিনিতে পারা যায়। এইজন্যই তারা কতকগুলি লক্ষণ ও চিহ্নিত করিয়া দিয়াছেন। সেই সব লক্ষণ যে সব হাদসে পরিলক্ষিত হইবে, সে সবের জাল হওয়া সম্পকে আর কোন সন্দেহের অবকাশ থাকিবে না।
আর দ্বিতীয়পন্হা হইতেছে practical- ব্যবহারিক ও বাস্তবঃ এই পর্যায়ে তারা হাদীস জালকরণে অভ্যস্ত লোকদের বিস্তারিত পরিচয় জনসমক্ষে পেশ করিয়া দিয়াছেন। জনগণের সহিত তাহাদিগকে সবিস্তারে পরিচিত করিয়া দেওয়া হইয়াছে এবং তাহাদের মনগড়াভাবে রচিত ও মিথ্যা-মিথ্যি প্রচারিত ‘হাদীসসমূহ’ও সকলের সম্মুখে উপস্থাপিত করা হইয়াছে।
মনীষিগণ এই পর্যায়ে বহুসংখ্যক মূল্যবান গ্রন্হ প্রণয়ন করিয়াছিলেন। এই গ্রন্হাবলী ‘কিতাবুল মওজুয়াত’ নামেই পরিচিত। একদিকে যেমন রাসূলে করীম (ﷺ)-এর প্রকৃত হাদীসসমূহ সহীহ, জামে, সুনান ও মুসনাদ প্রভৃতি ধরনের হাদীস গ্রন্হাবলীতে সন্নিবদ্ধ ও সুসংকলিত হইয়াছে, অপরদিকে তেমনি মিথ্যা ও রচিত হাদীসসমূহ হাদীসবিদ আলিমের নিকট স্পষ্ট হইয়া গিয়াছে। ফলে প্রকৃত হাদীস ও উহার মর্যাদা জানিয়া লওয়া উহা ‘সহীহ’ কিংবা ‘হাসান’ বা যয়ীফ কিংবা মওজু তাহা চিনিতে পারা খুবই সহজ হইয়া পড়িয়াছে। হাদীস-বিজ্ঞানীদের এই অবদান ইসলামী জ্ঞান-চর্চার ইতিহাসে চির উজ্জ্বল হইয়া থাকিবে।