hadith book logo

হাদীস সংকলনের ইতিহাস

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২১

ইমাম নাসায়ী (র)

ইমাম নাসায়ী (র)-এর পূর্ণ নাম আবদুর রহমান আমদ ইবনে শুয়াইব ইবনে আলী ইবনে বাহর ইবনে মান্নান ইবনে দীনার আন-নাসায়ী। খুরাসান অন্তঃপাতী নাসা নামক শহরে ২১৫ হিজরী সনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

ইমাম নাসায়ী (র) হাদীসরে বড় হাফেজ ছিলেন। হাদীস শিক্ষা ও সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি পনের বৎসর বয়সেই বিদেশ সফরে গমন করেন। প্রথমে তিনি কুতাইবা ইবনে সায়ীদুল বালখীর নিকট উপস্থিত হন এবং এক বৎসর দই মাস কাল তথায় অবস্থান করিয়া তাঁহার নিকট হইতে হাদীস শিক্ষা ও সংগ্রহ করেন। অতঃপর তিনি মিসর গমন করেন। মিসরে তিনি দীর্ঘকাল অবস্থান করেন। এই সময়ের মধ্যেই তিনি কয়েকখানি গ্রন্হ প্রণয়ন সমাপ্ত করেন। এই গ্রন্হসমূহ জনগনের মধ্যে বিশেষ খ্যাতি লাভ করে। লোকেরা তাঁহার নিকট হইতে এই সময়ই হাদীস শ্রবণ করিতে শুরু করে।

মিসর হইতে বাহির হইয়া ৩০২ হিজরী সনে তিনি দামেশক উপস্থিত হন। এখানে তিনি হযরত আলী ও খান্দানের রাসুলের প্রশংসামূলক গ্রন্হ রচনা সমাপ্ত করেন। তিনি দেখিতে পাইয়াছিলেন যে, উমাইয়া বংশের শাসন-প্রভাবে জনগণ হযরত আলী (রা) ও রাসূল (ﷺ)-এর খান্দানের প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করিতে শুরু করিয়াছেন। তিনি এই প্রবণতা দূরীভূতকরণ কিংবা উহার প্রচণ্ডতা হ্রাস করার উদ্দেশ্যে দামেখকের জামে মসজিদে তিনি উহা পাঠ করিতে শুরু করিলে এক ব্যক্তি উঠিয়া জিজ্ঞাসা করিলঃ আপনি মুয়াবিয়ার প্রশংসাসূচক কিছু লিখিয়াছেন কি? ইমাম নাসায়ী বলিলেনঃ ‘মুয়াবিয়া সমান সমানে নিষ্কৃতি পাইলেই তাঁহার পক্ষে যথেষ্ট। তাঁহার প্রশংসা করার কি আছে?

এই কথা বলা সঙ্গে সঙ্গে চারিদিকে হইতে আওয়াজ উঠিলঃ ‘এই লোক শিয়া, এই লোক শিয়া’। এই বলিয়া তাঁহাকে বেদম প্রহার করিতে থাকে। ইহাতে ইমাম নাসায়ী মারাত্মক আহত ও কাতর হইয়া পড়েন। তিনি বলিলেনঃ আমাকে তোমরা মক্কা শরীফ পৌঁছাইয়া দাও, যেন শেষ নিঃশ্বাস সেখানেই ত্যাগ করিতে পারি। তাঁহাকে মক্কায় পৌঁছানো হইলে তিনি তথায় হিঃ ৩০৩ সনে ৮৯ বৎসর বয়সে ইন্তেকাল করেন এবং সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী স্থানে তাঁহাকে দাফন করা হয়।

ইমাম নাসায়ী হাদীস ও ইলমে হাদীস সম্পর্কিত বিষয়ে বহু মুল্যবান গ্রন্হ প্রণয়ন করিয়াছেন। ‘সুনানে কুবরা’ ও ‘সুনানে সুগনা’- যাহাকে ‘আল মুজতাবা’ও বলা হয়- প্রভৃতি তাঁহার প্রসিদ্ধ গ্রন্হ।